kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি

সিএমজেএফ ও বিএমবিএর বাজেট আলোচনায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। তাই শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছেন এই খাতসংশ্লিষ্টরা। তার মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির কর কমানো, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার কমানো, মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কম্পানি তালিকাভুক্তি, বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং নতুন নতুন পণ্য চালু। বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজার উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। একই সঙ্গে বাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

বাজেট নিয়ে গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. হাসান ইমাম, বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান এবং সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল। সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাপনী বক্তব্য দেন বিএমবিএর সিনিয়র সহসভাপতি শুক্লা দাস।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরেছে। লেনদেন ও বাজার মূলধন বেড়েছে অনেক গুণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বলেছে, সারা বিশ্বের মধ্যে ‘বেস্ট পারফর্মিং’ শেয়ারবাজার বাংলাদেশে। এক বছর ধরে শেয়ারবাজারে নতুন ধরন দেখছি। সব মিলিয়ে শেয়ারবাজার ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে বলে মনে করছি। বিএসইসি ফ্লোরপ্রাইস (শেয়ার মূল্যে নিম্ন সীমা) তুলে দিয়েছে। এটি ইতিবাচক।’

সালমান রহমান আরো বলেন, ‘আজকের আলোচনায় চূড়ান্ত বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহার ব্যবধান বাড়ানো, লভ্যাংশে দ্বৈত করহার প্রত্যাহার, মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার কমানো, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগসহ যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলোর পেছনে যুক্তি আছে। বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কিছু পরিবর্তন আসবে।’

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, “বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত। এবারের বাজেট ‘মেড ইন বাংলাদেশ বাজেট’। এটি পুঁজিবাজারের জন্যও ইতিবাচক। কমিশন ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের অবদান বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে কমিশন।”

ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বিবর্তন দরকার। এ জন্য নতুন প্রডাক্ট আনা ও কৌশল নিতে হবে। আমাদের ইক্যুইটি মার্কেটের বাইরে গিয়ে বিবর্তন আনতে হবে। এ লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে শেয়ারবাজারকে কাজে লাগাতে হবে।’

ছায়েদুর রহমান বলেন, তালিকাভুক্ত কম্পানির পাশাপাশি অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহার ২.৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু একটি তালিকাভুক্ত কম্পানির বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলার কারণে ব্যয় অনেক বেশি হয়। যে কারণে ভালো মুনাফা করা বৃহৎ কম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হতে চাইবে না। এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহার ব্যবধান ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রোকার হাউসের লেনদেনে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর নেওয়া যৌক্তিক নয়। উৎস করের হার ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা