kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

‘কভিড উপসর্গে’র রোগী বাড়ছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, মাগুরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের কয়েক জেলায় জ্বরসহ সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে। অনেকেই জ্বরে ভুগছে সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত। একে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা মৌসুমি অসুখ ভেবে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করাচ্ছে বেশির ভাগ মানুষ। করোনার পরীক্ষা করানোয় তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গতকাল সোমবার থেকে মাগুরা জেলা শহরকে কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনের আওতায় এনেছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনই ভ্রাম্যমাণ মাস্ক না পরাসহ লকডাউনের বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকজনকে আর্থিক দণ্ড দিয়েছেন। গত রবিবার জেলায় ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

তবে খুব জটিল পর্যায়ে না গেলে মানুষ করোনার নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। মাগুরা সিভিল সার্জন শহিদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, স্থাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু অনেকে জ্বর, সর্দি, কাশিকে এখনো মৌসুমি অসুখ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

গতকাল মাগুরা সদর উপজেলার বুজরুকশ্রীকুণ্ডী ও পুখুরিয়া গ্রামে গিয়ে অন্তত ১০টি বাড়িতে জ্বরের রোগী পাওয়া গেছে। তারা প্রত্যেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। কেউ করোনা পরীক্ষা করায়নি।

বুজরুকশ্রীকুণ্ডী গ্রামে অবস্থিত চাউলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ শহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রায়ই জ্বরাক্রান্ত রোগী আসছে। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিচ্ছি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে করোনার নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। এলাকায় এখনো করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। তবে করোনা সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি।’

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘করোনার নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে জেলায় কোনো ধরনের সংকট নেই। আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে লকডাউনের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিধি-নিষেধ আরো কঠোর করা হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অধিক নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ করোনা টিম চালু হলেও এতে সাড়া কম। যদিও জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভোগা রোগীর সংখ্যার বাড়ছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর দেশের করোনায় আক্রান্ত জেলাগুলোর শীর্ষে ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শনাক্তের হার ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। দু্ই দফা কঠোর লকডাউনে সংক্রমণের হার কমেছে। আমের মৌসুমের জন্য তৃতীয় ধাপে চলাচলে ১০টি শর্তারোপ করে লকডাউন তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে চারদিক থেকে অনেক মানুষের জ্বরসহ সর্দি-কাশিতে ভোগার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান বলেন, ভ্রাম্যমাণ চারটি টিমে ২৪০ জনের উপসর্গ নেওয়া হয়েছে। এতে পজিটিভ এসেছে ২৫ জনের।

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল বলেন, বর্তমানে জেলায় সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। তিনি এও বলেন, গ্রামের দরিদ্র মানুষের এক ধরনের ভীতি রয়েছে যে ফল পজিটিভ এলে ১৪ দিনের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা উপজেলায়ও জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগী হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাদের মধ্যে এসব উপসর্গ নিয়ে অনেকের ভীতি থাকলেও করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, গতকাল উপজেলায় ১১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৪৫১ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ইদানীং বিপুলসংখ্যক মানুষ আসছে বলে জানিয়েছেন বাগআঁচড়ার ডা. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথার উপসর্গ নিয়ে আসা সন্দেহজনক রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং যশোর সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)