kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ওয়ার্ডে যাচ্ছেন না চিকিৎসক ভোগান্তিতে রোগী

রামেকে করোনা আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত মারা গেছে চারজন, যা এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৫ জন। এদিকে আতঙ্কে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসক না যাওয়ায় এবং অক্সিজেন সংকটে চিকিৎসাধীন রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীরই আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু এই হাসপাতালে অর্ধেক রোগীও সেই সাপোর্ট পাচ্ছে না।

রামেক হাসপাতাল সূত্র বলছে, গতকাল শনিবার পর্যন্ত এই হাসপাতালের আইসিইউর ১৮টি শয্যার সবগুলোয় রোগী রয়েছেন। এসব শয্যার জন্য অপেক্ষায় আছেন অন্তত ৭০ জন রোগী। আর করোনা ইউনিটের ২৭১টি শয্যায় গতকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ২৮৯ জন রোগী। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন। অন্য তিনজনের বাড়ি রাজশাহী।

হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আকবর আলী বলেন, ওয়ার্ডে চিকিৎসকরা প্রায় আসছেনই না। রোগীর সমস্যা নার্সকে বললে নার্স চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে সেটি জানিয়ে আসছেন। এরপর রোগীর ওষুধ বা অন্য কিছু লিখে দেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো কখনো চিকিৎসক পাওয়াই যাচ্ছে না। করোনা আতঙ্কে চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে যাচ্ছেন না। নার্সরাও রোগীর সেবা করছেন না। রোগীর স্বজনরাই যা পারছে করছে।

আরেক রোগীর স্বজন নাজমুল হোসেন বলেন, করোনা রোগীর সঙ্গে থেকে স্বজনরাও মারাত্মক ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট নিয়ে স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন মাইনুল হাসান বলেন, মেঝেতে চিকিৎসাধীন রোগীকে অক্সিজেন দিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। আবার অনেক বেডেও অক্সিজেন নাই। ফলে ইউনিটজুড়েই বিরাজ করছে অক্সিজেন সংকট। কেউ কেউ বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে নিয়ে আসছেন। যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই তাঁরা মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, গতকাল সকালে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৮৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ১৮ শয্যায় ছিলেন ১৮ জন। বাকিরা আছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে। হাসপাতালে করোনা ইউনিটে মোট শয্যার সংখ্যা ২৭১। বর্তমানে ২৮৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। আর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৩ জন। হাসপাতালে বর্তমানে রাজশাহীর ১২২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১২০ জন, নাটোরের ১৪ জন, নওগাঁর ২৪ জন, পাবনার পাঁচজন এবং কুষ্টিয়ার একজন রোগী ভর্তি আছেন। ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীর ১৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আটজন, নাটোরের দুজন ও পাবনার একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

নাটোর সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী 

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ৩১ শয্যার একটি করোনা ইউনিট চালু করা হলেও গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত রোগী ছিল ৩৮ জন। করোনা ওয়ার্ডে রোগীর ধারণক্ষমতা না থাকায় আউটডোরে রোগী রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় জটিল রোগীদের রাজশাহী বা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ১৫ লিটার অক্সিজেন ধারণক্ষমতার ক্যানুলা অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম চালু করা হলেও অক্সিজেন টারবাইন প্লান্ট স্থাপন করা হয়নি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যার একটি ফ্লোরে আরো ২০টি বেড স্থাপনের চেষ্টা চলছে। কোনো করোনা রোগী যেন চিকিৎসাহীন না থাকে, সে জন্য এই ব্যবস্থা। আশা করা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে সেটি চালু করা সম্ভব হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে আইসিইউ না থাকায় অনেক করোনা রোগীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা