kalerkantho

শনিবার । ৮ মাঘ ১৪২৮। ২২ জানুয়ারি ২০২২। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পথের কাঁটা সরাতেই সুমনকে হত্যা করেন স্ত্রী ও প্রেমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৩১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরের কাশিমপুরে পরিত্যক্ত কুয়া থেকে গত ২১ এপ্রিল উদ্ধার হাত, পা ও মাথাবিহীন লাশটি সুমন মোল্লার। পথের কাঁটা সরাতেই স্ত্রী আরিফা বেগম ও তাঁর প্রেমিক তনয় সরকার মিলে সুমনকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরা করে কিছু সারদাগঞ্জের হাজি মার্কেটের পাশে কুয়ার ভেতর এবং বাকি অংশ দুই কিলোমিটার দূরে তেঁতুইবাড়ি এলাকার ময়লার স্তূপে ফেলে দেন। গত শনিবার আরিফা ও তনয়কে গ্রেপ্তারের পর হত্যারহস্য উদঘাটন করে কাশিমপুর থানা পুলিশ। গতকাল রবিবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. জাকির হাসান।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমন মোল্লা (২৮) বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার গোলা বরননী গ্রামের মো. জাফর মোল্লার ছেলে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি কাশিমপুরের সারদাগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরিফা (২৪) দিনাজপুরের চিরিবন্দর থানার নারায়ণপুর গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিক তনয় সরকার (৩১) ফরিদপুরের মধুখালী থানার নরকোনা গ্রামের আদিত্য সরকারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আরিফা ও তনয় কাশিমপুরের স্কয়ার টেক্সটাইলে চাকরি করেন। দেড় বছর আগে আরিফাকে বিয়ে করেন সুমন। এটি ছিল আরিফার দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে আরিফার এক মেয়ে রয়েছে। তবে বিয়ের আগেই আরিফার সঙ্গে তনয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তনয়ও বিবাহিত। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সারদাগঞ্জে ভাড়া থাকতেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হাসান বলেন, সুমন হত্যায় আরিফা ও তনয়ের প্রতিটি ধাপ ছিল পেশাদার খুনিদের চেয়েও নিখুঁত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল রাতে খাবারের সঙ্গে ১০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামী সুমনকে খেতে দেন স্ত্রী আরিফা। সুমন অচেতন হয়ে পড়লে ঘরে ঢোকেন তনয়। এরপর দুজন মিলে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ খাটের নিচে রেখে দেন। পরদিন হাত করাত দিয়ে মাথা ও হাত-পা কেটে আলাদা করে দেহের মূল অংশ কুয়ায় ফেলে দেন। আর মাথা ও হাত-পা ব্যাগে ভরে দুই কিলোমিটার দূরে ময়লার স্তূপে ফেলে দেন।

২১ এপ্রিল মাথা ও হাত-পাবিহীন লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত এবং দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য তৎপর হয় পুলিশ। শ্রমিক অধ্যুষিত এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ‘কারা বাসা বদল করছে’ সেদিকে নজর রাখতে শুরু করে পুলিশ। সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে আরিফা বাসা বদল করে বোনের বাসায় উঠেছেন। আগের বাসা ছাড়ার আগে প্রতিবেশীদের বলে গেছেন তাঁর স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। একই কথা তিনি শ্বশুর-শাশুড়িকেও ফোনে জানান।



সাতদিনের সেরা