kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৫ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত রবিবার রাতে ও রাজশাহীর বাঘায় সোমবার রাতে দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুন্দরগঞ্জের বিধবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আর বাঘার গৃহবধূকে বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অস্ত্র ধরে নির্যাতন করা হয়। বিধবাকে এর আগে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছিলেন অভিযুক্ত ছয়জন। এ দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালিরখামার গ্রামের তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিচে নির্যাতিত বিধবা গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি সোমবার রাতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের প্রগ্রাম অফিসার মো. রুহুল আমিন সরকারের মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পরে কালিরখামার গ্রামের আসামি খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ওই নারী স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একাই বাড়িতে থাকছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের খোরশেদ আলম, খুসু মিয়া, আনারুল ইসলাম, লান্টু মিয়া, ইতি মিয়া ও সাহাব উদ্দিন তাঁকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে সেটি দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিস বৈঠকও হয়। হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী জানান, তিনি সাহির করতে উঠলে ওই ছয় যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে হাত-পা বেঁধে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরের দিন সকালে স্থানীয়রা তাঁকে বিবস্ত্র ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযোগ পাওয়ার পর সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা নেন।

কঞ্চিবাড়ী তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান গতকাল জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, রোগীর চিকিৎসা চলছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সব নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাঘায় গতকাল সকালে গ্রেপ্তার সুরুজ মালিথা (৩৬) উপজেলার কলিগ্রাম এলাকার রুবান মালিথার ছেলে। অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন একই এলাকার এলু মালিথার ছেলে ঝুন্টু মালিথা (৩৫) ও গুলমাল প্রামাণিকের ছেলে রুজদার (৪২)। এ ঘটনায় সকালেই ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাঘা থানায় একটি মামলা করেন। গৃহবধূর বরাত দিয়ে বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, কলিগ্রামের এক দিনমজুর ২৯ এপ্রিল ধান কাটা কাজের জন্য নাটোরে যান। সেই থেকে তাঁর স্ত্রী বাড়িতে একাই থাকতেন। সোমবার দিবাগত রাতে ঝুন্টু মালিথা, সুরুজ মালিথা ও রুজদার বাড়ির প্রধান টিনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় শব্দ শুনে ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হন দিনমজুরের স্ত্রী। তখনই ওই তিনজন তাঁকে ধারালো হাঁসুয়া এবং চাকুর মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন।

ওসি বলেন, অভিযুক্ত অন্য দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা