kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

৫১ হাজার হেক্টরের ধান চিটা

১১ জেলায় বোরো ক্ষেতে গরম বাতাস ও ব্লাস্টের থাবা

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৫১ হাজার হেক্টরের ধান চিটা

গরম বাতাসে ধান চিটা হয়ে গেছে। কিষান-কিষানি মিলে চিটা ধান তুলে ফেলছেন। ছবিটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার খয়রত গ্রামের। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত একেবারে কম। সব সময় থেকেছে তীব্র রোদ। তাপমাত্রাও বেশি। এরই মধ্যে গত ৪ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর সঙ্গে গরম বাতাস বয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হয়। এতে অনেক এলাকার বোরো ধানের শীষ থেকে পানি বেরিয়ে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কোথাও দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। ১১ জেলায় প্রায় ৫১ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের বরাত দিয়ে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাত লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৩ টন। এর মধ্যে গরম হাওয়ায় সাত হাজার ৪৪৪ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাইমিনুর রশিদ জানান, গরম হাওয়ার কারণে অনেক ছোট ছোট পরিবার সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বীমা চালু থাকলে ওই সব পরিবার কিছুটা হলেও উপকৃত হতো।

ময়মনসিংহ জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে গরম আবহাওয়ার কারণে প্রায় সোয়া চার হাজার হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। তবে পুরোপুরি আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমি। এই জেলায় সবচেয়ে বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রিশালে। কৃষি বিভাগের ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. মতিউজ্জামান বলেন, ‘গরম আবহাওয়ার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। ধানের বীজ বা অন্য কারণে নয়।’ অন্যদিকে গফরগাঁওয়ে ব্লাস্ট রোগে পাঁচ হেক্টর জমির কাঁচা-পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল আলম জানান, এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত লাখ ১১ হাজার ৫৮০ টন চাল। গরম বাতাসে ১৩ উপজেলায় ২৫ হাজার ৮৯৫ হেক্টর বোরো জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ধান শতভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকিগুলোর ২৭.২ শতাংশ বিনষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুর্যোগ দেখে আমরাও অবাক হয়েছি। কারণ গরম বাতাসের ঝড় এই প্রথম দেখলাম।’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ হাজার ৭৪৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় জানান, পাঁচ উপজেলায় ৪১ হাজার কৃষকের ১০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমির ধান গরম বাতাসে আক্রান্ত হয়। এর বাজার মূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে ২২ হাজার ৬০০ দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আর্থিক প্রনোদণার জন্য পাঠানো হবে। সরকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে প্রণোদনার টাকা পাঠাবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শেরপুর খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মোহিত কুমার দে জানান, কালবৈশাখীর সঙ্গে গরম বাতাসে প্রায় এক হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ হেক্টর জমির আবাদ সম্পূর্ণ এবং এক হাজার ৭৫ হেক্টর জমির আবাদ আংশিকভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে মোট প্রায় ৯ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের মতে, গরম বাতাসে এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ জ্বলে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, সম্প্রতি শিলাবৃষ্টিতে ধর্মপাশায় অন্তত এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় অল্প ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছয় হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গরম হাওয়ায় পাঁচ হেক্টর জমির হাইব্রিড জাতের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এম মাসুম বিল্লাহ জানান, মূলত ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপামাত্রার বাতাসের কারণে এমন পরিস্থিতি। তবে জমিতে ৩ ইঞ্চি পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখা ও পরিমাণ মতো পটাশ সার স্প্রে করলে উপকার পাবেন কৃষকরা। এতে করে যেসব জমির ধানে চিটা মনে করছেন কৃষকরা, সেই জমির ধান ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার হবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন জানান, চার হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ব্লাস্ট রোগ ও গরম বাতাসে প্রায় ছয় হেক্টর ধান শুকিয়ে চিটা হয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদুল মিরাজ জানান, গরমে পাঁচ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান বলেন, ‘এক হেক্টর ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ নিরূপণ করেছি।’



সাতদিনের সেরা