kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

মাটিরাঙার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকায় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

বাঙালিদের মারধর, দোকানে আগুন ও গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং ইউনিয়নের শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় গত রবি ও সোমবার স্থানীয় বাঙালিদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে ইউপিডিএফ (প্রসিত) দলের সন্ত্রাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বাঙালিদের আশঙ্কা, সেখানে সেনাক্যাম্প পুনর্বহাল না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে আবারও হামলা হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই সন্ত্রাসী দলটি স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং বাঙালিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। এর চূড়ান্ত রূপ নেয় গত রবিবার। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাইফুকারবারিপাড়া এলাকায় কচুক্ষেতে কর্মরত ২০ থেকে ২৫ জন বাঙালিকে আকস্মিকভাবে ঘেরাও করে মারধর করে ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এ সময় ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় চারজন স্থানীয় বাঙালি গুরুতর আহত হয়।

এরপর গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে ফের বাঙালি গ্রামে প্রবেশ করে বাঙালিদের বেধড়ক মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় সন্ত্রাসীরা। একই দিন রাত ৯টার দিকে আবারও বাঙালি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয় এবং বাঙালিদের মারধর ও ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমপাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়িসহ আশপাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা একত্র হয় তাইন্দং বাজারে এবং তারা ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মুসলিমপাড়ার পংবাড়ী এলাকার বাঙালি মফিজ মিয়ার তিন শতাধিক সেগুন গাছ কেটে দেয়। এরপর নিরীহ আনু মিয়ার চায়ের দোকান রাত সাড়ে ১২টায় পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তবলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক।

মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করেছেন।

স্থানীয় বাঙালিরা মনে করেন, সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ে এই সন্ত্রাসী দলের হামলা  বেড়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বাঙালিদের ওপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাঙালিরা যাতে তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে না পারে এবং এলাকাছাড়া হয় তার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে। পরে বলে দেয় বাঙালিরা তাদের ক্ষেতে যেতে পারবে না। ব্রাশফায়ার করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।