kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

বীমায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীমায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে বীমার সম্প্রসারণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ এবং সেবা প্রদানে গ্রাহক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে বীমা কম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বীমা একটি সেবামূলক পেশা। গ্রাহক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি একে জনপ্রিয় এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বীমা কম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) গতকাল সোমবার জাতীয় বীমা দিবস ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি জনগণ যাতে সংকটকালে বীমা পলিসি খুলে সুবিধা পেতে পারে সে জন্য তথ্য দিয়ে তাদের বীমা সম্পর্কে সচেতন করতে বীমা কম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেন। তিনি কম্পানিগুলোর উদ্দেশে আরো বলেন, জনগণ যাতে বীমার বিষয়ে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে তাদের সচেতন করতে আপনাদের আরো ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির যত বিস্তৃতি ঘটবে, বীমার গুরুত্বও ততই বৃদ্ধি পাবে। তিনি বীমা কম্পানিগুলো থেকে সময়মতো অর্থ পরিশোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘মানুষ যেন তাদের বীমা অথবা ক্ষতি অনুযায়ী যথাযথভাবে বীমার অর্থ পেয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু মানুষের প্রবণতাই হচ্ছে, সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে বীমা কম্পানিগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা। এই মুহূর্তে এ ধরনের প্রবণতা কমেছে বা বন্ধ হয়ে গেলেও কম্পানিগুলোকে এ ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকতে হবে এবং দক্ষ ও উপযুক্ত লোককে তদন্ত করতে পাঠাতে হবে।’

জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ বাস্তবায়নে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে ‘প্রবাসী শ্রমিক বীমা’ চালু করা হয়েছে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দরিদ্র মানুষের জন্য সীমিত আকারে শস্য বীমা চালু করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা প্রয়োজন। আমাদের জনগণ সচেতন নয়, কিন্তু আমি আশা করছি যে তারা কভিড-১৯-এর পর এ ব্যাপারে সচেতন হবে।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা’, ‘বঙ্গবন্ধু নিরাপত্তা বীমা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু স্পোর্টসম্যান’স কম্প্রিহেনসিভ ইনস্যুরেন্স’ চালু করায় প্রধানমন্ত্রী ইনস্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটিকে (ডিআইআরএ) ধন্যবাদ জানান।

‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গতকাল দেশজুড়ে যথাযথভাবে জাতীয় বীমা দিবস ২০২১ পালিত হয়।

স্বাধীনতার মহান রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বীমাকে পেশা হিসেবে নিয়ে ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইনস্যুরেন্স কম্পানিতে যোগ দেন। এই দিনটির স্মরণে সরকার প্রতিবছর ১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালন করছে।

এই দিন বীমা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি এই চার বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং চার ছাত্রের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমাও বিতরণ করেন। মোট ৫০ হাজার ছাত্রকে এই বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা দেওয়া হচ্ছে।

মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বীমা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা