kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

পাইকারিতে কিছুটা কমল তেল ও চিনির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাইকারিতে কিছুটা কমল তেল ও চিনির দাম

পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম কিছুটা কমেছে। তবে উল্টো চিত্র খুচরা বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের কেজি তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই অবস্থা চিনিতে, কেজিতে এক-দুই টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু-এক দিন ধরে তেলের দাম কমছে। মিলগেটে না বাড়ালে স্বাভাবিকের দিকে যাবে বাজার। তবে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মৌলভীবাজারে পাইকারিতে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে চার হাজার থেকে চার হাজার ২৫০ টাকা মণ (৩৭.৩২ কেজি)। অর্থাৎ ১০৭ টাকা থেকে ১১৪ টাকা কেজি। এই দাম চলতি সপ্তাহের শুরুর তুলনায় মণপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কম।

রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা, বসুন্ধরা গেট কাঁচাবাজারসহ খুচরা বাজারে সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১২৩ থেকে ১২৫ টাকা কেজি। সপ্তাহের শুরুতে ১২০ থেকে ১২২ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম পাইকারি বাজারের তুলনায় ১১ থেকে ১৬ টাকা বেশি। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি দুই লিটার কেনা যাচ্ছে ২১৪ থেকে ২২০ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতল ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, যা আগেও ছিল।

পাইকারি বাজারে পাম তেল (লুজ) বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৭০০ টাকা মণ বা ৯৯ টাকা ১৪ পয়সা কেজি। পাম সুপার বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৮০০ টাকা মণ বা ১০২ টাকা কেজি। খুচরায় লুজ পাম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা কেজি ও সুপার বিক্রি হচ্ছে ১১২ থেকে ১১৫ টাকা কেজি। এ ক্ষেত্রেও পাইকারি ও খুচরায় পার্থক্য কেজিতে ১০ থেকে ১৩ টাকা। 

পাইকারি বাজারে চিনির দামও চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। তবে খুচরা বাজারে বেড়েছে এক থেকে দুই টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিনির বর্তমান দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নিলে আগামী রমজানে চিনির বাজার নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হবে ভোক্তাকে। তাই বাজার তদারকি বাড়ানো দরকার।

মৌলভীবাজারে পাইকারিতে সাদা খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে যা ৬৩ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। খুচরায় এই চিনি এখন ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল। বাজারে খোলা লাল চিনি কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ৬৮ টাকায় কেনা গেছে। খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের তুলনায় দুই টাকা বেশি ৭০ টাকা কেজি।

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মিলগেটে এখনো আসকিং প্রাইস (মিল নির্ধারিত মূল্য) বেশি। তার পরও পাইকারি বাজারে গত দুই দিন ধরে কমছে। তবে আবার কখন বেড়ে যায় বোঝা যাচ্ছে না। চিনির বাজারে সরবরাহ ঠিক আছে। তবে দাম একটু বেশি। এখন যে দাম রয়েছে তা ২০১৯ সালে কিছুদিন ছিল। তার আগে আবার ৬০ টাকার নিচে ছিল।

বাজারে গত সপ্তাহের মতো ৪০ টাকায় স্থির রয়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশিতে নির্ভরশীলতা বাড়াতে ভারতীয় পেঁয়াজে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় পেঁয়াজের সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। ফলে দাম কমেনি বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। কেজিপ্রতি ২৫ টাকায় নেমে স্থির হয়েছে আলুর দাম। এ ছাড়া টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বেশির ভাগ সবজির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। চিচিংগা, বেগুনসহ কয়েকটি সবজির মৌসুম না হওয়ায় দাম ৫০ টাকার আশপাশে রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এক কেজি ৭০ টাকায় আর ২০ টাকায় আড়াই শ গ্রাম মরিচ পাওয়া যাচ্ছে।

ডিমের দাম কমে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ডজনে নেমেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি। বাজারে বেড়েছে ছোট মাছের সরবরাহ। তবে দাম কিছুটা বেশি।  মানিকনগর বাজারে বাছাই করা পুঁটি মাছের বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। টাকি মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, ইলিশ ৮০০ থেকে হাজার টাকা কেজি। অন্যান্য মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে।

বাজারের মাছ বিক্রেতা আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, পানি কমাতে নদী ও বিলে ঘেরের মাছ তুলে ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। তাই সরবরাহ বাড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা