kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি পরিবারের

নূসরাত হত্যা মামলা
রায়ের এক বছর

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি পরিবারের

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ের এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শনিবার। ঘটনার সাত মাসের মাথায় ৬১ কার্যদিবস শুনানির পর অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনের ফাঁসির রায় দেন আদালত। রাফির পরিবারের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবিলম্বে যেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

অন্য মামলা থাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন ও পৌর কাউন্সিলর মোকসুদ আলমকে ফেনী কারাগারে রাখা হয়েছে। কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও মোহাম্মদ শামীমকে রাখা হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজান সাজু বলেন, গত ২৯ অক্টোবর আসামিদের দণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার যাবতীয় নথি ছাপানো শেষ করা হয়। পরে প্রয়াজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। মহামারির পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার শুনানি হবে। পূজার ছুটি শেষ হলে মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে।

রাফির মা শিরিনা আক্তার বলেন, ‘খুনিরা আমার মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে। আজ দেড় বছর আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। দুই চোখের পাতা বন্ধ করলে রাফির পোড়া শরীর চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই, উচ্চ আদালতে মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।’

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় রাফির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা