kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিআইপির সংবাদ সম্মেলন

জনঘনত্ব বিবেচনায় শহরের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার তাগিদ

‘ঢাকাকে বসবাস অযোগ্যতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব বিবেচনায় না নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের কারণে প্রায় সব মানদণ্ডে ঢাকার অবস্থান নিচের দিকে থাকে বলে মনে করে নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। জনঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে শহরের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ঠিক করার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল মঙ্গলবার ‘ঢাকা শহরের জনঘনত্ব, বাসযোগ্যতা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিআইপির প্রতিবেদন প্রকাশ’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তাগিদ দিয়েছে বিআইপি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে ৭০-৮০ জন। একরে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত হতে পারে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়। জাপানের টোকিও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে জনঘনত্ব একরপ্রতি ৯০ জনের কম। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সর্বোচ্চ জনঘনত্ব একরপ্রতি ৫৮ জন। বহুতল ভবনের জন্য প্রসিদ্ধ সিঙ্গাপুরেও একরপ্রতি ৮০ জনের কম মানুষ বাস করে। তবে সিঙ্গাপুর সিটিতে জনসংখ্যা একটু বেশি হলেও শহরটির শতকরা ৮০ ভাগ জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং ৯০ ভাগ আবাসন সরকার দিয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকার লালবাগ ও চকবাজার এলাকার জনঘনত্ব প্রতি একরে ৬০০ থেকে ৭০০ জন। এই জনঘনত্ব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে মনে করে বিআইপি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা শহরের অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদি পরিকল্পনার সব মানদণ্ড ও সূচকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। সিঙ্গাপুর উচ্চবৃদ্ধির শহর; কিন্তু তার জনঘনত্ব অনেক কম। এমনকি নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের জনঘনত্ব ১১২ এবং অন্যান্য এলাকার ঘনত্ব প্রতি একরে ৬০ জনের কম। সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলক নিম্নভবনের শহর হিসেবে পরিচিত হয়েও ব্যক্তিগত মালিকানায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লটে ভবন তৈরির কারণে জনঘনত্ব অনেক বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) জনঘনত্বের মানদণ্ড বিশ্লেষণে ঢাকার পুরনো ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে প্রতি একরে ১৫০ জন আদর্শ হিসেবে ধরা হলেও শতকরা ৯০ ভাগ এলাকা সেই ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। প্রতি একরে ৩০০ জন হিসেবে ধরা হলেও শতকরা ৬৩ ভাগ ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতা নেই। প্রতি একরে ৪০০ জন হিসেবে শতকরা ৪০ ভাগ ওয়ার্ড ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকাকে বসবাস অযোগ্যতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। ঢাকাসহ দেশের সব শহর ও পৌরসভা পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নে জনঘনত্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত। নয়তো পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান তিনটি কাজের মধ্যে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ একটি। ২০০৮ সালের মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তৈরির মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘জনঘনত্ব, শহরের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এলাকাভিত্তিক জনঘনত্বের ম্যাপ তৈরি করা। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক সামাজিক ও নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোর তালিকা প্রস্তুত করা এবং সে অনুযায়ী উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়; বরং সামগ্রিক শহরের টেকসই উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা