kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

প্রত্যাহারের আগেই ছুটি নিলেন ওসি প্রদীপ!

এস এম আজাদ   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রত্যাহারের আগেই ছুটি নিলেন ওসি প্রদীপ!

কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় গতকাল বুধবার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, ওসিকে প্রত্যাহার করা হবে। কোনো অভিযোগে মামলা হলে বা তদন্ত শুরু হলে নিয়মানুযায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওসি প্রদীপ এ পরিস্থিতি টের পেয়ে এর আগেই মঙ্গলবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। গতকাল টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহাকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়। দিনভর ওসিকে প্রত্যাহারের গুঞ্জন শোনা গেলেও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দিনভর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার পর গত রাতে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে ছুটিতে থাকা ওসি প্রদীপকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এআইজি পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকালই প্রদীপকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজারে কর্মরত অবস্থায়ও কয়েকবার বরখাস্ত, প্রত্যাহার এবং তাত্ক্ষণিক বদলি হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তির মুখে পড়লেও ফের তিনি পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসির দায়িত্ব।

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তাঁকে প্রত্যাহারও করা হবে।’ কিন্তু গতকাল বিকেলে কক্সবাজারের এসপি এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। মঙ্গলবার অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়েছেন ওসি প্রদীপ।’ 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল ওসি প্রদীপকে টেকনাফ থানায় দেখা যায়নি। তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

মেজর (অব.) রাশেদ সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সব কর্মস্থলেই ছিলেন প্রতাপশালী। ১৯৯৬ সালে পুলিশে যোগ দেওয়ার পর প্রদীপ কুমার দাশ কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় পার করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার জেলায়। ২০১৫ সালে সুগন্ধা, মুরাদপুর ও পাথরঘাটায় হিন্দু বিধবা মহিলার জমি দখল, তেলবাহী লরি আটকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের বোনের জমি দখলের অভিযোগে বরখাস্ত হন প্রদীপ। এরপর উখিয়া, মহেশখালী থানার ওসি হয়ে পরে যোগ দেন টেকনাফ থানায়। এ সময় এক লবণ ব্যবসায়ীর মাল লুটের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ সদর দপ্তরের গোপনীয় শাখা। কিন্তু তাঁর কিছুই হয়নি।

স্থানীয়রা বলছে, ওসি প্রদীপ টেকনাফে বেশির ভাগ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আসামি করেছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনদের। তাঁর বিরুদ্ধে পত্রিকায় রিপোর্ট করায় দৈনিক কক্সবাজার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তাফাকে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা