kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বসুন্ধরা কনভেনশন সিটি

বসছে শয্যা, দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বসছে শয্যা, দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে হাসপাতাল

কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২ নম্বর হলে এরই মধ্যে শয্যা বসানো হয়ে গেছে। এক্সপো জোনে ফ্লোরম্যাট বসানোর কাজ চলছে। এরপর সাজানো শুরু হবে রোগীর শয্যা, আসবাব। আগে থেকে তৈরি করে রাখা হয়েছে চিকিৎসক, সেবিকা ও তাঁদের সহযোগী অন্যদের কক্ষ। এক্সপো জোন ও তিনটি হলে দুই হাজার ১৩ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারের পাশাপাশি ৭১ শয্যার আইসিইউ ইউনিট থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ করতে দিন-রাত চলছে কাজ।

গতকাল বুধবার আইসিসিবিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্মাণাধীন হাসপাতালের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান। উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন, মার্কেটিং (সেক্টর-এ) এইচওডি জেড এম আহমেদ প্রিন্স, হেড অব সাপ্লাই চেইন (সেক্টর-এ) মো. আব্দুর রহমান, বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের জিএম (সেলস) জাকারিয়া জালাল।

আইসিসিবির এক্সপো জোনে হাসপাতাল নির্মাণের কাজের তদারকি করতে এসে গতকাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা সিটি বিভাগ) মো. মাসুদুল আলম বলেন, ‘এ হাসপাতালে বেড স্থাপনের জন্য যেসব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার তা আমরা পর্যায়ক্রমে তৈরি করে আসছি। ফ্লোরম্যাট বসানো হচ্ছে, বেডও তৈরি করে রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তৎপর আছি, এ দুর্যোগ মুহূর্তেও আমরা সবাই একাত্ম আছি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ হাসপাতালকে চিকিৎসা উপযোগী করার জন্য তৈরি করতে পারব। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। এত সুন্দর একটি জায়গা আমাদের দিয়েছে, এটি যদি আমাদের তৈরি করতে হতো, তাহলে হয়তো এত দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে রূপান্তর করতে পারতাম না।’ তিনি আরো বলেন, টয়লেটের কাজও পর্যায়ক্রমে শেষ হয়ে যাচ্ছে, কমোড, বেসিন বসানো হয়েছে। আসবাব প্রস্তুত করা আছে। এখন শুধু স্থাপন করা হবে। আইসিইউ শয্যা স্থাপনের জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেলে দ্রুত আইসিইউ শয্যা স্থাপন করতে পারবেন তাঁরা।

আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ফ্লোরম্যাট বিছানো এবং বেড স্থাপন করার যে কার্যক্রমগুলো তা মোটামুটি এগিয়ে গেছে। এখন বেডও বসে যাচ্ছে। ২ নম্বর হলে এরই মধ্যে বেড বসানো হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, এ কার্যক্রমগুলো শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। বাংলাদেশে একমাত্র সেনাবাহিনী ছাড়া, পূর্ণাঙ্গভাবে অস্থায়ী হাসপাতাল করার অভিজ্ঞতা কারো ছিল না। এত বড় আকারে হাসপাতালের আয়োজন করার প্র্যাকটিসও কারো ছিল না। স্বাস্থ্য প্রকৌশলীরা স্থায়ী হাসপাতাল করেছেন। কিন্তু অস্থায়ীভাবে কোনো একটি জায়গাকে কনভার্ট করে কোনো হাসপাতাল তাঁরা এখনো করেননি। তাই তাঁদেরও অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে একটি পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ থেকে যেকোনো বিষয়ে এগিয়ে গিয়ে তাঁদের সহায়তা করা হচ্ছে। বারবার জানতেও চাওয়া হচ্ছে কী কী সহায়তা তাঁদের দরকার। আশা করছি, আগামী ২৬-২৭ তারিখের দিকে এখানে করোনা রোগীদের সেবা দিতে পারব।’

এক্সপো জোনের পুরোটায় এয়ারকন্ডিশন লাগানো হয়েছে। ২৫০০ কিলোওয়াটের সাবস্টেশন এবং জেনারেটর বসানো হয়েছে। দ্রুত সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে, যেন চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীদের সার্বক্ষণিক মনিটর করতে পারেন।

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অস্থায়ী হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৫ দিনের মধ্যেই আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ হিসেবে আগামী ২৭ এপ্রিলের আগেই হাসপাতালের সব কাজ সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করার কথা। দিন-রাত কাজ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই ক্রান্তিকালে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর একটি দল আইসিসিবি পরিদর্শন করে। পরে এটাকে অস্থায়ী হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা