kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

অপবাদ সইতে না পেরে শরীয়তপুরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা গ্রেপ্তার ২

পাবনায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

শরীয়তপুর, পাবনা প্রতিনিধি ও মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী। গত রবিবার দুপুরে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর নড়িয়া উপজেলায় নিলগুণ গ্রামে ওই ছাত্রীর বড় বোন অসুস্থ হন। তখন প্রতিবেশীর কাছে রেখে ওই ছাত্রীর মা বড় মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। রাতে প্রতিবেশী ভানু বাছারের ঘরে ঘুমাতে যায় ওই ছাত্রী। এ সময় ভানু বাছারের ছেলে সুজিত (৩০) ঘুমন্ত অবস্থায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন সুজিত। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সুজিতের মা ও ভাইয়েরা ওই ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেন। রবিবার দুপুরের দিকে ওই ছাত্রী ও তার মাকে ডেকে নিয়ে যান সুজিতের মা পারুল বাছার। এ সময় পারুল বাছার ওই ছাত্রীকে গালাগাল করেন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজের ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী।

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে সুজিত বাছার (৩০), অজিত বাছার (৩৮), রিনা রানি মণ্ডল (২৫) ও পারুল বাছারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, অজিত বাছার ও তাঁর মা পারুল বাছারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে পাবনার সুজানগর উপজেলায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে পাঁচজনের নামে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার সরদার সুমন হোসেন পটল (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। সুমন চর সুজানগর এলাকার মান্নান সরদারের ছেলে।

সুজানগর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধূ রবিবার সন্ধ্যায় সুজানগর হয়ে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে যাচ্ছিলেন। সুজানগর বাজার থেকে তাঁর দুলাভাই তাঁকে নিতে আসেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছলে পাঁচজন যুবক তাঁদের অপহরণ করে এবং একটি গমক্ষেতে নিয়ে যায়। এ সময় ওই যুবকরা ওই নারীর দুলাভাইকে মারধর করে এবং তাঁকে বেঁধে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ধর্ষিতা নারী নিজে বাদী হয়ে রবিবার রাতেই সুজানগর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে পুলিশ গতকাল সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। সুমন এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। এ ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরো জানান, সুমন পাবনার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় প্রতিবেশীদের অপবাদ সইতে না পেরে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই ছাত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাদা বলেন, ‘গত ৯ মার্চ আমার নাতনি প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিকেল পর্যন্ত সে বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আমরা তার কোনো সন্ধান পাইনি। এ ঘটনায় ১০ মার্চ মান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ইমরানের পরিবারকে চাপের মুখে রেখে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও অন্যরা। পরে মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গত শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে শুরু করে। পরে অপবাদ সইতে না পেরে ওই দিন বিকেলে সে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা