kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

সাবেক প্রতিমন্ত্রী রহমত আলী আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক প্রতিমন্ত্রী রহমত আলী আর নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. রহমত আলীর জানাজা শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। ছবি : বাসস

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-ভাওয়ালগড়-পিরুজালী-মির্জাপুর) আসনে ১৯৯১ সাল থেকে দশম সংসদ পর্যন্ত টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য রহমত আলীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গাজীপুরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

রহমত আলীর ব্যক্তিগত সহকারী প্রভাষক এস এম জাহাঙ্গীর আলম সিরাজী কালের কণ্ঠকে জানান, বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। গত ১৫ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত ২৮ জানুয়ারি দেশে আনা হয়। কিন্তু দেশে আসার পরই অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দফায় তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। রহমত আলীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অসুস্থতার কারণে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন চাননি। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন উপকমিটি, বাংলাদেশ কৃষক লীগ ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

গতকাল বাদ জোহর রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রহমত আলীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয় দ্বিতীয় জানাজা। জানাজার পর তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রমুখ। এরপর বাদ মাগরিব এলিফ্যান্ট রোডে বায়তুল মামুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর তৃতীয় জানাজা হয়। আজ বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চতুর্থ জানাজার পর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। তাঁর বড় ছেলে ড. এম জাহিদ হাসান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে পৌঁছার পর আগামীকাল মঙ্গলবার মরদেহ গাজীপুরে নেওয়া হবে। সেখানে রাজবাড়ী মাঠে পঞ্চম দফায় জানাজার পর মরদেহ নেওয়া হবে শ্রীপুরে। সেখানে ষষ্ঠ জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ সমাহিত করা হবে।

শোক : রহমত আলীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গভীর শোক জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা