kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উত্তর সিটির কালো তালিকার কম্পানি দক্ষিণে সাদা!

দরপত্রে তিতুমীর কলেজের শিক্ষকের নাম ব্যবহার, কিন্তু ওই নামে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তর সিটির কালো তালিকার কম্পানি দক্ষিণে সাদা!

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কের আড়ালে ডেঙ্গুর ইস্যুটি অনেকটাই চাপা পড়ে গিয়েছিল কিছুদিন ধরে। আবার ডেঙ্গুর প্রকোপও নেমে এসেছিল একেবারেই নিচের দিকে। তবে সব মহল থেকে সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ওপর নজর ছিল অনেক বেশি। হঠাৎ করেই করোনাভাইরাসের দিকে সবার নজর চলে যাওয়ার সুযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বহু বিতর্কিত এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার লিটার ওষুধ নিয়েছে। আবার আরো পাঁচ লাখ লিটার ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগামী হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত সব মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দাখিল করা ভারতীয় একটি কম্পানির অথোরাইজেশন লেটারে সত্যায়নকারীর ভুয়া স্বাক্ষরের বিষয়টি ধরা পড়েছে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানেও। এর আগে ডেঙ্গু নিয়ে তোলপাড়ের সময়ও এই কম্পানি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেরই একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে বারবারই নানা ধরনের প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। উচ্চ আদালত থেকে এ বিষয়ে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের নির্দেশনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মশার ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্নের কমতি নেই। এর আগে একাধিকবার ‘লিমিট’ নামের একটি কম্পানির কাছ থেকে নেওয়া ওষুধ নিম্নমানের পাওয়ায় তা বাতিল করে ফিরিয়ে দিয়েছিল সাবেক সম্মিলিত ঢাকা সিটি করপোরেশন। সর্বশেষ গত বছরই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও ওই লিমিটের ওষুধে সঠিক মান না পাওয়ায় তা ফিরিয়ে দেয় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু সম্প্রতি কিছুটা গোপনে ওই লিমিটের কাছ থেকেই ৬০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক নিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখন আরেক দফা পাঁচ লাখ লিটার কীটনাশক কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দরপত্রে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশ নেয় লিমিট। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি চক্র নানা কৌশলে ওই প্রতিষ্ঠানকেই আবারও কীটনাশক দেওয়ার কার্যাদেশ দিতে প্রভাব খাটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কেউ কেউ করপোরেশনের বর্তমান দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ওই লিমিটের অতীত কারসাজির বিষয়গুলো গোপন রেখেছে।

একই সিটি করপোরেশনের আরেক সূত্র জানায়, লিমিট নামের কম্পানিটি এবার কাজ পাওয়ার জন্য ভারতের দেবীদয়াল নামের একটি কম্পানির কাছ থেকে ওষুধ আনার প্রত্যয়ণপত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু ওই কম্পানি কয়েক বছর আগেই দেবীদয়াল নাম পাল্টে নতুন নাম ধারণ করেছে। ফলে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কারো কারো সন্দেহ, লিমিট এবারও কারসাজি করে দেবীদয়ালের পুরনো কোনো প্যাড ব্যবহার করেছে এই দরপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সঙ্গে ওই ভারতীয় কম্পানির নাম ব্যবহার করা অথোরাইজেশন লেটারে সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেন নামে একজনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই নাম ও স্বাক্ষর সবই ভুয়া।

এই তথ্যের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ থেকে খোঁজ নিতে গেলে সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আশরাফ হোসেন কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন যে মো. মোশারফ হোসেন নামে অর্থনীতি বিভাগে তাঁদের কোনো শিক্ষক নেই।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত বছরের ৭ জানুয়ারি লিমিটকে আমাদের এখানে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

লিমিটের কাছ থেকে ওষুধ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই কম্পানি এর আগে কখনো দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল বলে আমার জানা নেই। এ ছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনে যদি কোনো কম্পানি কালো তালিকাভুক্ত হয়েও থাকে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা আলাদা প্রতিষ্ঠান। আমাদের এখানে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য যেসব কম্পানির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আছে, তারাই এখানে কাজের সুযোগ পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা