kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

হাত বদলেই বাড়ে দরের গতি

সবজিতে বাজার ভরা দাম লাগামছাড়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সবজিতে বাজার ভরা দাম লাগামছাড়া

পেঁয়াজ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নাভিশ্বাসের উপক্রম মানুষের। মৌসুমের শুরুতে পাতাসহ পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে। ছবিটি গতকাল বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শীতের সবজিতে বাজার ভরা, তার পরও নামছে না দামের পারদ। সবজি এক হাত থেকে অন্য হাতে গেলেই বাড়ছে দাম। এর মধ্যেও দেশি পেঁয়াজের বাজারে বইছে কিছুটা সুবাতাস। আগের চেয়ে কিঞ্চিৎ কমেছে দেশি পেঁয়াজের ঝাঁজ। গেল বছর এ সময়টাতে পানির দরে সবজি কেনাবেচা হলেও এ বছর বাজারের ছবি পুরোটাই উল্টো। এ ব্যাপারে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বগুড়া : বগুড়ার সবচেয়ে বড় সবজি বাজার মহাস্থানহাটে গতকাল শনিবার সকালে দেশি কাটা পেঁয়াজের মণ ছিল ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ৭০-৮০ টাকা। একই পেঁয়াজ পাতাসহ দাম ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩৫-৩৮ টাকা। খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিতে কোথাও ১০ টাকা আবার কোথাও ১৫ টাকা বেশি দরে। একই সঙ্গে আমদানি করা চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে। সবজির পাইকারি বাজার মহাস্থানহাটে এখন প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি করে কৃষকরা পাচ্ছেন ২৫ টাকা (প্রতি মণ ১০০০ টাকা)। অথচ সেখান থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি কেজি ফুলকপি কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। শহরের বকশীবাজার ও কলোনি বাজারে সেই দাম আরো ১০ টাকা বেশি। একইভাবে মহাস্থানহাটে কৃষকরা যেখানে এক কেজি বেগুন বিক্রি করেন ১২ টাকা ৫০ পয়সা (প্রতি মণ ৫০০ টাকা) দরে, সেখানে তা জেলা শহরের বড় তিনটি কাঁচাবাজারে এক লাফে উঠে যায় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। সদরের শাঁখারিয়া গ্রামের মুলা চাষি মনির হোসেন জানান, প্রথম দিকে মুলার ভালো দাম পাওয়া গেছে। এখন মুলা প্রতি মণ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি মাত্র পাঁচ টাকা। যদিও খুচরা বাজারে মুলা ২০ থেকে ২৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

বগুড়ার শিবগঞ্জের চণ্ডিহারা গ্রামের চাষি খয়বর আলী জানান, মহাস্থানহাটে ২৫০ টাকা মণ দরে মুলা বিক্রি করেছেন। তাঁর এই মুলা বগুড়ায় নিয়ে ব্যাপারীরা তিন গুণ দামে বিক্রি করছেন।

শেখেরকোলা ইউনিয়নের চাষি লুৎফর রহমান বলেন, তিনি মহাস্থানহাটে বড় সাইজের বাঁধাকপি এনেছিলেন ৩০০ পিস। তাঁর কাছ থেকে এই কপি পাইকাররা কিনে নেন ১৮ টাকা পিস হিসেবে। অথচ ১৫ দিন আগেও তিনি একই সাইজের কপি বিক্রি করেছেন প্রতিটি ২৫-২৬ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

হিসাব মেলানোর জন্য বগুড়ার বড় খুচরা বাজার শহরের ফতেহ আলীতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৫০, গোল বেগুন ৪০, কাঁচা মরিচ ৬০, কচুরমুখী ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, ওলকচু ৪০, ফুলকপি ৬০, বাঁধাকপি ৪০, করলা ৬০, পটোল ৪০, শিম ১২০, ঝিঙে ৪৫, ঢেঁড়স ৫০, বরবটি ৪০, পেঁপে ২০, কাঁকরোল ৪০ এবং দেশি শসা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুরের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখন দুই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও ছয় হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে এ পেঁয়াজ। পুরনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকায়। কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। এদিকে শীতাকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, আলু, বেগুন ও টমেটো বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। সালথার ইউসুফদিয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি বাচ্চু সরদার জানান, দিন যত যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম তত কমছে। তিনি বলেন, এ মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে চৈত্র মাসের মাঝামাঝিতে। তখন পেঁয়াজের দাম আরো কমবে।

পাবনা : বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাঠ থেকে সরাসরি কৃষকরা যে দামে বিক্রি করছেন শহরের বাজারগুলোতে এসে সেসব পণ্যের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে পাবনার বড় বাজার, মাসুম বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেল—দুই দিন আগেও বুধবার এই বাজারেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া নতুন আলু প্রতিকেজি ৩০, বেগুন ৩০, মুলা ১৫, শিম ২০, করলা ৬০, ফুলকপি ৩৫, পেঁয়াজের ফুল ৩০, পালংশাক ২০, টমেটো ৮০, শসা ৫০, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঈশ্বরদীর কামালপুর গ্রামের চাষি আমিনুল ইসলাম জানান, সবজি যে দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাঠপর্যায়ে কৃষক সে দাম পায় না। গতকাল কামালপুর বাজারেই কৃষকরা বেগুন ২০, পেঁয়াজ ১০০, শিম আট, ফুলকপি ২৫, পেঁয়াজের ফুল ২৫, পালংশাক ১০, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা