kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধুনটে ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণ

সিরাজগঞ্জে যৌন নিপীড়নে জরিমানার টাকা আ. লীগ নেতা ও মাতবরদের পকেটে

সিরাজগঞ্জ ও ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের (ধর্ষণচেষ্টা) ঘটনায় সালিসে জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মাতবরদের বিরুদ্ধে।

ধুনটে গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় অভিযুক্ত রুবেল হোসেনকে (২১) আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। রুবেল উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের সাতটিকরি গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে। এ ঘটনায় নির্যাতিত নারী ধুনট থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া গোপালনগরের ওই নারী তাঁর মামার বাড়িতে থাকেন। রুবেল চার বছর ধরে তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। এতে তিনি সাড়া দেননি। তবু রাস্তায় বের হলেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন রুবেল। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি বিষয়টি রুবেলের পরিবারের কাছে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন রুবেল। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৌশলে তাঁর (নারী) ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন রুবেল। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে রুবেলকে আটক করে।

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, শুক্রবার (গতকাল) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামারখন্দ উপজেলায় যৌন নিপীড়নে অভিযুক্তের নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের নূরুল ইসলাম আকন্দের ছেলে ও এক সন্তানের জনক। গত ৮ অক্টোবর সকালে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল কামারখন্দের হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্রীটি। সে বাড়াকান্দির ছাত্তার মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে বৃষ্টি নামে। তখন বাড়িটির গলিতে ওত পেতে থাকা জাহাঙ্গীর ছাত্রীকে ‘ভাতিজি’ ডেকে সেখানে একটি চালাঘরে আশ্রয় নিতে বলেন। ছাত্রীটি সেখানে গেলে জাহাঙ্গীর তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। এতে ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরদিন তার বাবা কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। ১২ অক্টোবর তিনি কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। কিন্তু আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলা তুলে নিতে ও বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিতে থাকেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মাতবররা। একপর্যায়ে মীমাংসায় রাজি হয় বাদীপক্ষ। ২৮ অক্টোবর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় সালিস হয়। এতে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, গোপালপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, বাড়াকান্দি গ্রামের আক্তার হোসেন, আনোয়ার হাজি, সাদেক আলী মুন্সিসহ উপস্থিত মাতবররা বিবাদীপক্ষকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা