kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরকীয়ার বলি স্বামী-সন্তান!

তাহের ও বিবি ফাতেমাকে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরকীয়ার বলি স্বামী-সন্তান!

সুনামগঞ্জে বাবার কোলে ঘুমন্ত শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই চট্টগ্রামে এক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিবি ফাতেমা নামের চার বছরের ওই শিশু মায়ের পরকীয়া প্রেমের বলি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই শিশুকন্যার সঙ্গে তার বাবা আবু তাহেরকে (৩২) হত্যা করা হয়েছে। বাবা-মেয়ে দুজনকেই গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাবা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে নিহত তাহেরের ভাই নুরুল আমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। তাহেরের স্ত্রী বিবি হাছিনাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

বন্দর থানার নিমতলা এলাকার একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দিনমজুর তাহের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে কয়েক বছর ধরে বুচুইক্যা কলোনির একটি ভবনের নিচতলায় একটি বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী বিবি হাছিনা (২৭) অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন।

বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দেখে, বাসার খাটে মেয়ে ও ফ্লোরে বাবার লাশ পড়ে আছে। তাঁদের গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ দেখার পর সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর দুপুরে মরদেহ দুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের কারণ কী—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনার বিষয়ে জানতে বিবি হাছিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছা সম্ভব হয়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের কারণ এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত আছে।’

বাবা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশের অন্য ইউনিটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এর মধ্যে সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

একাধিক ইউনিটের পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুরুতে বিবি হাছিনা দাবি করেছিলেন, তিনি অন্যের বাসায় কাজ করতে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বাসায় ফিরে মেয়ে ও স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। কিন্তু তাঁর এই তথ্য অসংলগ্ন মনে হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে। তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি জানিয়েছেন, এক লোকের সঙ্গে তাঁর (হাছিনার) পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। অনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্য দেখে ফেলার কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে কতজন জড়িত—এ প্রশ্নের উত্তর দেয়নি পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্তব্য নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা