kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

বগুড়ার কোটিপতি ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা দুদকের নজরদারিতে

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়া জেলায় চাকরি করেছেন ঘুরেফিরে বারবার। হয়েছেন বাড়ি-গাড়ির মালিক। অনেকের একাধিক প্লট-ফ্ল্যাটসহ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক হতে জড়িয়েছেন নানা অপকর্মে। বগুড়ায় বিভিন্ন সময়ে কর্মরত এই ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। চলছে তদন্ত। বৈধ আয়ের চেয়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করে অভিযোগ থেকে বাঁচতে অনেকে সম্পদ রেখেছেন স্ত্রীদের নামে। কেউ বা রেখেছেন আত্মীয়-স্বজনের নামে।

এই ১৩ জনের মধ্যে এরই মধ্যে কয়েকজনের বিষয়ে অনুসন্ধানে অবৈধ আয় ও সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। কয়েকজন ওসিকে স্ত্রীসহ নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য এরই মধ্যে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। দুদক বগুড়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁদের জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই তালিকায় পরবর্তী সময়ে অন্য অভিযুক্তদের নামও আসতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারো কারো বগুড়া জেলায় ঘুরেফিরে চাকরি এক যুগ ছাড়িয়ে গেছে। অনেকের এ জেলায়ই দুই থেকে তিনটি সুউচ্চ ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেকে জায়গা কিনে রেখেছেন বাড়ি করার জন্য। এসব সম্পদ নিজেদের নামে না করে কেউ কেউ করেছেন স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হলেন সানোয়ার হোসেন। তিনি বগুড়া সদর থানার এসআই, শাজাহানপুর থানার এসআই, মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ, সান্তাহার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ শিবগঞ্জ থানায় রয়েছেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিনি বগুড়ায় চাকরি করছেন। শহরের পুলিশ লাইনসের সামনের এলাকায় রয়েছে তাঁর তিনটি ভবন ও সীমানা ঘেরা জায়গা। এ ছাড়া নামে-বেনামে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অংশীদারি থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি অবশ্য বলেছেন, তাঁর জায়গা আছে, বাড়ি করেননি। অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এখন আদমদীঘি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। বগুড়ায়ই চলছে তাঁর প্রায় এক যুগ। দুপচাঁচিয়া থানার এএসআই হিসেবে চাকরি শুরু করে তিনি সেখানে বিয়ে করেন। ধান-চালের ব্যবসাসহ একাধিক চাতাল ও জমি রয়েছে সেখানে। এ ছাড়া বগুড়া শহরের জহুরুলনগর এলাকায় কোটি টাকার ওপরে একটি ছয়তলা ভবনের মালিক তিনি। রাজ্জাক বলেন, বাড়ি অনেক কষ্টে করেছেন। আর বাকি সব তাঁর শ্বশুরের।

আদমদীঘি সার্কেলে ইন্সপেক্টর পদে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম। বগুড়া শহরের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রূপকথা হাউজিংয়ের নবম তলায় দেড় কোটি টাকার এক হাজার ৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর। তিনি নিজে এবং তাঁর স্ত্রী আলাদা প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেন। বগুড়ার সোনাতলা থানার ওসি ছিলেন তিনি। শরিফুল বলেন, ‘চাকরিজীবনের টাকায় এই ফ্ল্যাটটি কিনেছি। এর বাইরে কিছু নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা