kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

হেফাজতে মৃত্যু, ফাঁড়ি ঘেরাও, সংঘর্ষ-গুলি

বুলেটবিদ্ধ পাঁচজনসহ আহত ২০। পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার

রংপুর অফিস   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেফাজতে মৃত্যু, ফাঁড়ি ঘেরাও, সংঘর্ষ-গুলি

প্রতীকী ছবি

আটকের কয়েক ঘণ্টা পর রংপুরের পীরগঞ্জে ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির হাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বুধবার এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। এর মধ্যে বুলেটবিদ্ধ হয়েছে পাঁচজন।

পুলিশ ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় ভেণ্ডাবাড়ী ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক আমিনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম শামছুল হক (৫৫)। তাঁর বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে।

ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, শামছুল হককে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ভেণ্ডাবাড়ী ফাঁড়ি হেফাজতে নেওয়া হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়ির হাজতখানায় তাঁকে গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে তাঁর মরদেহ সেখান থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শামছুলের মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকালে ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিক্ষোভে স্থানীয় লোকজনের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ সময় লাঠিপেটা করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। তখন পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ চলে।

গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শামছুলের মেয়ে সান্ত্বনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকে জ্ঞান হওয়া অবধি দেখে আসছি বাবা বিভিন্ন হাটে ছাগল কেনাবেচা করে সংসার চালাতেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, জীবনে কোনো দিন চোলাই মদের ব্যবসা করেননি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মূলত ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ও পুলিশের সোর্স জিয়া বাবাকে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে চোলাই মদের ব্যবসায়ী বানিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে সারা রাত নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথা বলছে পুলিশ।’

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, শামছুল ইসলাম একজন মাদক কারবারি। ভেণ্ডাবাড়ী ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করে।

ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, সকাল ৯টার দিকেও শামছুলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে গিয়ে দেখেন হাজতের গ্রিলের সঙ্গে গামছা ও পাঞ্জাবি গলায় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর কাছে কোনো টাকাও দাবি করা হয়নি।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আসামির মৃত্যু নিয়ে যেহেতু সন্দেহ রয়েছে, এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা