kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

অন্তঃসত্ত্বা করে বিয়ে, পরে কৌশলে গর্ভপাত

কিশোরীকে গৃহবন্দি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার
মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড, স্বামী গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করে তার আত্মীয়। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে তাকে চাপের মুখে বিয়ে করে সেই আত্মীয়। কিন্তু ৯ দিন আগে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীকে দুধের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিনা চিকিৎসায় তার জীবননাশের শঙ্কা দেখা দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে গৃহবন্দি থেকে গত শুক্রবার মধ্যরাতে তাকে উদ্ধারের পর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়। একই সঙ্গে আটক করে তার অভিযুক্ত স্বামীকে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের উত্তর তারাপাশা গ্রামে। মূল অভিযুক্ত কলেজছাত্র মো. হুমায়ুন (২২) গ্রামটির হাজি মনির উদ্দিনের ছেলে। ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোয় সহায়তার অভিযোগে তার স্বামী হুমায়ুন, শাশুড়ি, দুই ননদসহ ছয়জনকে আসামি করে গতকাল শনিবার মামলা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহাম্মাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোরীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন। দুপুরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

গতকাল সকালে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রসূতি ওয়ার্ডের ৪৫ নম্বর বিছানায় স্যালাইন নিয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে কিশোরীটি। পাশে দুই ভাই বসে আছে। কর্তব্যরত ডা. দেবাশীষ দাস জানান, গর্ভপাতের পর থেকেই মেয়েটি রক্তশূন্যতাসহ নানা জটিলতায় ভুগছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওই কিশোরী, তার পরিবার ও পুলিশ জানায়, মো. হুমায়ুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় বড় ভাইয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়া শ্যালিকার (কিশোরী)। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরীক সম্পর্ক করে হুমায়ুন। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে বিয়ে করতে হুমায়ুনকে চাপ দেওয়া হয়। হুমায়ুন বিয়ে করতে রাজি হয়নি। প্রায় এক মাস আগে সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্তে চার লাখ টাকা দেনমোহরে কিশোরীটির সঙ্গে হুমায়ুনের বিয়ে হয়। মেয়েটি জানায়, বিয়ের পর থেকেই তাকে হুমায়ুনের পরিবারের লোকজন নষ্টা মেয়ে বলে অপবাদ দিতে থাকে। মানসিক নির্যাতন করে। একসময় হুমায়ুনের পরিবার হুমকি দেয়, আগত সন্তানকে হাসপাতালে গিয়ে নষ্ট না করলে এই কিশোরী বধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে। এতে সে রাজি না হলে প্রতিদিনই তাকে ব্যাপক মারধর করে পরিবারটির লোকজন। গত ১ আগস্ট হুমায়ুনের বড় বোন পারভিন আক্তার তার (কিশোরী) শরীর দুর্বল বলে এক গ্লাস দুধ এনে খেতে দেন। দুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরিবারের কেউ যাতে দেখা করতে না পারে সে জন্য বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখা হয়।

ওসি মনসুর আহাম্মাদ জানান, অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য