kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

বিরল বালুুবোরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া    

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরল বালুুবোরা

বগুড়ায় বিরল প্রজাতির একটি সাপ উদ্ধার করেছে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ-তীর। সদর উপজেলার শেখেরখোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকায় একটি পটোলক্ষেত থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

তীরের সভাপতি আরাফাত রহমান জানান, মহিষবাথান এলাকায় এক কৃষক তাঁর পটোলক্ষেতে কাজ করার সময় সাপটি দেখে হাতে থাকা অস্ত্র্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে সেটি অজগরের বাচ্চা মনে করে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ডালিম সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তা দেখে তীরের সদস্যরা সেখানে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে।

এরপর তীরের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তা নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে সাপটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করা হলেও সঠিক প্রজাতি কী তা নির্ণয়ে সন্ধিহান থাকায় সাপ ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রজাতি নির্ণয়ের জন্য ছবি পাঠানো হয়। সাপ গবেষক আবু সাঈদ এটিকে মাঝারি বালুুবোয়া বা বালুুবোরা/পরিচিত বালুুবোয়া বা বালুুবোরা (Rough Scaled sand boa/common sand boa) বলে উল্লেখ করেন।

পরে বিভিন্ন গবেষকের সঙ্গে কথা বলে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেনে আরাফাত রহমান জানান, এই সাপটি একটি পরিচিত বালুুবোয়া বা বালুুবোরা (common sand boa)। এটিকে বেবি পাইথনও বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ongylophis conicus. এটি দেখতে অনেকটা অজগর ও রাসেল ভাইপারসের মতো। লেজ মোটা ও ভোঁতাকৃতির। লম্বায় ২৩ ইঞ্চি।

আরাফাত রহমান বলেন, এটি একটি বিলুপ্ত প্রজাতি, যা এর আগে বাংলাদেশে দেখা যায়নি। সাধারণত ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, ভারত শ্রীলঙ্কায় এই সাপ পাওয়া যায়। বালুুময় নদী এলাকায় বাস করে। বাংলাদেশে এই বালুবোরা সাপের বিস্তৃতি নিয়ে কোনো রেকর্ড নেই।

তীরের সংগঠকরা জানান, সাপটির পেটে দুই জায়গায় জখম রয়েছে। আহত হওয়ায় আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসক ড. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান এটিকে বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির সাপের ষষ্ঠ রেকর্ড বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী ড. আলী রেজা খান সুন্দরবন ও যমুনা নদী এলাকায় এর উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

তীরের উপদেষ্টা সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, যতটুকু জানা যায়, পরিচিত বালুবোরা (common sand boa) বাংলাদেশের একটি বিরল প্রজাতি। কিভাবে এটি ওই এলাকায় এলো, নাকি আগে থেকেই ছিল তা নিয়ে গবেষণা কিংবা গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।

তীরের সভাপতি আরাফাত রহমান বলেন, ‘যেহেতু আমরা বন্য পাণী সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি এবং আমাদের বিষয় সংশ্লিষ্ট, তাই আমরা পরবর্তী সময়ে এই সাপ নিয়ে কাজ করব।’

তিনি জানান, বালুবোরা শাপ ডিমের পরিবর্তে বাচ্চা প্রসব করে। এই সাপ সাধারণত নিশাচর প্রকৃতির হলেও দিনে চলাচল ও শিকার করে। এটি একটি নির্বিষ সাপ ও শান্ত স্বভাবের। তাই এটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সাপটি সুস্থ হলে প্রকৃতিতে মুক্ত করা হবে।

২০১১ সাল হতে পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে তীর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা