kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

পৌর কর্মচারীদের আন্দোলন

দুই পক্ষই অনড় জনভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই পক্ষই অনড় জনভোগান্তি

ছবি : কালের কণ্ঠ

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও রাজস্ব খাত থেকে শতভাগ বেতন দেওয়ার দাবিতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত আছে। এতে দুর্বিষহ জনভোগান্তিও বেড়েছে। তবে আন্দোলনকারী ও স্থানীয় সরকার দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, পৌর কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করবে পৌরসভা। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেছেন, তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি সচিবালয় ঘেরাও এবং আমরণ অনশন।

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে পৌরসভাগুলোর মেয়রদের সংগঠন ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন’।

গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে হৃদরোগে মারা গেছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সচিব মোবারক হোসেন।

দেশের ৩২৮ পৌরসভায় স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ১২ হাজার। আর অস্থায়ী কর্মচারী আছে ২০ হাজার। পৌরসভাগুলোতে দুই থেকে ৭৮ মাস পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া। বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হলে ৬৯২ কোটি টাকার প্রয়োজন। এ ছাড়াও চাকরি শেষে অবসরে যাওয়া ৭৫০ জন কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করতে প্রয়োজন ১২০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেতন বকেয়া বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভায় ৭৮ মাস। এরপরই আছে ভোলার লালমোহন পৌরসভায় ৬৬ মাস। এ ছাড়া নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভায় ৪৪ মাস, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় ২২ মাস, রাজবাড়ী পৌরসভায় ১৫ মাস।

পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের হিসাব মতে দুই থেকে ৭৮ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া ১৮টি পৌরসভায়, ১১ থেকে ২০ মাস বেতন বকেয়া ৩৮টিতে, ছয় থেকে ১০ মাস বেতন দেওয়া হচ্ছে না ৫১টিতে এবং এক থেকে পাঁচ মাস বেতন বাকি ১২০ পৌরসভায়। নিয়মিত বেতন পায় মাত্র ৩৩টি পৌরসভার কর্মচারীরা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৌরসভা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পৌরসভাই পরিশোধ করবে, এ ভিত্তিতেই পৌরসভা গঠিত হয়েছে।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পৌর কর্মচারীদের প্রতি আমার মানবিক অনুভূতি থাকলেও আমি তো আইনের অধীনে চালিত।’ পৌরসভাগুলো কেন বেতন দিতে পারছে না সে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পৌর কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ ৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।

পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল আলীম মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যমান আইনেই আমাদের বকেয়া বেতনসহ সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের সঙ্গে মন্ত্রী মহোদয় বসলে আমরা সে পথ দেখাতে পারি। তবে সমস্যা হলো মন্ত্রী মহোদয় তো আমাদের সঙ্গে বসার কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ২০ হাজার নারী-পুরুষ সড়কে অবস্থান করছি। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। একজন মারা গেছেন।’ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবদুল আলীম বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি সচিবালয় ঘেরাও এবং আমরণ অনশন।’

জনভোগান্তি চরমে : পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে নাগরিক সেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে পৌরবাসী। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন কাজে গিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে তাদের।

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার সচিব সিরাজুম মনিরকে উদ্ধৃত করে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ‘কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন দুই-তিন শ লোক নানা কাজে এসে ঘুরে যাচ্ছে। মূলত পৌরসভার সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।’

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, পৌরসভার টিকাদান কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বনপাড়া ও বড়াইগ্রাম পৌর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে গেছে। পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করছে। বনপাড়া পৌর বাজারের বইয়ের দোকান ইউনিক লাইব্রেরির মালিক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দোকানের সামনে ময়লা স্তূপ জমে যাওয়ায় বসা যাচ্ছে না। ক্রেতাও আসছে না।’

মন্তব্য