kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

রাজাকার আলবদর আলশামস

পুরনোটির হদিস নেই, উদ্যোগ নতুন তালিকার

জামুকা আইন সংশোধন করার কাজ চলছে

নিখিল ভদ্র   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরনোটির হদিস নেই, উদ্যোগ নতুন তালিকার

স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হয়েছে বেশ কয়েকবার। বিভিন্ন সময় সরকারগুলো নিজেদের মতো করে তালিকা বানানোয় তা নিয়ে বিতর্কও আছে। বিভিন্ন মহলের দাবি ছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের তালিকা করার। ওই দাবি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে ঘোষণাও ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিল। ১৯৯৭-৯৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের কোলাবরেটর শাখা পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করেছিল ৪৪ হাজার রাজাকার, আট হাজার আলবদর এবং তিন হাজার আলশামসের। এরই মধ্যে ওই তালিকার খোঁজ করা হলেও তার হদিস পাওয়া যায়নি। কিন্তু ওই তালিকার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের তালিকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা করতে হবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের অধীনে। কিন্তু বিদ্যমান আইনে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের বিধান আছে। সে ক্ষেত্রে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা করতে হলে আইনে সংশোধনী আনতে হবে। এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজাকার, আলবদরসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশের জন্য জামুকার বিদ্যমান আইনে সংশোধনী প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার পাশাপাশি রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা করার বিষয়টি আলোচিত হয়। সেখানে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য বিদ্যমান জামুকা আইন সংশোধনের কথা জানানো হয়েছে। আইনটি সংশোধনের পর বিদ্যমান বিধিমালায় কোনো সংশোধনীর প্রয়োজন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আইন সংশোধনের সময় সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৭-৯৮ সালে রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ওই সব নথি গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে যথাযথ উদ্যোগ নিলে এসংক্রান্ত সব তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করেন ওই সময় রাজনৈতিক অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে দায়িত্ব পালনকারী ও বর্তমানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইফতেখারুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা পর্যায়ে রাজাকাররা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছ থেকে বেতন-ভাতা নিত বিধায় প্রতিটি জেলায় তাদের তালিকা রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গণপরিষদে নির্বাচিত সদস্যদের আসন শূন্য ঘোষণা করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাঁদের সদস্য করা হয়েছিল তাঁদেরও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিষয়ে তথ্যসংবলিত নথিগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য