kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাদকাসক্ত ছেলের লাশ ঘরে পুঁতে পালালেন মা-বাবা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদকাসক্ত সন্তান জসিম উদ্দিন (২০) বিষিয়ে তুলেছিলেন মা-বাবার জীবন। একপর্যায়ে সেই সন্তানকে হত্যা করে লাশ বসতঘরেই পুঁতে রেখে পালিয়ে গেছেন মা-বাবা। ১১ মার্চ রাতের ওই ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের উরাহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। পেশায় অটোচালক জসিম উদ্দিন একই গ্রামের মুরগি ব্যবসায়ী সুলতান মিয়ার ছেলে। মায়ের নাম সুফিয়া বেগম। খবর পেয়ে বাবার বসতঘরের মাটি খুঁড়ে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধারের সময় লাশের গলায় রশি পেঁচানো ছিল। ওই ঘটনায় গতকাল ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।  

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জসিম উদ্দিন বেশ কয়েক বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মা-বাবার ওপর নির্যাতন চালাতেন। নেশার জগৎ থেকে ফেরাতে বছর দুয়েক আগে পাশের বিরুনিয়া গ্রামে তাঁকে বিয়ে করানো হয়। এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাঁর।

জানা যায়, গত সোমবার রাতে মাদকের টাকার জন্য মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন জসিম। একপর্যায়ে টাকার জন্য জসিম তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। এ সময় সুলতান মিয়া ছেলেকে হত্যা করে লাশ নিজের বসতঘরে চৌকির নিচে মাটিতে পুঁতে রাখেন। পরদিন মঙ্গলবার সুলতান মিয়া ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভাতিজা জমির হোসেনের কাছে গিয়ে ছেলেকে হত্যার বিষয়টি জানান। পরে জমির হোসেন মোবাইল ফোনে ঘটনাটি নিহত জসিম উদ্দিনের বড় ভাই (সৎ) আমীর হোসেনকে জানালে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ অন্যদের বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ গতকাল ওই বাড়িতে যায়। ঘরে চৌকির নিচে কিছু অংশ নতুন করে মাটি দিয়ে লেপাপোছা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে ওই স্থানের মাটি খুঁড়ে জসিমের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আমীর হোসেন ভালুকা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তাঁর বাবা সুলতান মিয়া, বিমাতা সুফিয়া বেগম ও সহোদর আলমগীর হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনার পর থেকে পলাতক।

মোবাইল ফোনে জমির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, “মঙ্গলবার রাইতে চাচা আমার কাছে আইয়া কইছে, ‘আমি আমার পুতেরে মাইরা ফালাইছি।’ আমি তাঁরে কইছি, আমনহে এইডা কি কইন! তাড়াতাড়ি গেয়া পুলিশেরটাইন আত্মসমর্পণ করুন। পরে হে আমার কাছ থাইক্যা চইলা গেছে। এর পরে আমি মোবাইল কইরা বিষয়ডা তাঁর পুলাপানেরে জানাইছি।” 

ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে আমীর হোসেন জানান, চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি মোবাইলে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় তাঁর বাবা তাঁকে জানান, জসিম উদ্দিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে আসে এবং টাকার জন্য মা-বাবাকে চাপ দেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি তাঁদের মারতে উদ্যত হন। ওই সময় শাসন করার জন্য ঘরে থাকা কুড়াল দিয়ে আঘাত করলে জসিম মারা যান। লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাবা তাঁকে জানান। একপর্যায়ে বলেন, ‘জসিমের লাশ বাড়ির আশপাশেই আছে।’ আমীর হোসেন বলেন, জসিম মাদকাসক্ত হওয়ায় মাস তিনেক আগে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম জানান, লাশের গলায় রশি পেঁচানো ছিল। তবে গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহতের মা-বাবা ও সত্ভাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা