kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

কুয়াশায় তিন দিনে সাড়ে ৯ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ

টিকিট কাউন্টার ঘিরে ফের সক্রিয় দালালচক্র

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি    

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকে। এ সময় গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে মাঝনদীতে আটকে ছিল ছোট-বড় দুটি ফেরি। এ নিয়ে গত তিন দিনে ঘন কুয়াশায় এই নৌপথে মোট সাড়ে ৯ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকল।

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ঢাকাগামী শত শত গাড়ি। টার্মিনালের বিশাল পার্কিং ইয়ার্ড উপচে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার ফোর লেন রাস্তার এক পাশে বাস, অন্য পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে বিআইডাব্লিউটিসির ফেরির টিকিট কাউন্টার ঘিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দালালচক্র। টিকিট কেনার পাশাপাশি সিরিয়াল ভেঙে দ্রুত ফেরি পারাপার করার কথা বলে তারা ট্রাকচালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, ট্রাক দালাল না ধরলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির টিকিট মেলে না।

গতকাল দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালের বিশাল পার্কিং ইয়ার্ড ট্রাকে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আর ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের চার কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তার এক পাশে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, অন্য পাশে বাসের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আছে। এ সময় চালকসহ ঘাট শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়িসহ যাত্রীরা ফেরি পারাপার হয়। সেখানে বহরে থাকা বেশির ভাগ ফেরি বহু বছরের পুরনো। সার্বক্ষণিক চালাতে গিয়ে ইঞ্জিন সমস্যাসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে তিন দিনে ৯ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকল। এতে দৌলতদিয়ায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকছে। যানজটের ‘সুযোগে’ ফেরির টিকিট কাউন্টার ঘিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী দালালচক্র। ভুক্তভোগী ট্রাকচালকদের অভিযোগ, বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কাউন্টার থেকে প্রতিটি ট্রাকের ফেরি পারাপারে নির্ধারিত টিকিট মূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি দালাল না ধরলে কাউন্টার থেকে কোনো ট্রাকচালকের কাছে সরাসরি টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। ট্রাকচালকরা বলছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু না হওয়া পর্যন্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুতেই কমবে না বলে ঘাটসংশ্লিষ্ট অনেকেই জানিয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্র জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া হচ্ছে প্রতিটি সাধারণ ট্রাক এক হাজার ৬০ টাকা, বড় আকারের ট্রাক এক হাজার ৪৬০ টাকা। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে ট্রাকে বেশি মাল বহন করলে অতিরিক্ত ওজনের জন্য টনপ্রতি ১২০ টাকা হারে মূল টিকিট মূল্যের সঙ্গে যোগ করা হয়। এ জন্য ডিজিটাল ওয়েস্কেলের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রাকের সঠিক ওজন পরিমাপ করা হচ্ছে। স্কেল থেকে দেওয়া ওজন স্লিপ অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকের ফেরি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম টিকিট কাউন্টার ঘিরে দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে কে কী করছে তা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়।’ সরকার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে ট্রাকের ফেরি ভাড়ার অতিরিক্ত এক টাকাও আদায় করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা