kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সেবা সপ্তাহ শুরু

প্রাণিসম্পদের জন্য প্রযুক্তির পসরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মানুষের রোগ শনাক্ত করতে, প্রসূতির গর্ভের সন্তানের অবস্থা জানতে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে ছুটতে হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। গবাদি পশুর ক্ষেত্রেও এমনটাই চলছিল। কিন্তু মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থাকে টপকে বর্তমানে দেশে গবাদি পশুর চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক পোর্টেবল আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। রোগাক্রান্ত গবাদি পশু নিয়ে এখন আর মালিককে পশু হাসপাতালে যেতে হবে না। ছোট্ট ব্রিফকেস আকৃতির যন্ত্রটি সহজে চিকিৎসকরা নিয়ে যেতে পারবেন পশুর খামারে।

আবার পোল্ট্রি খামারে হাঁস বা মুরগির বাচ্চার ভেকসিনেশনের জন্য লাগত দীর্ঘ সময়। অনেকটা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এক হাজার বাচ্চাকে ভেকসিন দিতে সময় লাগত চার-পাঁচ ঘণ্টা। বর্তমানে নতুন প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় এক হাজার বাচ্চাকে ভেকসিন দেওয়া যাবে।

শুধু এই দুটি উদাহরণ নয়, পশু চিকিৎসায় এমন আরো অনেক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি নিয়ে রাজধানীর খামারবাড়ীতে পসরা বসেছে। প্রাণিসম্পদ নিয়ে এই মেলা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। তিন দিনের এই মেলায় কোনো ধরনের প্রাণীর প্রদর্শনী না থাকলেও প্রাণিসম্পদের সঙ্গে যুক্ত দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেয় প্রাণিসম্পদের চিকিৎসা ও লালনপালনের রকমারি যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও ওষুধের সমাহার। অবশ্য মেলায় ডিম দিয়ে সাজানো পিরামিড সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাশাপাশি মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে  গবাদি পশুর বৈচিত্র্যময় খাবার। ৮৫টি স্টলে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। ‘প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০১৮’ উদ্যাপন  উপলক্ষে দেশজুড়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেবা সপ্তাহের এবারের  স্লোগান—‘বাড়াব প্রাণিজ আমিষ, গড়ব দেশ—স্বাস্থ্য মেধা সমৃদ্ধির বাংলাদেশ’। গতকাল সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গবাদি পশুর আধুনিক  রোগ নির্ণয়,  রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন, প্রাণিপুষ্টি উন্নয়ন, উন্নতজাতের ঘাস চাষ এবং উপযুক্ত প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণের ফলে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। গত ৯ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিজস্ব গবেষণাগারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে ১৭ ধরনের টিকা তৈরি করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা