kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

শরীয়তপুরে একটি ইজি বাইককে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় স্পেনপ্রবাসী এক যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতন এবং তাঁকে ইয়াবা ও জাল টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, শামীম শিকদার নামের ওই যুবককে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি প্রথমে র‌্যাব অস্বীকার করে। কিন্তু সিসিটিভি দেখে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় র‌্যাব সদস্যদের চিহ্নিত করলে আটকের কথা স্বীকার করা হয়।

তবে র‌্যাব বলেছে, অভিযোগ সত্য নয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে ক্যাম্পে আনা হলে তাঁর কাছে ইয়াবা ও জাল টাকা পাওয়া যায়। ওই যুবকের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের এবং তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শামীম শিকদার শরীয়তপুর পৌর সদরের তুলাসা এলাকার খালেক শিকদারের ছেলে। তিনি ১৫ বছর ধরে স্পেনে বসবাস করছেন। এক মাস আগে তিনি দেশে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শরীয়তপুর শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজি বাইককে ধাক্কা দেন সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্যরা। ওই সময় মোটরসাইকেলচালক মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তখন ইজি বাইকের যাত্রী ছিলেন শরীয়তপুর জজকোর্টের এপিপি পারভেজ রহমান জন। ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় যাত্রী পারভেজ ও স্থানীয় কয়েক যুবক প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে শহরের রাজগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে ৮-১০ জন লোক শামীম শিকদার নামের এক যুবককে মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত শামীমের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় থানার পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। তখন শামীমকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি র‌্যাব। পরে ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গণমাধ্যমকর্মীরা নিশ্চিত হন, র‌্যাব সদস্যরাই শামীমকে তুলে নিয়েছেন। এরপর সিসিটিভির বিষয়টি মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পে জানানোর কিছুক্ষণ পর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে র‌্যাব জানায়, শামীম শিকদারকে ইয়াবা ও জাল টাকাসহ আটক করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে র‌্যাব-৮-এর উপসহকারী পরিচালক শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় শামীম শিকদারকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাঁকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটক শামীমের মা সালেহা বেগম বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আমার ছেলে স্পেন থাকে। তাকে অহেতুক র‌্যাব সদস্যরা ধরে নিয়ে অমানবিক অত্যাচার করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি মিথ্যা মামলার বিচার চাই। ’

শরীয়তপুর জজকোর্টের এপিপি পারভেজ রহমান জন বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি যাচ্ছিল। চালক মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। এমন অবস্থায় তারা একটি ইজি বাইককে ধাক্কা দেয়। আমরা বিষয়টির প্রতিবাদ করি। তখন সেখানে উপস্থিত শামীম শিকদারও প্রতিবাদ করেন। রাত ৮টার দিকে খবর পাই র‌্যাব পরিচয়ে শামীমকে তুলে নেওয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি থানায় ছুটে আসি, র‌্যাব ক্যাম্পে যোগাযোগ করি। রাত ১০টা পর্যন্ত কেউ শামীমের সন্ধান দিতে পারেনি। তখন আমি রাত ৯টার দিকে পালং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। ’

গতকাল সকালে থানায় বসে শামীম শিকদার বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে স্পেনে আছি। ৬ ডিসেম্বর দেশে আসি। দুই মাস পর ফিরে যাওয়ার কথা। র‌্যাবের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে আমাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। রাতে ক্যাম্পে নিয়ে আমার চোখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ইয়াবা ও জাল টাকা দিয়ে এখন আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, সকালে র‌্যাব এক যুবককে থানায় নিয়ে আসে। তাঁর সঙ্গে ১০০টি ইয়াবা ও ১০ হাজার টাকার জাল নোট পাওয়া গেছে এবং সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগের একটি এজাহার দিয়েছে। শামীম শিকদারের বিরুদ্ধে মাদক বা অন্য কোনো মামলা এ থানায় নেই।

র‌্যাব-৮-এর মাদারীপুর ক্যাম্পের পরিচালক মেজর সোহেল রানা বলেন, ‘শামীম নামের ওই যুবক মাদকাসক্ত ছিল। সে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তাতে একজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছে। তাকে আটক করে ক্যাম্পে আনা হলে তার প্যান্টের পকেটে ১০০টি ইয়াবা ও ১০ হাজার টাকার জাল নোট পাওয়া যায়। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন চালানো হয়নি। ’



সাতদিনের সেরা