kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ছিটমহলবাসীর দুই দেশেই যাতায়াত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত

ওমর ফারুক   

১৫ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিটমহলবাসীর দুই দেশেই যাতায়াত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত

গতকাল কালশী ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছিটমহল, অপদখলীয় ও অচিহ্নিত-এই তিন ধরনের ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের মানচিত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আসছে। দুই দেশেরই নতুন মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে দুই দেশ চূড়ান্ত অনুমোদন করবে। আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাতের মধ্যে ছিটমহল হস্তান্তর করতে যাচ্ছে দুই দেশ। এরই মধ্যে দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছিটমহলের বাসিন্দারা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এরপর তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এদিকে স্থল সীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থন দলিল সই হওয়ার পর দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিতে শুরু করেছে ছিটমহলবাসীকে। আগামীকাল মঙ্গলবার এসব বিষয় নিয়ে কলকাতায় বৈঠক করতে যাচ্ছেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, নতুন মানচিত্র, ছিটমহলবাসীকে নাগরিকত্ব দান, যৌথভাবে ছিটমহল পরিদর্শন, ছিটমহলবাসীর আবাসনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হবে কলকাতার বৈঠকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ছিটমহল হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে আগেই। কলকাতার সভায় ঠিক করা হবে কবে যৌথভাবে ছিটমহলে যাওয়া হবে। ছিটমহলবাসীর ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে তাদের আবাসনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ওই বৈঠকে। দুই দেশের নতুন মানচিত্রে কোনো ভুল রয়েছে কি না সেসব বিষয়েও আলোচনা হবে।

ওই কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এরই মধ্যে দুই দেশের সংশোধিত মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোর প্রিন্ট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। আরো আলোচনা হবে।'

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে ১০ সদস্যর প্রতিনিধিদল কলকাতায় যাচ্ছে আজ সোমবার। প্রতিনিধিদলে থাকছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার দেলোয়ার বখত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শফিকুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) তারিক মো. আরিফুল ইসলাম, ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন, বিজিবির কর্নেল মো. নজরুল ইসলাম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিউল আলম, ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস হোসেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালক মো. জাহিদুল হক সরদার। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় ছিটমহলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ কর্মকর্তারা আলোচনা করে ছিটমহলে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া যায় সেসব বিষয় ঠিক করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার ওসি রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে জানান, পাটগ্রাম থানার অধীনে ৫৫টি ছিটমহল পড়েছে। চুক্তি অনুমোদন হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা