২৩ নভেম্বর শনিবার আরব সাগরের তীরে ভারতের আরেকটি অঙ্গরাজ্য মহারাষ্ট্রে মধ্যরাতে মহানাটক এরই মধ্যে বিশ্ব জেনে গেছে। সারা ভারতবর্ষের বিজেপিবিরোধী সব অরাজনৈতিক দল স্লোগান তুলেছে—ছিঃ ছিঃ মোদি-অমিত শাহ, এই কী আপনাদের গণতন্ত্র। আপনারা কোন মুখে আর বিশ্বের দরবারে গিয়ে বুক ফুলিয়ে বলবেন, ভারতই বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র। বিশিষ্ট আইনজীবীরা টেলিভিশনের পর্দায় সাক্ষাৎকারে বারবার বলছেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পর চতুর গুজরাটি ব্যবসায়ীদ্বয় মোদি ও অমিত শাহ আরব সাগরে ভারতবর্ষের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে দিলেন। মহারাষ্ট্রে মধ্যরাতে ঘটল এমন এক মহানাটক। এই মহানাটক নিয়ে জাতিসংঘের সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল শশী থারু তাঁর বিচিত্র শব্দভাণ্ডার থেকে দুই বছর আগে ব্যবহার করা একটি শব্দ ফিরিয়ে এনেছেন। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহানাটক দেখে তাঁর শব্দবাণ SNOLLYGOSTR. তিনি নিজেই টুইটারে বলেছেন, ১৯ শতকের মার্কিন ভাষায় এই শব্দের অর্থ—ধূর্ত, নীতিহীন ও দুর্নীতিপরায়ণ। যুক্তরাষ্ট্রে এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৮৪৫ সালে। তিনি সেই শব্দটি আবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ সালে টুইট করে ভারতবাসীকে সজাগ করে দিলেন। শুধু মহরাষ্ট্রে মহানাটকই নয়, একই কায়দায় সাড়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তাঁরা অরুণাচল, মণিপুর, মেঘালয়, গোয়া ইত্যাদি রাজ্যে গেরুয়া বাহিনী সংখ্যালঘুদের কিনে নিয়েছে। গত রবিবার ছুটির দিনে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খুলে মহারাষ্ট্রের ঘঈচ (শারদ পাওয়ারের দল), শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরের দল), এ দুটি আঞ্চলিক দল আর সর্বভারতীয় কংগ্রেস—এই তিন দল জোট গঠন করে সরকার গঠন যখন প্রায় পাকা করে ফেলেছে, ঠিক সেই সময় কী কী ঘটেছিল একবার তা দেখা যাক। শুক্রবার মুম্বাই শহরে কী কী ঘটেছে। রাত ৭.৩০ : জোটের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব বলেন শারদ পাওয়ার। ৮.১৫ : চূড়ান্ত রূপরেখা শিগগিরই জানাল কংগ্রেস সেনা। ১০টায় মোবাইল বন্ধ করেন অজিত পাওয়ার। ১১টায় সরকার গঠনে উদ্যোগ নিতে নির্দেশ বিজেপি নেতৃত্বের। ১২টায় ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের সকালে রাজভবনে উপস্থিত থাকার বার্তা দিলেন অজিত। ২টায় সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজভবনে ফড়নবিস। শনিবার ভোর ৫.৩০ : ফড়নবিস ও অজিত রাজভবনে। ৫.৪৭ : রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার। সকাল ৬টায় শপথ গ্রহণ। ৮.১৬ : অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদির টুইট। ৮.৩৭ : টুইট করে অভিনন্দন অমিত শাহর। ১০.৩৫ : কংগ্রেসের বৈঠক। দুপুর ১২.৩০ : শারদ-উদ্ধবের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক। বিকেল ৪.৩০ : এনসিপি বিধায়ক দলের বৈঠক শুরু। বিকেল ৪.৪০ : দিল্লি গেলেন এনসিপির কিছু বিধায়ক। রাত ৮টায় সুপ্রিম কোর্টে শিবসেনা জোট। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় শুনানি। ভারতের স্বাধীনতার পর নতুন ভারত গঠনের জন্য জওয়াহেরলাল নেহরু মন্তব্য করেছিলেন—আধুনিক ভারতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো মন্দির। আর মোদি-অমিত শাহর সময় মন্দির হলো দেশের নানা জায়গায় পাঁচতারা হোটেলগুলো। যেখানে বসে কোটি কোটি টাকায় নির্বাচিত বিধায়ক কেনাবেচা করে আসছে মোদি সরকার গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে। সেখানে অপমৃত্যু ঘটছে ভারতের গণতন্ত্রের। শিবসেনার সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত, এনসিপির শারদ পাওয়ারের দলের নেতা অজিত প্যাটেল, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা অশোক চৌহান তাঁদের দলের বিধায়কদের ৮০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, এমনকি রবিবার মুম্বাই শহরের একটি হোটেলে যখন শারদ পাওয়ারের দল এনসিপির বিধায়কদের কেনার জন্য টাকাসহ প্রবেশ করেছিলেন, তখন তাঁকে হাতেনাতে ধরে উত্তম-মধ্যম দিয়ে তারা আটকে রাখে। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় ২৮৮ সদস্যের মধ্যে ১৪৫ জন যেদিকে থাকবেন সেই দলই সরকার গঠন করতে পারবে। এটাই গণতন্ত্র ও ভারতের সংবিধানের নিয়ম। কিন্তু বিজেপির আসনসংখ্যা হলো ১০৫। শারদ পাওয়ারের ভাইয়ের ছেলে কাকা ও কাকার দলকে ঠকানোর জন্য এনসিপির ৫৪ বিধায়কই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। মারাঠি লেখা ও সই নকল করা, তাঁদের মধ্যরাতে রাজ্যপালের কাছে পৌঁছে দেন শারদ পাওয়ারের ভাইপো। রবিবারই শারদ পাওয়ার এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ৫৪ জন নির্বাচিত বিধায়কের সই জাল করেছেন তাঁর ভাইপো। দীর্ঘকালের মহারাষ্ট্রে স্ট্রং ম্যান বলে পরিচিত শারদ পাওয়ার এবার ভাইপোকে ছেড়ে কথা বলবেন না। মুম্বাইয়ের রাজনৈতিক মহলের খবর হলো, অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস ও অমিত শাহর নির্দেশে এই ২৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাইপো পেছন দিক থেকে কাকাকে ছুরি মারার গোপন চক্রান্ত বিজেপির সঙ্গে করে আসছিলেন। মোদি-অমিত শাহ দুজনেই উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজিত পাওয়ারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াল—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য বিরোধী কোনো দলকে ক্ষমতায় থাকাকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সরকার গঠন করতে দেবেন না। যেমন দেননি উপরোক্ত ছয়টি রাজ্যকে। কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা মনে করেন, এই অসাংবিধানিক কাজের জন্য গেরুয়া বাহিনীর নেতারা মিস্টার রামের নামে শপথ নিয়েছেন। ২৯টি রাজ্যের রাজ্যপালদের নিয়োগ করা হয়েছে নাগপুরের আরএসএসের সদর দপ্তর থেকে। তাই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালও ভুলে গেছেন যে তাঁর রাজভবনটি ঠিক আরব সাগরের গায়ে। এবার দেখা যাক সেই অভিশপ্ত শনিবারে কী ঘটেছিল—কী বলা যাবে এই ঘটনাকে? নাটক? মহানাটক! নাকি নজিরবিহীন মহানোংরামি। আজ সকাল না হতেই ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ে যে ঘটনা ঘটল তা শুধু ভারতবর্ষে, বিশ্বের সংসদীয় ইতিহাসে তার কোনো নজির নেই। গতকাল শেষ রাত পর্যন্তও গোটা মহারাষ্ট্রবাসী এ কথা জেনেই ঘুমাতে যায় যে পরদিন সকালে এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থনে রাজ্যের সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালের কাছে দাবি জানাতে যাবেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। সে জন্য রাজ্যপালের কাছে আজ সকালের জন্য ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ও চেয়ে রাখা হয়েছিল ওই তিন দলের পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে উদ্ধব ঠাকরেকে মুখ্যমন্ত্রী করে রাজ্যে তিন দলের অবিজেপি সরকার গঠনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে একটি কাগজে সই করে দেন শারদ পাওয়ারের দল এনসিপির ৫৪ জন বিধায়কের সবাই। দলীয় বিধায়কদের স্বাক্ষরসংবলিত সেই কাগজটি ছিল শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের কাছে। কথা ছিল পরদিন শনিবার সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় এনসিপির তরফে প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে থাকবেন তিনিই। কিন্তু গোটা রাজ্যবাসী সকালে ঘুম ভেঙেই দূরদর্শন মারফত শুনতে পায় এক অবিশ্বাস্য সংবাদ। তা হলো, এদিন সকাল ৮টায়ই নাকি রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস এবং সেই সঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অজিত পাওয়ার। যাবতীয় সংসদীয় প্রথা ও শিষ্টাচারকে নস্যাৎ করে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে প্রথামাফিক যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিধি, সেসবের কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে মিডিয়া মারফত প্রচার করে দেওয়া হয় অজিত ও ফড়নবিসের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের খবর। উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফড়নবিস। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, মহারাষ্ট্রে চলছিল রাষ্ট্রপতি শাসন। এদিন ভোরে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরেই রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি জানান, রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফড়নবিস ও অজিতকে টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কত বড় নিম্ন রুচির রাজনৈতিক নোংরামির মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটানো হয় তা স্পষ্ট হয়ে যায় ওই দিন দুপুরের আগেই। তাতে তখন পর্যন্ত যা স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো অজিত পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করানো হলেও তাঁর সঙ্গে এনসিপির বিধায়কদের মধ্যে আদৌ কেউ যোগ দিচ্ছেন বলে কোনো খবর নেই। এমনকি অজিত পাওয়ারের বা বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়নি কতজন এনসিপি বিধায়ক সরকার গঠনে বিজেপিকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। উল্টো সব রকম বিভ্রান্তির অবসানকল্পে ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মুম্বাইয়ে শিবসেনাপ্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে পাশে বসিয়ে এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার ঘোষণা করেন অজিত পাওয়ারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর দল অর্থাৎ এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বেশ জোরের সঙ্গে হলফ করেই দাবি করেন, আগের দিন রাতে দলের যে ৫৪ জন বিধায়ক শিবসেনাপ্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে সমর্থনের কথা বলে অঙ্গীকারপত্রে সই করে দিয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁদের পূর্বসিদ্ধান্তে অটল। দলের কোনো বিধায়কই বিজেপির দিকে শিবির বদল করছেন না। তবে এই সঙ্গে একটি তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন শারদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বলেন, ‘দল ভাঙল, পরিবারটাও ভাঙল।’ তবে ভাইপো অজিত পাওয়ার বিজেপি শিবিরে চলে যাওয়ার ফলে পরিবার ভেঙে যাওয়ার কথাটা যতটা যথার্থই হোক না কেন, দল ভেঙে যাওয়া কথাটির তাৎপর্য এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ তখন পর্যন্ত এনসিপির অজিত পাওয়ার বাদে কোনো নির্বাচিত বিধায়ক নিজ মুখে বলেননি যে তাঁরা সরকার গঠনে বিজেপিকে সমর্থন করছেন। অথবা শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিতও দাবি করেননি দলের কতজন বা কোন কোন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে আছেন। বলা বাহুল্য, তেমন কোনো দাবি করা হয়নি বিজেপির পক্ষ থেকেও। শারদ পাওয়ার ওই দিন বলেছেন, ‘আমরা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করব। যাঁরা সত্যিকারের এনসিপি কর্মী, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেবেন না।’ তিনি আরো বলেন, বিশ্বাসঘাতকতা করে বিধায়কদের রাজভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। নেতার বক্তব্যের সমর্থনে এনসিপি বিধায়ক রাজেন্দ্র শিনগানে জানান, আগাম না জানিয়েই রাজভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন পাওয়ার। গিয়ে জানতে পারলাম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেছি। ওখান থেকে সোজা শারদ পাওয়ারের কাছে চলে আসি। পাওয়ার জানান, কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি বৈঠকে যেসব বিধায়ক ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের স্বাক্ষর ছিল একটি চিঠিতে। সেই চিঠিই সম্ভবত রাজ্যপালকে দেখিয়ে সরকার গঠনে সম্মতির কথা জানিয়েছেন অজিত। নাটকীয় এই পালাবদলের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় শারদ পাওয়ার বলেন, ‘আমিই জানতাম না সরকার হচ্ছে। বিশ্বাস করুন।’ অন্যদিকে শিবসেনাপ্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, অজিত পাওয়ার পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন। এটা বেআইনি। আগে এক রাতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরেও শারদ পাওয়ার জানিয়েছিলেন, তিন দল সহমতে পৌঁছেছে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার নেতৃত্বে অবিজেপি সরকারই গঠিত হবে। এ অবস্থায় মহারাষ্ট্রের মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচনী ফল ঘোষণার (২৪ অক্টোবর) পর ঠিক এক মাস অতিবাহিত হলেও সরকার গঠন নিয়ে একটানা নাটকীয় ঘটনাক্রম চলে আসছিল, তা এক বেনজির অতিনাটকীয় চেহারা নিল। তবে রাতের অন্ধকারে সবার অলক্ষ্যে জন্ম নেওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভার আয়ু কতক্ষণ বা এর জের শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—তার সব বিষয়টি ঘিরেই এক চূড়ান্ত বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে কেটেছে প্রতিটি মুহূর্ত। শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে মঞ্চস্থ হলো নতুন নাটক। ৮০ ঘণ্টা মুখ্যমন্ত্রিত্বের পর ইস্তফা দিয়েছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস। গতকাল সন্ধ্যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। স্পিকার পদ পাচ্ছে কংগ্রেস। লেখক : কলকাতার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক