kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

শিশু অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পথের অনুসন্ধান

মো. নূরুল আনোয়ার

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



শিশু অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পথের অনুসন্ধান

আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকেই সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি অপরাধ করে আসছে। যেমন—চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, লুট, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি সম্পত্তি-সম্পর্কীয় অপরাধ, অন্যদিকে আঘাত, গুরুতর আঘাত, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, নরহত্যা অর্থাৎ দেহসম্পর্কীয় অপরাধও করত। অপরাধের ধরন ও প্রকৃতিতে আবার দুই ভাগ ছিল। যেমন—সাধারণ অপরাধ এবং গুরুতর অপরাধ। আগে সাধারণ এবং গুরুতর অপরাধ বড়রাই করত, শিশু ও কিশোররা অপরাধে খুবই কম জড়াত।

সময়ের পরিক্রমায় সেই সময়ের দণ্ডবিধি এবং অন্যান্য মাইনর অ্যাক্টে উল্লেখ করা অপরাধগুলো ছাড়াও বর্তমানে নতুন ধরনের অপরাধ হতে দেখা যাচ্ছে। যেমন—সাইবার অপরাধ, একান্ত সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল করা, নারীদের দ্বারা হত্যাকাণ্ড, নারীদের পরকীয়া আড়ালের জন্য নিজ শিশু হত্যা, জঙ্গিবাদ, নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধ, অবৈধভাবে সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানি লন্ডারিং, রাজনৈতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ড সংঘটিত, জুয়া ইত্যাদি। এ ধরনের অপরাধ দমনের জন্য অনেক নতুন আইন তৈরি করে, ট্রাইব্যুনাল গঠন করে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিছুটা সফলতাও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

কিন্তু ইদানীং একটি বড় সমস্যাও দেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেগুলো শিশু-কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধ। এই শিশু-কিশোররা অবলীলায় চাঁদাবাজি, সম্পত্তি দখল, মাদক ব্যবসা-সেবন, ইভ টিজিং, দাঙ্গাহাঙ্গামা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, এমনকি নরহত্যায়ও জড়িত হচ্ছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় অপরাধী গ্যাংও তৈরি করে তারা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে চলেছে এবং সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাদের যৌন অপরাধ, ছিনতাই, মাদক অপরাধে জড়ানো, হত্যাকাণ্ডে জড়িত হওয়া একটা ভীতিকর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এই শিশু-কিশোররা যেমন উচ্চ-উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, অন্যদিকে বস্তির শিশুরাও এ থেকে পিছিয়ে নেই। তাদের এহেন অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনের জন্য আমরা কী ব্যবস্থা নেব? সম্প্রতি দেশের একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রের মূল শিরোনাম ছিল—‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড।’ ওই পত্রিকার সংবাদে বলা হয়, টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ৩ মে থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত ১২১ শিশু সেখানে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী ২৮ জন, ২৬ জন ১৬ বছর বয়সী, ২০ জনের বয়স ১৫, ১৬ জনের বয়স ১৪, ১১ জনের বয়স ১২, বাকি ১২ জনের বয়স ৮ থেকে ১১ বছর। একজনের উল্লেখ নেই। এই ১২১ শিশুর মধ্যে ৯৯ জন র‌্যাব সদর দপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত। ২০১৭ সালের ১১ মে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন হাইকোর্টে অসাংবিধানিক বলে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের আপিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

এখানে একটি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শিশুর কথা উল্লেখ করা যায়। ২০০৭ সালে হাবিব মণ্ডল নামের এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাইকোর্ট তাকে খালাস দেন, কারণ বিচারিক আদালত এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে মামলাটির বিচার করেছেন। ভোলার ১৫ বছর বয়সী আব্দুল জলিলকে ধর্ষণের অপরাধে ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। জলিল ১৪ বছর সাজা খেটেছিল, হাইকোর্ট তাকে মুক্তি দেন এবং ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশও প্রদান করেন। এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

এখন আমরা শিশুর সংজ্ঞা, এই আইনের অতীত ও প্রেক্ষাপট এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা নিয়ে একটু আলোচনায় যেতে পারি। ১৮৬০ সালে দণ্ডবিধি কার্যকর হয়। সমসাময়িক সময়ে ইংলিশ কমন ল অব ক্রাইমে শিশুত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—১) সাত বছরের নিচে, ২) সাত থেকে ১৪ বছর, ৩) ১৪ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। প্রথম দলের শিশু অপরাধ করতে পারে না বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় দলের শিশুদের ক্ষেত্রে অপরাধ করতে পারে না ধরে নেওয়াটা সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল, তৃতীয় দলের শিশুদের সম্পর্কে বলা হয়েছে—`After fourteen an infant comes under full criminal responsibility.' ভারতবর্ষে তথা আমাদের দেশে দণ্ডবিধির ৮২ ধারায় সাত বছরের কম বয়সী শিশুকে ফৌজদারি অভিযোগের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুধু রেলওয়ে আইনে চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারী শিশুর অভিভাবকের দায়িত্ব আসে। দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা মতে, সাত বছরের অধিক, কিন্তু ১২ বছরের কম বয়সী শিশু কোনো অপরাধ করতে পারে না, যদি না তার বুদ্ধিবৃত্তি পরিপক্ব না হয়। আমাদের দেশে  Children Act (Act No. xxxix of 1974) বঙ্গবন্ধুর সময়ে পাস হয়। ওই আইনে এবং সর্বশেষ শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সালের ২৪ নম্বর আইন)-এর ৪ ধারা মতে, অনূর্ধ্ব-১৮  বছর বয়স পর্যন্ত সব ব্যক্তি শিশু। এই আইনটি জারির মুখবন্ধে বলা হয়েছে—‘যেহেতু জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত সনদের বিধানাবলি বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতপূর্বক উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল।’

বিরাজমান শিশু আইনটি একটি উত্তম আইন। এই আইনের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করার মতো। যেমন—ধারা ১৩-তে বলা হয়েছে, সব থানায় সাব-ইন্সপেক্টরের নিচে নহে এমন একজন অফিসারকে, সম্ভব হলে নারী অফিসারকে শিশুবিষয়ক ডেক্সের দায়িত্ব দিতে হবে। ধারা-১৫ : শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর একত্রে চার্জশিট প্রদান নিষিদ্ধ। যা আমরা বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় দেখেছি। ধারা-১৬ : শিশু-আদালত নির্ধারণ। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় একাধিক শিশু আদালত গঠিত হবে, যার বিচারক হবেন অতিরিক্ত দায়রা জজ। ধারা-১৭ : শিশুরা যেকোনো আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বা সংস্পর্শে এলে বা কোনো শিশু মামলায় জড়িত থাকলে, ওই মামলার বিচারের এখতিয়ার শুধু শিশু আদালতের থাকবে। ধারা-৩৩ : কোনো মারাত্মক অপরাধের জন্য শিশুকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না। ধারা ৩৪-এ বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের মতো অপরাধ প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আদেশ দিতে পারবেন শুধু শিশু আদালত। ধারা ৩৪(৩)-এ বলা হয়েছে, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা বা মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত শিশুর বয়স ১৮ পূর্ণ হলে এবং মামলা বিচারাধীন থাকলে আদালতের অনুমতিক্রমে জেলে পাঠাতে হবে। ধারা ৩৪(৪) মতে, এরূপ প্রেরিত ব্যক্তিকে কারাগারে অন্য বিচারাধীন বা দণ্ডিতদের সঙ্গে না রেখে পৃথক ওয়ার্ডে রাখতে হবে। ধারা-২০-এ শিশুর বয়স নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তারিখ হবে অপরাধ সংঘটনের তারিখ এবং ধারা-২১ আদালত কর্তৃক শিশুর বয়স অনুমান ও নির্ধারণ।

শিশু আইন-২০১৩ আইনের ক্ষেত্রে একটি আপাত চমৎকার সংযোজন। বাস্তব প্রয়োগে এর বেশ কিছু অসংগতি এবং অসুবিধাও পরিলক্ষিত হচ্ছে এ আইনে। এ আইনটিতে দুটি দিক আছে, প্রথমটি শিশুদের কৃত অপরাধ, অন্যটি শিশুদের ওপর কৃত অপরাধ, অসংগতি, বাস্তব অসুবিধা এবং অপ্রস্তুতি—এই আইনের সুফল যথাযথভাবে পাওয়া যাবে না। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা যেমন এর সুবিধা ভোগে ব্যর্থ হবে, দুর্ধর্ষ শিশুদের নিয়ন্ত্রণ এবং সুপথে আনাও কঠিন হয়ে যাবে এই আইনের কারণে। ভালো দিক আইনেই আছে, বিপরীত দিকের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে। যেমন—১) এই আইনের বিধানগুলোর ব্যাপারে বিচারকদের এবং পুলিশের অজ্ঞতা। সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত, এমনকি ফৌজদারি আদালতের বিচারকরাও এই আইনকে পাশ কাটিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছেন। ২) শিশু আদালতের অস্তিত্ব : এই আইনটি কার্যকর হয় ২০ জুন ২০১৩ সালে, অন্যদিকে শিশু আদালত গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয় ১৩ এপ্রিল ২০১৪ সালে, অর্থাৎ ১০ মাস পরে, এটা প্রস্তুতির সুস্পষ্ট অভাব এবং অগ্রহণযোগ্য সমন্বয়হীনতা। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় ও মেট্রোপলিটান এলাকায় এখতিয়ার এবং অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করে অত্র আইনের ধারা ১৬(২) মোতাবেক শিশু আদালত গঠিত হওয়ার কথা আছে। বাস্তবে এর সব স্থানে এর যথাযথ কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয় না। ৩) থানায় নারী এসআইয়ের অধীনে সব থানায় শিশুবিষয়ক ডেস্ক সৃষ্টি করা হয়েছে কি না সন্দেহ করাই যায়। ৪) ধারা ১৯(৪)-এর বিধান মেনে শিশু আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ এবং আইনজীবীরা ‘মুফতি’তে দায়িত্ব পালন করেন না। এই আদালতটিতে আলাদা করা এবং ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। ৫) শিশু এবং দুর্ধর্ষ শিশুকে গ্রেপ্তারের পর থানায় কোথায় রাখবে? থানায় নারী ও পুরুষের জন্য হাজতখানা আছে। শিশুদের জন্য নেই। ভয়ংকর খুনি-ধর্ষণকারী শিশুকে থানায় কিভাবে রাখবে? বেঁধে রাখবে, না মুক্তভাবে রাখবে? ৬) শিশু থেকে ‘ব্যক্তি’তে পরিণত হওয়ার পর তাকে জেলখানায় কারাভোগের জন্য আলাদা ওয়ার্ড কোথায় পাবে? ৭) গুরুতর সমস্যা : শিশুর বয়স নির্ধারণ ধারা ২০, ২১ মোতাবেক বয়স জানা সব সময় সঠিক হয় না। আমাদের দেশে বরাবরই শিশুদের বয়স চুরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার উদাহরণ দেব না। আগে স্কুলে বা এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় শিক্ষক বা অভিভাবকরা একটা বয়স ঠিক করে দিতেন। সম্প্রতি অতি অল্পসংখ্যক শিশুর জন্মের পর তাদের সঠিক জন্ম সনদ নেওয়া হয়। এখনো অগণিত শিশু সঠিক জন্ম সনদের বাইরে আছে। বস্তি এবং গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বেশির ভাগ শিশুর সঠিক সনদ নেই। তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? আদালত অনুমান করতে পারেন বা ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স পেতে পারেন, সেটাও একেবারে সঠিক বলা যায় না। রেডিওলজির ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদনে দিনক্ষণ নির্ধারণ সম্ভব হয় না। যেমন—বলা হয় ১৫-১৬ বছরের মধ্যে। এর দ্বারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অথচ এই আইনের সব কিছুই নির্ভর করে বয়সের ওপর। মূল ভিত্তি অপরাধকালীন শিশুর প্রকৃত বয়স। ৮) শাস্তির বৈষম্য : যেমন—১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী একজন শিশু ধর্ষণসহ খুন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর, অন্যূন তিন বছর সাজার বিধান রাখা হয়েছে, অন্যদিকে এক দিন বা ২৪ ঘণ্টা বেশি বয়সী ‘পুরুষ’ একই অপরাধ করলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ড পেতে পারে। বয়সের এক দিন হেরফেরে সাজার এত বড় বৈষম্য সচেতন মানুষ মেনে নিতে চায় না। এ ছাড়া ভিকটিম পরিবার তার কন্যার ধর্ষক বা তার পুত্রের হন্তকের এত বড় সুবিধা মেনে নিতে পারে না। ৯) বর্তমানের কিশোর (শিশু) গ্যাংয়ের বেশ কিছু লোমহর্ষক অপরাধের কথা পত্রিকায় জনগণ দেখতে পাচ্ছে। তাদের এখনই নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত সময়; নয়তো খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদককে ওরা অ্যাডভেঞ্চার বা বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করবে।

আমরা অভিভাবকরা চাই, আমাদের শিশুরা সুসন্তান হিসেবে বেড়ে উঠুক। প্রাসঙ্গিকভাবে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কিছুদিন আগে ভয়ংকর অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত কয়েক শিশু অপরাধীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তারা আতঙ্কিত হওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করে। সেটা হচ্ছে, এই শিশুরা আইনের অস্তিত্ব এবং তাদের জন্য এর অনুকূল দিকগুলো জ্ঞাত। শিশুর সংজ্ঞা এবং শাস্তির ব্যাপারে অন্তত ডাকাতি, মাদক, ধর্ষণের ক্ষেত্রে আমরা নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারি কি না—সেটা নিয়ে ভাবনার এখনই উপযুক্ত সময়। ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভোলার জলিলকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশটি নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে কি? শিশুর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে  English Law of Crimes-এর দ্বিতীয়টি পর্যন্ত এবং দণ্ডবিধির ধারা ৮৩ মিলিয়ে নতুনভাবে নির্ধারণ করা যায় কি না মনোবিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞ আইন গবেষকরা ভেবে দেখতে পারেন।

লেখক : সাবেক আইজিপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা