kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ব্যক্তিত্ব

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

অনিল মুখার্জি

অনিল মুখার্জি বাংলাদেশের ত্যাগী বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও লেখক। শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের ব্রত থেকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজ করেন। অনিল মুখার্জি ১৯১২ সালের ১০ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৯ সালে মুন্সীগঞ্জ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আইন অমান্য আন্দোলনের অভিযোগে ১৯৩০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে রাখা হয়েছিল মেদিনীপুর হিজলি বন্দিশিবিরে। সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ব্রিটিশ সরকার সেখান থেকে তাঁকে পাঠায় আন্দামান দ্বীপে। সেখানে বন্দিদের সঙ্গে তিনিও মরণপণ আন্দোলন করেন। ১৯৩৮ সালে ছাড়া পেয়েই তিনি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে সক্রিয় হন। ১৯৪৬ সালে নারায়ণগঞ্জের সুতাকল শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন অনিল মুখার্জি। ভারত ভাগের পার আবারও গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৫৫ সালে মুক্তিলাভ করেন। সেই থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আত্মগোপন অবস্থায় রাজনৈতিক আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৫৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় সম্মেলনে (গোপন) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৮ সালে পার্টির প্রথম কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে গোপনে প্রথমবারের মতো মস্কো সফর করেন এবং বিশ্বের ৭৫টি পার্টির মহাসম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৩ ও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় ও তৃতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সাম্যবাদের ভূমিকা’, ‘শ্রমিক আন্দোলনের হাতেখড়ি’, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রামের পটভূমি’ ও ছোটদের জন্য লেখা ‘হারানো খোকা’। ১৯৮২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা