কালের কণ্ঠ : একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনি তেল দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? ড. দিলীপ কুমার দত্ত : দুর্ঘটনাটি ঘটে ৯ ডিসেম্বর ভোরে। আমরা সেখানে যাই ১১ ডিসেম্বর। ঘটনার বেশ পরে। ততক্ষণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। জোয়ার-ভাটায় নদীর ২০ কিলোমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে তেলের বিস্তৃতি ঘটে গেছে। দেখুন, মনে রাখতে হবে, এটি একটি দুর্ঘটনা। যেমন, আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া। আগুন লেগে যাওয়া মানে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাওয়া। দুর্ঘটনায় প্রাথমিক যে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার, তা ঘটে গেছে। আমরা গেছি বেশ পরে। এ কারণে চিকিৎসক যেমন একজন রোগীকে তার নাড়ি পরীক্ষা করে প্রাথমিক অবস্থাটি বোঝার চেষ্টা করেন, আমরা ওই নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ দেখে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা অনুমান করার চেষ্টা করি। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, শ্যালা নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খারাপ না। ছিল ৬-এর কাছাকাছি। সে কারণে আমরা প্রথমেই তিনটি বিষয় বিবেচনায় আনি : এক, কিভাবে তেলের বিস্তৃতি কমানো যায় বা আরো জায়গায় যাতে তা না ছড়িয়ে পড়ে, সেই ব্যবস্থা করা; কিভাবে তেল তুলে ফেলা যায় ও ডিসপারসেন্ট (রাসায়নিক পদার্থ) ব্যবহার করা হবে কি হবে না সেই প্রসঙ্গ। প্রথমত, আমরা বলি ডিসপারসেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সেটি প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য আরো ক্ষতিকর হবে। সাধারণত ডিসপারসেন্ট ব্যবহার করা হয় তাৎক্ষণিক (দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই) ও অল্প জায়গার মধ্যে সীমিত থাকলে। বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে তখন ডিসপারসেন্ট ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। কারণ এটি ম্যানগ্রোভ বা বাদাবন। বিশ্বে সুন্দরবন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাদাবন। সুন্দরবনের বিশেষত্বগুলো হলো তার বিস্তৃতি, ভূতাত্ত্বিক অবস্থান, প্রাণবৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও livelihood support potentiality। বঙ্গীয় বদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সুন্দরবন বিস্তৃত। এই বাদাবন একক ধাপে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাদাবন (Single tract mangrove forest)। এ এলাকা ভূ-প্রাকৃতিকভাবে অপরিপক্ব, ভূতাত্ত্বিকভাবে নবীন। বিশ্বের অন্য যেকোনো বাদাবনের তুলনায় এখানে প্রাণবৈচিত্র্য বেশি। এ রকম একটি জায়গায় ফার্নেস অয়েলের মতো ভারী, জটিল রাসায়নিক যৌগের তরল ছড়িয়ে পড়ে পানির ক্ষতি তো করেছেই, তার ওপর আমরা আরো একটি রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে ওই ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে চাইনি। দ্বিতীয়ত, আমরা ভাসমান তেল তুলে ফেলার জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে বলি। যতটুকু তেল তুলে ফেলা যাবে ততটুকুই লাভ। মানুষ নিজে থেকেই তেল তুলছিল, পরে বন বিভাগ তাদের এ কাজে আহ্বান করে। পাশাপাশি তেল যাতে খালের মধ্যে আর যেতে না পারে সে জন্য খালগুলোর মুখ জাল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠ : তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা যদি একটু বলেন। ড. দিলীপ কুমার দত্ত : দেখুন, তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতি তো হবেই। এখন ক্ষতি কতটা? কী পরিমাণে? সেটাই আলোচনা হতে পারে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, সুন্দরবনের পানি ও মাটির দূষণ সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে গবেষণা হয়নি। এ পর্যন্ত গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে পললে অজৈব নাইট্রোজেন অনেকাংশে কম। আবার পললে ফসফরাসের মাত্রাও দূষণের বিবেচনায় ক্ষতিকর নয়। সুন্দরবনের পানিতে দ্রবীভূত ভারী ধাতু, যেমন- তামা, লোহা, সিসা, জিংক, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম ও নিকেলের মাত্রাও উদ্বেগজনক নয়। সুন্দরবনের পানিতে প্রাপ্ত দ্রবীভূত তেলজাতীয় পদার্থও খুব বেশি নয়। এ কারণে এই তেলদূষণ মারাত্মক হওয়ার কথা নয়। অবশ্য এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে তা পানিতে মিশেছে, মাটিতে মিশেছে, নদীতীরের গাছপালায় তেল জড়িয়ে আছে। এগুলো সবই দৃশ্যমান। তবে তেল বনের গভীরে বেশি দূরে যেতে পারেনি। কারণ দুর্ঘটনার সময় মরা গোন ছিল; এ সময় পানি বেশি ফুলে ওঠে না। জোয়ারের তেজ কম থাকে। এ কারণে তেল বনের গভীরে যেতে পারেনি। আবার শীতকাল। শীতকাল হওয়ায় ভাসমান তেল অতিদ্রুত জমাট বেঁধে যেখানে পড়েছে, সেখানেই আটকে থাকার চেষ্টা করেছে। ভাসমান তেলও জমাট বেঁধে নদীর তলদেশে মাটিতে গিয়ে পড়েছে। আমাদের উপকূলটি অন্য সব উপকূলীয় এলাকা থেকে পৃথক, বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এখানকার মাটির উপাদানও বিশিষ্ট ধরনের। এ কারণে এখানকার জলজ ও বনজ প্রাণগুলো অনেক বেশি সহনশীল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। মাটি-পানির এই ক্ষতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ ক্রিয়াশীল থাকবে; তারপর ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠবে। ক্ষতি যে কাটিয়ে উঠছে, তা গাছে নতুন পাতা বের হওয়ার মধ্য দিয়েই দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে খাদ্যশৃঙ্খলে কী পরিমাণ প্রতিক্রিয়া পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়, সে কথা বলার জন্য দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ-গবেষণা প্রয়োজন। কালের কণ্ঠ : দুর্ঘটনার পরপরই শ্যালা নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নানা মহল থেকে দাবি উঠেছিল এই নৌপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার। এমনকি জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদলটিও বনের মধ্যে নৌপথ না রাখার পক্ষেই মত দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে এই নৌপথ আবারও চালু করা হলো। বিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? ড. দিলীপ কুমার দত্ত : দেখুন, এ প্রশ্নের কোনো সোজা বা সরাসরি জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি জটিল। অনেক কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের অর্থনীতি, বন্দর এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বন্দর যখন আছে, আমি তো চাইব, এখানে একটি বা দুটি নয়, শত শত জাহাজ আসুক, অনেক মানুষ কাজ করুক। অনেক আয় হোক। আবার একজন পরিবেশবিজ্ঞানী হিসেবে আমি সাধারণভাবে মনে করি, এ ধরনের একটি বনের মধ্য দিয়ে নৌপথ থাকা ঠিক নয়। আমার কথা হচ্ছে, আমরা কেন এই নৌপথ বেছে নিলাম? ২০১১ সালে যখন এই নৌপথ চালু হলো তখন কেন আমরা সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলাম না? অনেক বেশি লেখালেখি করলাম না। যাহোক, আমি বলব, অতিদ্রুত মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি খনন করে ওই নৌপথ চালু করা হোক। শুধু তা-ই নয়, মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটির আগে আঠারোবেঁকি-মধুমতী যে নৌপথটি চালু ছিল, সেই পথটিও আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। কারণ মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি প্রকৃতিগতভাবেই টিকে থাকার অনুকূলে নয়। ওই চ্যানেলটি টিকিয়ে রাখতে সার্বক্ষণিক খননকাজ চালাতে হবে। খুব নজরদারি করতে হবে। এ কারণে আমাদের পুরনো নৌপথ আঠারোবেঁকি-মধুমতী চালু করা উচিত। কালের কণ্ঠ : আঠারোবেঁকি-মধুমতী চ্যানেলটির আঠারোবেঁকি তো একেবারে শুকিয়ে গেছে, তাকে কি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব? ড. দিলীপ কুমার দত্ত : আমরা চাইলেই তা সম্ভব। পৃথিবীর নানা দেশে কৃত্রিম উপায়ে খনন করে অনেক চ্যানেল চালু করা হয়েছে; আর এখানে প্রাকৃতিকভাবে চ্যানেল ছিল। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই খননের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে? আমার উত্তর হচ্ছে, আমরা তো মংলা বন্দরের স্বার্থে নৌপথের কথা বলছি, পণ্য যাতায়াতের সুবিধার কথা বলছি, সেই বন্দরের আয়ের একটি অংশ এই চ্যানেল খনন বা উদ্ধারের কাজে আমরা ব্যয় করতে পারি। আমাদের সেই সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। এখন যেকোনো বিষয় অতিমাত্রায় রাজনৈতিকীকরণ হয়। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সব কিছু বিবেচনা করা হয়। দুর্ঘটনাও আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে দেখি, তাহলে আমরা কোনো দিনই জ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তুলতে পারব না। কিন্তু প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলা। প্রসঙ্গত একটি কথা বলি, দেখুন, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌপথ, সুন্দরবনের পাশে বন্দর, সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সুন্দরবনের নদী-নালা-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, সুন্দরবনে আগুন লাগা- এসব কথা শুনলে আমরা আঁতকে উঠি, উদ্বিগ্ন হই; এর অর্থ আমরা সুন্দরবনকে ভালোবাসি। মমতার পরশ দিয়ে আমরা সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে চাই। তাহলে আমরা কেন জ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারব না? মনে রাখতে হবে, তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দৃশ্যমান, তাই খুব আলোচনায় এলো। বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার বিষয়টি নিয়ে কি তেমন কোনো আলোচনা হয়? হয় না। কারণ সেটি দৃশ্যমান নয়। অথচ বিষ তো জলজ প্রাণীর জন্য ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হয়। যেহেতু সেটি আমাদের অজান্তে ঘটে বা দৃশ্যমান হচ্ছে না, সে কারণে ওই ক্ষতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ে এর জন্য থ্রেট বা ক্ষতির দিক নিয়ে যদি ভাবি, তাহলে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহের রুটটি (পথ) হচ্ছে সুন্দরবনের অদূরে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে পূর্বের দেশগুলোতে বিশাল বিশাল জাহাজে করে তেল সরবরাহ হয় সুন্দরবনের মাত্র শত কিলোমিটারের মধ্যকার পথটি ধরে। আমরা কি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব? ওই বিশাল তেলবাহী জাহাজে যদি কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটে, আর সেই তেল ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তো গোটা সুন্দরবনে তেলের আস্তরণ পড়ে যাবে। আবার দেখুন, নৌপথে আমরা যেসব পণ্য পরিবহন করছি, তার মধ্যে একটি হচ্ছে সার। কোনো কারণে যদি সারবাহী একটি কার্গো ডুবে যায়, তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে? সার পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিপর্যয়টি আরো বড় হওয়ার আশঙ্কা। সুন্দরবনের মধ্যকার নৌপথে যদি সারবাহী কার্গো ডোবে, সেই ক্ষতি তো আরো মারাত্মক। প্রকৃতপক্ষে একটি ছেড়ে আরেকটি আঁকড়ে ধরা, এভাবে সহজে হয়তো আমরা চলতে পারব না। অনেক কিছুর সঙ্গে আমাদের সমন্বয় করতে হয় বা হবে। এ কারণে প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। আমরা অনেক কিছুর জন্য বহির্মুখিন। বাইরের কেউ কিছু বললে আমরা অনেক গুরুত্ব দিই। আমরা নিজেরা ঝগড়া করি। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া কিন্তু সব সময় খারাপ নয়। আর বিজ্ঞানীদের মধ্যে ঝগড়া, বিতর্ক থাকলে বিজ্ঞান কিন্তু উন্নত হয়। কালের কণ্ঠ : তেল দুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো উদ্যোগ আছে কি? ড. দিলীপ কুমার দত্ত : হ্যাঁ, এর মধ্যেই কয়েকটি টিম এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কিছু কাজের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও যুক্ত আছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দরবনবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউট- সেন্টার ফর ইন্ট্রিগ্রেটেড স্টাডিস অন দ্য সুন্দরবনসও (সিআইএসএস) কিছু কাজ করার পরিকল্পনা করেছে। কালের কণ্ঠ : বর্তমান অবস্থায় কী করণীয় বা সার্বিক পরিস্থিতিতে আপনার পরামর্শ কী? ড. দিলীপ কুমার দত্ত : আমি আশাবাদী মানুষ। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলার আঘাতে সুন্দরবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সুন্দরবন আবারও জেগে উঠেছে। এর আগেও হয়তো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবন লণ্ডভণ্ড হয়েছে, যা আমরা জানি না। আমি প্রকৃতপক্ষে এখন সুন্দরবন নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কারণ এ বিষয়ও রাজনৈতিকীকরণ হচ্ছে। আমরা অনেক সময় কথা বলি রাজনীতির ভাষায়, যা একেবারেই উচিত নয়। বিজ্ঞানকে গোঁজামিল দিয়ে বোঝা যাবে না। বিজ্ঞানকে তার নিয়মেই বুঝতে হবে। আমি তো বলব, আপনারা সুন্দরবনে যাবেন না। সুন্দরবনকে তার মতো থাকতে দিন। সুন্দরবন আবারও তার নিজের জায়গায় ফিরে আসবে। সুন্দরবন আবারও জেগে উঠবে। তবে একটি বিষয় বলতে চাই, তা হচ্ছে আমাদের প্রস্তুতির বিষয়ে। আমরা বিষয়টি আমাদের প্রতিবেদনেও বলার চেষ্টা করেছি। সুন্দরবনের জন্য, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একটি টাস্কফোর্স থাকা উচিত। শুধু নামে মাত্র টাস্কফোর্স নয়, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েই সেই টাস্কফোর্স থাকা উচিত, যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। যদি এমন একটি টাস্কফোর্স থাকত, তাহলে এই তেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটে যেত, তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে ব্যবস্থা নিতে পারত; পরিস্থিতি মোকাবিলা করার বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলে তাদের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে আমরা ঘণ্টা কয়েক পরে গিয়ে তেলের কোনো চিহ্নই হয়তো দেখতে পেতাম না। তবে এমন একটি টাস্কফোর্স গঠনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ ও গুরুত্ব দিতে হবে। টাস্কফোর্সের সদস্যদের কাজ করার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও দিতে হবে। শুধু বন বিভাগ নয়, বন্দরেরও এমন টাস্কফোর্স থাকা উচিত। কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ। ড. দিলীপ কুমার দত্ত : আপনাকেও ধন্যবাদ।