ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবস্থার জন্য দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল কমবেশি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেছেন, যে দল সরকারে যায় তাদের ছাত্রসংগঠন একটু বেপরোয়া হয়- এটাই স্বাভাবিক। তবে ছাত্রলীগ সে ক্ষেত্রে একটু বেশি মারমুখী। তারা তাদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণও মানতে চায় না। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন স্বার্থের জের ধরে তারা নিজেরাই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এক ছাত্র নিহত হওয়ার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ পেল। ইচ্ছা করলে এ ধরনের সংঘাত কমিয়ে আনা যায়। গত শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো 'নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি' অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে আলাল এ কথা বলেন। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ দারা এমপি। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জানতে চান, 'আমাদের দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মাঝেমধ্যে ছাত্রসংগঠনগুলো এমন সব ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাতে সরকার, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিব্রত বোধ করছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?' জবাবে আবদুল ওয়াদুদ দারা এমপি বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলো একটু প্রশ্রয় পেয়ে আসছে- এটা নতুন কিছু নয়। আগে যতগুলো সরকার ছিল সব আমলেই তারা মারমুখী ছিল। এবার হয়তো একটু বেশি হতে পারে। বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই। তার পরও দেখেন, তাদের ছাত্রসংগঠন কদিন আগে একটি কমিটি ঘোষণা করা নিয়ে রাজপথে সংঘর্ষে নেমে আসে। তারা রাস্তা অবরোধ করে, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপির ছাত্রসংগঠনের তো কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকার কথা না। কিন্তু তারাও সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। তাহলে বুঝতে হবে শুধু সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনই যে খারাপ কাজ করছে তা নয়। আসলে একটি সংগঠনে ভালোমন্দ দুই ধরনের লোকই থাকে। দু-একজনের বা একটি অংশের খারাপের কারণে পুরো সংগঠনকে খারাপ বলা যাবে না। আবদুল ওয়াদুদ দারা আরো বলেন, সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ঘটনার পর পুলিশ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সরকার এ ক্ষেত্রে বাধা দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সেখানে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে। এটা কি সরকারের সাফল্য নয়? আপনারা কোনো কিছু পেলেই তাতে সরকারের সমালোচনা করেন। এটা ঠিক না। সরকার তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে। এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, বিএনপির ছাত্রসংগঠন যখন রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলন করেছে তখন পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে থেকে তামাশা দেখেছে। আর এখন আপনারা বলছেন, ছাত্রদল তো আন্দোলন করছে। এমনিতেই বিএনপি বা তাদের কোনো সংগঠন রাস্তায় নামতে পারে না। কিন্তু ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ অংশের আন্দোলনের সময় পুলিশ নীরব ছিল। এটা কেন? জবাবে আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ওটা প্রথমে পুলিশ বুঝতে পারেনি বলে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশ মনে করেছে ওটা বিএনপির নিজস্ব দাবি। তাই তারা বাইরে নিরাপত্তার পরিস্থিতি লক্ষ করেছিল। পুলিশ যখন দেখল তারা গাড়ি ভাঙছে তখন আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। অ্যাকশনে গিয়েছে। এবারও কি বলবেন, পুলিশ কেন দাড়িয়ে ছিল? আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, বিএনপির অনেক নেতা এখন জেলে আছেন। তাঁদের নামে অনেক মামলা। রাজনীতিতে বিএনপি সেভাবে সফলতা দেখাতে পারছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন? জবাবে যুবদলের সভাপতি বলেন, 'আওয়ামী লীগ গত ৫ জানুয়ারি কী পদ্ধতিতে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে, তা আপনারা দেশবাসী সবাই দেখেছেন। হ্যাঁ, আমরা এখনো সেভাবে আন্দোলনে যাচ্ছি না। সামনে আমাদের রাজপথ দখলের প্রস্তুতি আছে। তবে আমরা আন্দোলনের নামে সহিংসতা চাই না। আর দেখেন, ১৯৭৪ সালের আইন কি এখনো বলবৎ আছে? দেখেন, সেদিন আমরা একটি বাসায় মিটিং করছিলাম। সেখানে কোনো কথাবার্তা না বলে আমাদের ৬০-৬৫ জনকে আটক করে জেলে পাঠাল পুলিশ। এটা গণতন্ত্র? এটা সভ্যতা? দারোয়ান তো চাকরি করতে আসে। তাদের সঙ্গে যদি এভাবে খারাপ আচরণ করা হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা কোথায়? আমি বাসায় ছিলাম না। থাকলে মনে হয় আমার সঙ্গেও হয়তো পুলিশ খারাপ আচরণ করত।'