• ই-পেপার

পরিবেশ রক্ষায় নজর দিন

শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

বর্তমান সময়ে শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রামসবখানেই এর প্রকোপ বাড়ছে। আধুনিকতার নামে সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, এমনকি ভিক্ষুক পর্যন্ত উচ্চ শব্দে রেকর্ড বাজিয়ে চলছে। অলিগলিতে প্রতিনিয়ত চলছে শব্দ সন্ত্রাস। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মাথা ব্যথা, অনিদ্রা, মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বা নারী। সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। সেখানে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইক-লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ এবং অনুষ্ঠানে অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিধিমালা মানা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন, শব্দদূষণের ভয়াবহতা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও হাটবাজারে জনসচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫-এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আল ইমরান

শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

কুমিল্লায় সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

কুমিল্লায় সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

কুমিল্লার চান্দিনা সদর থেকে বদরপুর পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মাত্র সাত কিলোমিটার এই পথটুকুর জন্য সিএনজিচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। ভোগান্তির মাত্রা আরো চরম আকার ধারণ করে সন্ধ্যার পর, যখন কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। দূরত্ব বিবেচনায় এই ভাড়া শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং চরম মাত্রার শোষণ। এখানে সিএনজিচালকরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নিজেদের মনগড়া ভাড়া আদায় করছেন।

ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত কথা-কাটাকাটি, ঝগড়া এবং মাঝেমধ্যে মারামারির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই রুটে সিএনজি ভাড়া অবিলম্বে সরকারি নির্ধারিত হারে পুনর্নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে চালকদের এই স্বেচ্ছাচারী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ভাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙানোর ব্যবস্থা করা হোক।

ওসমান গনি

সহসভাপতি, চান্দিনা প্রেস ক্লাব

মেট্রো রেলে নারী যাত্রীর নিরাপত্তা চাই

মেট্রো রেলে নারী যাত্রীর নিরাপত্তা চাই

আধুনিক ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থায় মেট্রো রেল এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই গণপরিবহনে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই নারী, যাঁরা কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, পিক আওয়ারের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষের আচরণ নারীদের এই স্বস্তির যাত্রাকে অস্বস্তিকর করে তোলে। তাই শুধু দ্রুত গতি নয়, নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করাই হোক এই আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য।

মেট্রো রেলে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোচ বরাদ্দ রাখা প্রশংসনীয় হলেও নিরাপত্তা শুধু একটি কোচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্ল্যাটফর্ম ও সাধারণ কোচগুলোতেও নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, গণপরিবহনে কঠোর আইনি নজরদারি ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করলে অপরাধের প্রবণতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই মেট্রো রেলকে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমানুর রহমান

শিক্ষার্থী, হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ, শান্তিনগর, ঢাকা

মিরপুর-১০-এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চাই

মিরপুর-১০-এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চাই

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যাল হলো মিরপুর-১০ গোলচত্বর। নগরের প্রায় প্রতিটি রুটের যানবাহনের যাতায়াত এই মোড় দিয়ে। প্রতিদিন লাখ লাখ যানবাহনের চাপে অতিষ্ঠ অত্র এলাকা দিয়ে চলাচলকারীরা। যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি খাদ্য সরবরাহকারী বাহন। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র চলা যানবাহনের কারণে বাড়ে জটিলতা। গভীর রাতেও যানজটের কারণে গোলচত্বর পাড়ি দিতে অনেক সময় লেগে যায়। এ থেকে এলাকাবাসীর মুক্তি মিলবে কবে? সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকা এই জনদুর্ভোগের মূল কারণ। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার সুফল পাচ্ছে চলাচলকারীরা। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলছে অত্র এলাকা দিয়ে চলাচলকারী সব যানবাহন। এই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং মিরপুর-১০ গোলচত্বরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নাফিজ উর রহমান

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

পরিবেশ রক্ষায় নজর দিন | কালের কণ্ঠ