• ই-পেপার

অনিয়মের আখড়া ঢাকা সিটি কলেজ

চট্টগ্রামে ছয় মাসে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ১,৫০৬ মামলা

কাজী মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ছয় মাসে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ১,৫০৬ মামলা

চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগের ১১ জেলায় একের পর এক ঘটছে ডাকাতি, ছিনতাই, সিঁধ কেটে চুরি ও চুরির ঘটনা। এসব ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, লুট হচ্ছে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালপত্র। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে এসব অপরাধে এক হাজার ৫০৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা ২৪৯টি। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ছিনতাই বা চুরির শিকার অনেকেই মামলা করেন না। ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের মধ্যে অনেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা : পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত গ্রামের দীপক ডেইরি ফার্মে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাতদল হানা দেয়। তারা খামারের মালিক ও কর্মচারীদের জিম্মি করে নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচটি গরুসহ প্রায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মালপত্র লুট করে। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় মামলা হয়। পরে ১৪ জুলাই আন্ত জেলা ডাকাতদলের সদস্য ইয়াছিন আরাফাত ও আল মামুন তুষার লিটনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং তুষার লিটনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ১৯ জুন কুমিল্লার মুরাদনগরের অটোরিকশাচালক মাহাবুব আলম মাসুম বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। রাত ১০টার দিকে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার ফোনে কোম্পানীগঞ্জে যাওয়ার কথা জানান। পরদিন বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী এলাকা থেকে মাথা ও চোখ থেঁতলানো এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা হয়। পরে কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশাটি বিক্রির সময় নাঈম ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এক সহযোগীকে নিয়ে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি উদ্ধারসহ সহযোগী আরমান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৩ জুন রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে একটি দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে দুটি স্টিলের টিপছোরা, একটি চাপাতি এবং ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরিসংখ্যানে যা দেখা যাচ্ছে : চট্টগ্রাম মহানগর এবং পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চাঁদপুর—এই ১১ জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডাকাতি, ছিনতাই, সিঁধ কেটে চুরি ও চুরির ঘটনায় এক হাজার ৫০৬টি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে ডাকাতির মামলা ৭৩টি, ছিনতাইয়ের ১৭৬টি, সিঁধ কেটে চুরির ৪৩৬টি এবং চুরির ৮২১টি।

তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৫০৬টি মামলার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ থানায় হয়েছে ২৪৯টি। আর চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীন ১১০ থানায় হয়েছে এক হাজার ২৫৭টি মামলা। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫১টি মামলা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য : চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, ‘ডাকাতি, ছিনতাই বা দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বারবার একই ধরনের অপরাধ করে। পেশাদার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। যত বেশি অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যাবে, ততই অপরাধ কমবে। তদন্তাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলে ছিনতাই ও দস্যুতা আরো কমানো সম্ভব হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক উপকমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতির অভিযোগ পেলেই আমরা তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিয়মিত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁদের অনেকেই কারাগার থেকে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।’

নগরবাসীর উদ্বেগ : স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাধারণত ভোর ও রাতে মানুষের চলাচল কমে গেলে নির্জন সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ঘুরে ছিনতাই, চলন্ত বাসে ছুরির ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া এবং রাতে পথরোধ করে টিপছোরার ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। এ ছাড়া গৃহকর্মীর পরিচয়ে বাসাবাড়িতে চুরি এবং খালি বাসা বা দোকানের তালা ভেঙে চুরির ঘটনাও ঘটছে।

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার এক আত্মীয় সকালে বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ রোড এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছিনতাইকারী ও দস্যুদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। টহল পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও কাজ করছে। ছিনতাই বা চুরির ঘটনা ঘটলে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

নড়াইলে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে হত্যা

৭ জেলায় ৪ খুন, ৪ লাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
নড়াইলে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে হত্যা

নড়াইলে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় একই রাতে দুজন খুন হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ঝগড়া থামাতে গিয়ে পিটুনিতে আহত বৃদ্ধ গতকাল মারা গেছেন। মাদারীপুরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে আটক হয়েছেন স্বামী।

এ ছাড়া ঢাকার সাভার, বরিশাল, রাজবাড়ী ও মুন্সীগঞ্জে পাওয়া গেছে চারজনের লাশ। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নড়াইল : লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলিনুর ফকির কুমড়ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে রাজিব শেখের কাছে পাওনা টাকা চাইলে আলিনুরের সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রাজিব ছুরি দিয়ে আলিনুরের পেটে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ : সদর ও গৌরীপুর উপজেলায় গত শনিবার রাতে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে গতকাল মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গৌরীপুরের মইলাকান্দা ইউনিয়নের ডেংগা মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে আব্দুল মান্নান ওরফে মুন্নাফ (৬৫) নামের বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি শনিবার রাতে প্রতিবেশী মোস্তফার সঙ্গে ডেংগা মোড় থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। হঠাৎ মোস্তফা আড়াল হয়ে গেলে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা আব্দুল মান্নানকে লক্ষ্য করে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় এক ইজি বাইকচালক রাজিব ইসলামকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহত রাজিব ইসলাম নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া সাইতন কান্দা এলাকার এবাদুল ইসলামের ছেলে।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ঝগড়া থামাতে গিয়ে পিটুনিতে আহত ফজলুল হক (৬০) দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এক বছর আগে ছেলের হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার ‘আহসান ভিলা (মিয়া বাড়ি)’র সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

কালকিনি (মাদারীপুর) : পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের আউলিয়ারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোবাদা বেগম (৬০) ওই গ্রামের সুলতান সরদারের স্ত্রী।

সাভার (ঢাকা) : আশুলিয়ায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওয়েস্টেজ ব্যবসায়ী মঈনুল ইসলামের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে শিমুলিয়া ইউনিয়নে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা, একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও বেশ কয়েকটি চাবি উদ্ধার করা হয়। নিহত মঈনুল ইসলাম গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর নামাপাড়া এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে।

বরিশাল : নগরীতে ঝুলন্ত অবস্থায় বৃদ্ধা সালেহা বেগমের (৬৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে আলেকান্দা এলাকার বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই বৃদ্ধার ছেলে রাজিব সিকদার সোহাগ জানান, তিন মাস আগে তাঁর মায়ের পেটের অপারেশন হয়েছে। এর পর থেকে তিনি প্রায়ই অসুস্থ। মাঝেমধ্যে ব্যথায় চিৎকার করতেন। রবিবার সকালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বাসার বাইরে যান। মা বাসায় একাই ছিলেন। তাঁরা বাসায় ফিরে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ, মাকে ডেকেও সাড়া পাচ্ছেন না। পরে পুলিশ ডেকে দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

রাজবাড়ী : কালুখালী উপজেলায় জসিম শেখ (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জসিম শেখ উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর গ্রামের মৃত বিশু শেখের ছেলে।

গতকাল সকালে গঙ্গানন্দপুর গ্রামের রেললাইনের পাশে একটি পোলট্রি খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। কালুখালী থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মুন্সীগঞ্জ : নিখোঁজের চার দিন পর খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় লাকি বেগমের (৬৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে সদর উপজেলার চরনুশুরা গ্রামের ঝাপটা এলাকায় লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, মৃতদেহটি মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষিকা লাকি বেগমের। মুন্সীগঞ্জ শহরে তাঁর বাসা থেকে চার দিন আগে তিনি নিখোঁজ হন।

বরিশালে ৭ খাল খনন না করেই ৩ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন

আজিম হোসেন, বরিশাল
বরিশালে ৭ খাল খনন না করেই ৩ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০২৪ সালে বরিশাল নগরীর মরে যাওয়া সাতটি খালের ১৮ কিলোমিটার খননকাজ শুরু করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, পাঁচ কোটি ২৬ লাখ টাকার কাজ ওই বছরের জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাল পরিষ্কার করতেই জুলাই পর্যন্ত সময় পার করে দেয়। জুলাইয়ের শেষের দিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন জোরদার হলে কাজ না করে তিন কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বিল তুলে নেয় ওই পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে জীবন্ত সাতটি খাল এখন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। জানা গেছে, এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরিশালের বাইরের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এসব ঠিকাদারের প্রকাশ্যে দেখা মিলছে না।

জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে খাল রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে ৩৯টি খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাস্তবে খাল রয়েছে সাতটি। সাতটি খাল খননের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। খাল খনন করা হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানও হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সফিক অ্যান্ড ব্রাদার্স সাগরদী  খাল খননে এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা, পলাশপুর খাল খনন বাবদ ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্স ৬১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং আমানতগঞ্জ খাল খনন বাবদ জামাল হোসেন এন্টারপ্রাইজ ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। এ ছাড়া রূপাতলী খাল খনন বাবদ মেসার্স আল মামুন এন্টারপ্রাইজ তুলে নেয় ১৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, একই প্রতিষ্ঠান চাঁদমারি খাল খননে ১৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ও ভাটার খাল খননের নামে দুই লাখ ৯১ হাজার উত্তোলন করে। আর জেল খাল খনন বাবদ লুত্ফর কবির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বরিশালের বাইরের। এদের কাজ দেওয়ার সময় যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হয়। এরপর কাজ কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এই কাজ বাবদ ওই জুলাই মাসেই দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়। আমার কাছে এর একটি প্রমাণপত্র রয়েছে। তবে এই বিল যেসব ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলন করা হয়েছে তাদের বিস্তারিত কোনো তথ্য বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে নেই।’

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যে খালগুলো খনন করার কথা সেই খালগুলো প্রায় মৃত। পানিপ্রবাহ নেই এসব খালে। সব খালই কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরা। দখলে মৃত রয়েছে এর মধ্যে দুই-তিনটি খাল। পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা রাজু খন্দকার জানান, খালটি খনন করা হয়েছে বলে তিনি এই প্রথম শুনেছেন। তিনি বলেন, খালটি খনন করা হলে পানিপ্রবাহ থাকত আর সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় পড়তে হতো না।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে দেখা মিলছে না। সংশ্লিষ্ট ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। বরিশাল সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তাঁদের খোঁজ পাচ্ছেন না।

নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘বরিশাল নগরীতে ৪৬টি খাল রয়েছে। এই খালগুলোর কয়েকটি দখল করে ভরাট করা হয়েছে। বাকি খালগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেগুলোর মধ্যে আছে নাপিতখালী, ভাটার খাল, নবগ্রাম, চাঁদমারী, ভেদুরিয়া, কলাডেমা, কাশিপুর, সোলনা, ভাড়ানী, পুডিয়ার, উত্তর নবগ্রাম সাগরদী, ঝোড়াখালী, তাজকাঠি, চৌপাশা, শোভারানী খাল, টিয়াখালী, রূপাতলী খাল ও পলাশপুর খাল। এগুলো একসময় বহমান ছিল। প্রথমে বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত এই খালাগুলো উদ্ধার করা, এরপর খননের ব্যবস্থা করা। আমার দেখা মতে, গত দুই যুগে বরিশালে খাল খনন হয়নি। খাল খননের নামে এই বিল কিভাবে উত্তোলন করা হলো তা আমার বোধগম্য নয়। অবশ্যই এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ

তাপপ্রবাহে বছরে ২৪ কর্মদিবস নষ্ট হতে পারে শ্রমিকদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
তাপপ্রবাহে বছরে ২৪ কর্মদিবস নষ্ট হতে পারে শ্রমিকদের

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশকে আরো উষ্ণ করে তুলছে না, বরং লাখ লাখ পরিবারকে আরো গভীর আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বাংলাদেশে শ্রমিকদের আয় যেমন কমছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসা খরচ। ‘হিট, হেলথ অ্যান্ড দ্য ইনক্রিজিং কস্টস অব লিভিং : আ কল ফর অ্যাকশন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলফি গ্লোবাল।

গতকাল রবিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে জলবায়ুজনিত চরম তাপপ্রবাহের সম্মিলিত অর্থনৈতিক প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারত ও নাইজেরিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও অনানুষ্ঠানিক শ শ্রমবাজারের আধিক্য, স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত উচ্চব্যয় ও সীমিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার কারণে ঝুঁকি আরো তীব্র হয়ে উঠছে। আটটি দেশের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার তথ্য প্রথমবারের মতো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ একই সঙ্গে মানুষের আয় কমায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায়।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা তাপজনিত কারণে বছরে গড়ে ২৩.৭৫ কর্মদিবস হারাতে পারেন। বর্তমানে এসব খাতে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৬.২৮ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ৯.৫৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সময় সব খাত মিলিয়ে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৪.২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৮৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা, যাঁদের অসুস্থতাজনিত ছুটি, স্বাস্থ্যবীমা বা আয় সুরক্ষার সুযোগ নেই, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। সূত্র : ওয়েবসাইট