• ই-পেপার

শাহ আমানত বিমানবন্দর

৪২০ আসনের উড়োজাহাজে যাত্রী মাত্র ১০৩ জন!

আজকের খেলা

আজকের খেলা

নরওয়ে-আইভরি কোস্ট (রাত ১১টা)

ফ্রান্স-সুইডেন (রাত ৩টা)

মেক্সিকো-ইকুয়েডর (কাল সকাল ৭টা)

হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু
শরীয়তপুরের শিশু নুসাইবার শরীরে দেখা দিয়েছে হামের উপসর্গ। গতকাল শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সিট না পাওয়ায় অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক হাজার চার শিশু এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জনের। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং একজন ময়মনসিংহে মারা গেছে। এ নিয়ে গত প্রায় সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭১৬ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ২১১ শিশুর। এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ শিশুর। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮০ হাজার ১৯৩ শিশু।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। এবারের নিউমোনিয়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিউমোনিয়ার তুলনায় বেশি ভয়াবহ। এতে রোগীর ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি ডায়রিয়া, সেপসিস এবং কানের সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

ডা. আতিকুল ইসলাম জানান, হামের জ্বর ও র‌্যাশ চলে যাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ হওয়ার পরও পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।

তিনি বলেন, এ সময় শিশুকে আইসোলেশনে রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো জরুরি। মাছ, মাংস, ডিম, শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়াতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন-এর ঘাটতি থাকলে জটিলতার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।

ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১৩ শতাধিক প্রাণহানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১৩ শতাধিক প্রাণহানি

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহ এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম দাবদাহে পুরো মহাদেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস এই তীব্র তাপপ্রবাহকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন।

এবারের তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে মাত্র কয়েক দিনে দেশটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একটি বড় অংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক। তীব্র গরমে বাড়িতেই মারা যাওয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন নদী ও হ্রদে গোসল করতে নেমে অন্তত ৭৪ জন ডুবে মারা গেছেন।

তাপপ্রবাহটি বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গতকাল সোমবারও ইউরোপের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে।

জার্মানিতে গত এক সপ্তাহে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত সাতজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ হ্রদ ও নদীতে গা ভাসাতে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দেশটিতে টানা তিন দিন ধরে তাপমাত্রার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙেছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চেক প্রজাতন্ত্রের ডকসানি অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি পার হয়ে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পোল্যান্ডের স্লুুবিস শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ মহাদেশ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রগুলো এই চরম তাপমাত্রার উপযোগী না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও ট্রেন পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। সূত্র : দ্য হিন্দু

 

দুই ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে পে স্কেল

জুলাই থেকে কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে পে স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে সরকার। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও তা পরিবর্তন করে এখন দুই ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হতে পারে। তবে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হারও কিছুটা কমানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। এ কারণে বেতন বৃদ্ধি ও ভাতা কার্যকরের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন পে স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা

তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি অর্থ হাতে পাবেন না। কারণ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে প্রশাসনিক আদেশ জারি, গেজেট প্রকাশ, হিসাব সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ একসঙ্গে অক্টোবর মাসে পরিশোধ করা হতে পারে।

তিন ধাপ থেকে দুই ধাপে : অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই কমিশনের সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার কথা ছিল। পরবর্তী বছর বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান বেতন এরই মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের প্রস্তাবিত বেতনের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সীমিত হবে। কিছু ক্ষেত্রে মোট আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি জানালে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। এতে চাকরিজীবীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ : নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার চার কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য মোট এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের বড় অংশ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।