• ই-পেপার

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

গল্প আলাদা লক্ষ্য এক

আজকের খেলা

আজকের খেলা

নরওয়ে-আইভরি কোস্ট (রাত ১১টা)

ফ্রান্স-সুইডেন (রাত ৩টা)

মেক্সিকো-ইকুয়েডর (কাল সকাল ৭টা)

শাহ আমানত বিমানবন্দর

৪২০ আসনের উড়োজাহাজে যাত্রী মাত্র ১০৩ জন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
৪২০ আসনের উড়োজাহাজে যাত্রী মাত্র ১০৩ জন!

১৭২ থেকে শুরু করে ৪২০ আসন ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল সব উড়োজাহাজ। অথচ আকাশপথের আন্তর্জাতিক রুটে দেশি-বিদেশি নামি সব এয়ারলাইনসের একেকটি ফ্লাইটে যাত্রী মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১০৩ জন! দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে দেখা দিয়েছে এমনই এক নজিরবিহীন ও উল্টো চিত্র। সাধারণত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে যাত্রী বাড়ার কথা থাকলেও এবার ঘটেছে তার ঠিক বিপরীত।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন এক ধাক্কায় ১০.২৪ শতাংশ কমে গেছে। আর মে মাসের একক হিসাবে প্রতি ফ্লাইটে ধারণক্ষমতার তুলনায় যাত্রী কমেছে গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত।

বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে চট্টগ্রামে গড়ে প্রায় ৮৩ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছে। অথচ চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মাসিক গড় নেমে এসেছে ৭৪ হাজার ৫০০ জনে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে যাত্রী কমছে আট হাজার ৫০০ জন বা ১০.২৪ শতাংশ। এই সময়ে বিমানবন্দরে নতুন কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস যুক্ত হয়নি, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধও করেনি। বিদ্যমান পাঁচটি এয়ারলাইনস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং সালাম এয়ার আগের তুলনায় আরো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। তবে যাত্রী না থাকায় বেশির ভাগ আসন ফাঁকা রেখেই উড্ডয়ন করতে হচ্ছে উড়োজাহাজগুলোকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬০৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রতিটিতে গড়ে যাত্রী ছিলেন ১৪০ জন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ফ্লাইট বাড়লেও যাত্রী সংখ্যা কমতে থাকে। গত এপ্রিলে বছরের সর্বোচ্চ ৬৮৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও চলতি বছর প্রতি ফ্লাইটে গড় যাত্রী কমে দাঁড়ায় ১০৭ জনে। আর সর্বশেষ মে মাসে ৬৫২টি ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা আরো কমে প্রতি ফ্লাইটে গড়ে মাত্র ১০৩ জনে নেমে আসে। ১৭২ থেকে ৪২০ আসনের উড়োজাহাজে মাত্র ১০৩ জন যাত্রী নেওয়া মানে বিমানগুলো তাদের মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ২৪ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। অর্থাৎ ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭৬ শতাংশ আসনই ফাঁকা থাকছে!

চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস ‘এয়ার অ্যারাবিয়া’র এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই যাত্রী পরিবহনে এই অস্বাভাবিক ধস নেমেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতজনিত আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃ তফসিল করতে হয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে নতুন কর্মীরা বিদেশে যেতে পারছেন না, আবার ঈদে দেশে আসা অনেক প্রবাসীও কর্মস্থলে ফিরতে বিলম্ব করছেন।

২০২৪ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে ৯ লাখ ২১ হাজার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১০ লাখ আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছিলেন। বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা (১১% প্রবৃদ্ধি হ্রাস) অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সাল শেষে এই সংখ্যা মাত্র আট লাখ ৯৫ হাজারে গিয়ে ঠেকবে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের তথ্য দিয়ে পুরো বছরের চিত্র মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। মে ও জুন মাসে পরিচালিত হজ ফ্লাইটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যুক্ত হলে এবং অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন মৌসুমের ব্যস্ততা শুরু হলে মোট যাত্রী সংখ্যা আরো বাড়বে।

 

হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু
শরীয়তপুরের শিশু নুসাইবার শরীরে দেখা দিয়েছে হামের উপসর্গ। গতকাল শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সিট না পাওয়ায় অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক হাজার চার শিশু এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জনের। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং একজন ময়মনসিংহে মারা গেছে। এ নিয়ে গত প্রায় সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭১৬ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ২১১ শিশুর। এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫১ শিশুর। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮০ হাজার ১৯৩ শিশু।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। এবারের নিউমোনিয়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিউমোনিয়ার তুলনায় বেশি ভয়াবহ। এতে রোগীর ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি ডায়রিয়া, সেপসিস এবং কানের সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

ডা. আতিকুল ইসলাম জানান, হামের জ্বর ও র‌্যাশ চলে যাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ হওয়ার পরও পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে।

তিনি বলেন, এ সময় শিশুকে আইসোলেশনে রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো জরুরি। মাছ, মাংস, ডিম, শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়াতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন-এর ঘাটতি থাকলে জটিলতার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।

ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১৩ শতাধিক প্রাণহানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১৩ শতাধিক প্রাণহানি

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহ এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম দাবদাহে পুরো মহাদেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস এই তীব্র তাপপ্রবাহকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন।

এবারের তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে মাত্র কয়েক দিনে দেশটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একটি বড় অংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক। তীব্র গরমে বাড়িতেই মারা যাওয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন নদী ও হ্রদে গোসল করতে নেমে অন্তত ৭৪ জন ডুবে মারা গেছেন।

তাপপ্রবাহটি বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গতকাল সোমবারও ইউরোপের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে।

জার্মানিতে গত এক সপ্তাহে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত সাতজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ হ্রদ ও নদীতে গা ভাসাতে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দেশটিতে টানা তিন দিন ধরে তাপমাত্রার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙেছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চেক প্রজাতন্ত্রের ডকসানি অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি পার হয়ে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পোল্যান্ডের স্লুুবিস শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ মহাদেশ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রগুলো এই চরম তাপমাত্রার উপযোগী না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও ট্রেন পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। সূত্র : দ্য হিন্দু