• ই-পেপার

নবীনগর

মবে নির্যাতনের দুই দিন পরও কোনো গ্রেপ্তার নেই

মানববন্ধন

মানববন্ধন
শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী মানববন্ধন করেন সাধারণ মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু

‘সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি ব্যবস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি ব্যবস্থা’

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আইন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। এদিকে অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের দেওয়া শোকজ নোটিশ আইনসম্মত নয় বলছেন আইনজীবী শিশির মনির।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লাভ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে কিংবা জবাব না দিলে আইনে যা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতাল স্থাপনাসংক্রান্ত বিধিমালা, বিদ্যমান আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান পর্যালোচনা করেই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি  বলেন, নোটিশটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার কর্তৃপক্ষ আমরা। তদন্তে অনিয়ম ও অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গত তিন বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকদের মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত অবহেলার ফল বলে উল্লেখ করেছে। তাদের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একজন নার্স ও একজন কর্মচারীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দায়ীদের শাস্তি চাইলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হোক, তা চায় না।

নবজাতকদের একজনের বাবা ও মামলার বাদী হাবিবুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা দায়ীদের শাস্তি চাই। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক, সেটা চাই না। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ঘোষিত সুবিধাগুলো ছাড়া অন্য কোনো অর্থ তাঁরা গ্রহণ করেননি।

তবে সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং কেন শুধু শিশির মনির বক্তব্য দিচ্ছেন এমন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন।

পিউ রিসার্চের জরিপ

ইসরায়েল নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মনোভাব নেতিবাচক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইসরায়েল নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মনোভাব নেতিবাচক

বিশ্বের ৩৬টি দেশের বেশির ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। সেই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তাঁদের আস্থা খুব সামান্য কিংবা একেবারেই নেই বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পরই মূলত জরিপসংক্রান্ত বেশির ভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।

জরিপের আওতাভুক্ত দেশগুলোর গড়ে ৬৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক বা প্রতিকূল মনোভাব দেখিয়েছেন। বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষের মনোভাব ছিল ইতিবাচক।

জরিপ করা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বা অঞ্চলগুলোয় ইসরায়েলের প্রতি এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে তীব্র। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম রয়েছে। তবে গাজা উপত্যকায় কোনো জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া জরিপের আওতায় থাকা ইউরোপের সবকটি দেশের মানুষই ইসরায়েল সম্পর্কে তুলনামূলক নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। বিশেষ করে ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের প্রায় অর্ধেক বা এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রতি তাঁদের অত্যন্ত নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। জরিপ করা সাব-সাহারা অঞ্চলের কিছু আফ্রিকান দেশে ইসরায়েলের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।

জরিপের আওতাভুক্ত ৩৬টি দেশের গড়ে ৬৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষের মনোভাব ছিল ইতিবাচক। আবার উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের ৭২ শতাংশেরই ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। বিপরীতে ৫০ বছর বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৫ শতাংশ।

অনেক দেশেই রাজনৈতিকভাবে বামপন্থী ও ডানপন্থী মতাদর্শের মানুষের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির বিশাল ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ৮৩ শতাংশ উদারপন্থী ও ৩৭ শতাংশ রক্ষণশীল মানুষের চোখে ইসরায়েল একটি নেতিবাচক দেশ। অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনে বামপন্থীদের প্রতি ১০ জনের প্রায় ৯ জন বা এর চেয়ে বেশি মানুষের মনোভাব ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক। দেশগুলোর প্রতিটিতেই বামপন্থীদের এই হার ডানপন্থীদের তুলনায় অন্তত ২৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

জরিপ করা প্রায় প্রতিটি উচ্চ আয়ের দেশেই রাজনৈতিক আদর্শের এমন ছোট, কিন্তু ধারাবাহিক ব্যবধান দেখা গেছে। সবখানেই ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থীরা ইসরায়েল সম্পর্কে বেশি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এমন ধারাবাহিক চিত্র দেখা যায়নি।

জরিপ করা বেশির ভাগ দেশের বেশির ভাগ মানুষই জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তাঁদের খুব একটা বা একেবারেই আস্থা নেই। এসব দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও (ফিলিস্তিনের) পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম রয়েছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর অর্ধেক বা এর চেয়ে বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর ওপর তাঁদের একবিন্দুও আস্থা নেই। দেশগুলোর মধ্যে শুধু কেনিয়া ও ফিলিপিন্সে অর্ধেকের বেশি মানুষ নেতানিয়াহুর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, হাঙ্গেরিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের ৭২ শতাংশেরই ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো ভারত। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ভারতে মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, আর ৩২ শতাংশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে জরিপে অংশ নেওয়া সব দেশের মধ্যে ভারতেই ইসরায়েলের প্রতি সবচেয়ে কম নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।

নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রশ্নেও ভারত ব্যতিক্রমী অবস্থানে। দেশটির মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, আর ৩৪ শতাংশ আস্থা রাখেন বলে জানিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স

চামড়ার বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা শেষ এবার ধলেশ্বরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চামড়ার বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা শেষ এবার ধলেশ্বরী

চামড়ার দূষিত বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা শেষ, এবার ধলেশ্বরীও শেষ হওয়ার পথেএমন মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর  রহমান। গতকাল শনিবার বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

হোসেন জিল্লুরের সঞ্চালনায় পিপিআরসি আয়োজিত এই ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল প্রমুখ।

চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান; ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নাসির খান এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প-কারখানাগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের অন্যতম যুক্তি ছিল বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণ থেকে বাঁচাতে হবে। এখন প্রায় ১০ বছর পর বুড়িগঙ্গাও শেষ, ধলেশ্বরীও শেষ হওয়ার পথে।

ওয়েবিনারে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে আমরা একটি সন্ধিক্ষণে আছি। এই বাস্তবতায় নতুন প্রবৃদ্ধির চালক ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ফিকে হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য অন্যতম বড় চালক হতে পারে। এমন বাস্তবতায় দুটি কাজ করা জরুরি হয়ে গেছে। এক. চামড়া শিল্পনগরীর দূষণ বন্ধে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) ঠিক করাসহ অন্যান্য উদ্যোগ নেওয়া; দুই. হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি মালিকদের জমির যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া। চামড়া শিল্পনগরীকে বিসিকের অধীনে নেওয়া ভুল একটা সিদ্ধান্ত ছিল। এখন এটিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে নেওয়ার আলোচনা হচ্ছে। এই কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে অবশ্যই শেষ করা উচিত। বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘোষিত তহবিলের নির্ধারিত আওতায় চামড়া খাতও রয়েছে। ফলে এই তহবিলের সুযোগ নেওয়ার মাধ্যমে চামড়া খাতে বড় রকমের গতি দেওয়া সম্ভব।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধ চামড়া খাত ক্রমান্বয়ে এক বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। সঠিক প্রক্ষেপণের অভাব, সময়মতো কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণে ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড সার্টিফিকেশন না পাওয়ার কারণে এই খাতে উন্নতির বদলে পশ্চাদপসরণ ঘটেছে। অথচ বিশ্ববাজারে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল খাতে বাংলাদেশের মাত্র ১.৬৭ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারি রয়েছে। হাজারীবাগের মতো জায়গা থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করার বিষয়টি হঠাৎ করে আসেনি, ক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরেই এটি চাচ্ছিলেন। তবে স্থানান্তরের সময় সঠিক প্রক্ষেপণ করা হয়নি। যেখানে মাত্র ১৩-১৪ হাজার কিউসেক বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে প্রকৃত চাহিদা ছিল ২৫ হাজার কিউসেকের। এর ফলে সাভারে স্থানান্তরের পরও বুড়িগঙ্গার পর এখন ধলেশ্বরী নদীও মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। একটি ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ইন্ডাস্ট্রিকে (৪০ হাজার কোটি টাকার দেশীয় বাজার ও ২০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাজার) টেকসই করতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ২০০ কোটি টাকা বাজেটের সেন্ট্রাল ইটিপি প্রজেক্ট শেষ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে, তবু কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মান বা ২৫ হাজার কিউসেকের সক্ষমতা অর্জন করা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বড় একটি খাতের সিইটিপি সংস্কারের জন্য এখনো সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাপানের মতো বিদেশি সাহায্য ও প্রজেক্টের মুখাপেক্ষী হয়ে নেগোশিয়েট করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের নতুন চ্যালেঞ্জ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি খাতের ওপর এই নিয়ম কার্যকর হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতও এর আওতায় আসবে। এর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনে কতটুকু কার্বন নির্গমন হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাড়তি কার্বন ট্যাক্স আরোপ করবে। বাংলাদেশ যদি এখনই পরিবেশবান্ধব সবুজ উৎপাদনে না যায় এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারে, তবে চামড়া খাত বিশ্ববাজার থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে পড়তে পারে।