দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটসহ উত্তরাঞ্চলের সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কুশিয়ারা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর প্রভাবে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্রমেই এসব এলাকার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাত ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আট জেলায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গতকাল শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এসব নদীর পানি আরো বাড়তে পারে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান শোভন কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেটে ভারি বৃষ্টি ও উজানের ভারি বর্ষণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতেও তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ রংপুরের রাজারহাটে বৃষ্টি হয় ৫২ মিলিমিটার।



