জনবল, ওষুধ সংকটে এখন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই রুগণ
ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাস

নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
৩ জেলায় ১ খুন, ৩ লাশ উদ্ধার

নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ। রংপুর পাটক্ষেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার। চট্টগ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) : চাটখিল উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের স্ত্রী রিপা আক্তারকে (১৯) হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রিপার বাবা সালাউদ্দিন জানান, গত শুক্রবার সকালে রিপা বাবার বাড়ি থেকে প্রসাদপুর শ্বশুরবাড়িতে যায়। সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর দেয় রিপা অসুস্থ। রিপার স্বামী প্রবাস থেকে মোবাইল ফোনে শ্বশুরকে বলেন, তাঁদের মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর সালাউদ্দিন ফয়সালদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন তাঁর মেয়ের লাশ বাড়ির উঠানে রেখে দিয়েছে।
ফয়সালের পরিবারের লোকজন বলেন, সে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রিপার বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তারা।’
রংপুর : তারাগঞ্জে গতকাল সকালে সানজিদা (৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর করানীপাড়া এলাকায় একটি পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শিশুটি ওই এলাকার সাইদুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়ত।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল সানজিদা। এক পর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে গতকাল জহুরুল আনোয়ার (৭৫) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান তিনি। শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন সিঁড়ির রেলিংয়ে তাঁর ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পায়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ছাগল তুলতে কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

পরিত্যক্ত এক কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা তুলতে গিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃগোষ্ঠীর চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকিতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তাঁর ছেলে নেইমার ম্রং (১২), এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ এলাকাবাসী জানায়, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে গেলে ছানাটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার। কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের সাড়া না পেয়ে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। একইভাবে গাব্রিয়াল এবং সবার শেষে কূপে নামেন রতন নকরেক। একে একে কূপে নামা চারজনের মধ্যে কারো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস টিম এসে পরিত্যক্ত কূপে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিয়ে ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামিয়ে দেয়। মনির একে একে সব কটি লাশ উদ্ধার করেন। মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান, চারটি লাশ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে গ্রহণ শেষে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কূপটির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অথবা অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে চারজন অচেতন হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, কূপটির গভীরতা আনুমানিক ৯ থেকে ১০ ফুট। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে প্রথমে শিশুটি মারা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে নেমে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মধুপুর থানার ওসি।
সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ সম্পাদক পরিষদের

সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটি এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করেছে।
গতকাল শনিবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সম্পাদক পরিষদ বলেছে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাবন্দি করার প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অবিলম্বে সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের মুক্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষ করে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।
