• ই-পেপার

ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাস

বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা

পুনরুজ্জীবনে ব্যবসায়ীদের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুনরুজ্জীবনে ব্যবসায়ীদের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান, সমৃদ্ধ হোন। আমরা আপনাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করব।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত এক রোড শোতে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন। বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মোস্তাফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) জানান,  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার চায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো সম্প্রসারিত হোক এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পথ তৈরি করা। তবে তিনি বলেন, একা সরকারের পক্ষে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো, আমরা একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে এবং পরিকল্পিতভাবে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিবর্তন আনি। সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সামনে ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনায় কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ প্রণোদনা, পরিবহন-সংযোগ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

পরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রায় ৫০টি প্রশ্ন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ এবং লাল তীরের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া পিটিই লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ কার্যালয় এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

সুইডেনের জালে নেদারল্যান্ডসের গোলোৎসব

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সুইডেনের জালে নেদারল্যান্ডসের গোলোৎসব
জোড়া গোলদাতা ব্রায়ান ব্রোবির সঙ্গে সতীর্থদের উল্লাস। সুইডেনের বিপক্ষে এ ম্যাচটাও জিতেছে ব্রোবির নেদারল্যান্ডস। ছবি : সংগৃহীত

তিউনিশিয়ার জালে গোলোৎসব করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সুইডেন। নিজেদের প্রথম ম্যাচটি সেদিন পাঁচ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল সুইডিশরা। তবে গত রাতে হিউস্টনে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল তারা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে সুইডেন।

নেদারল্যান্ডসের দুই ঝড়ে উড়ে গেছে সুইডেন। প্রথম ঝড়ের নাম ব্রায়ান ব্রোবি। ১২ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। তাতে হিউস্টনের পুরো গ্যালারিতে কমলা রঙের ঢেউ ওঠে। শুরুটা হয় ম্যাচের ৫ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে কোডি গাকপোর বাড়ানো পাসে বল জালে জড়ান স্যান্ডারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। তাঁর দ্বিতীয় গোলটিও অনেকটা একই রকম। এবার ম্যাচের ১৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের পাস থেকে গোল করেন ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান ব্রোবি। তাতে ম্যাচের শুরুতেই হারের শঙ্কা জেঁকে ধরে সুইডেনের ওপর।

বিরতির পরপরই গাকপোর আরেক ঝড়ে ব্যবধান বাড়ায় ডাচরা। সাত মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন গাকপো। দ্বিতীয়ার্ধের কিক অফের দুই মিনিটের মাথায় সতীর্থ ডামফ্রিসের বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিং করেন গাকপো। তিনি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন ম্যাচের ৫৪ মিনিটের সময়। বদলি হিসেবে নামা ক্রিসেনসিও সামারভিলের অ্যাসিস্টে গোল করেন গাকপো। সামারভিল অবশ্য অ্যাসিস্ট করেই সন্তুষ্ট হননি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সুইডেনের জালে পাঁচ নম্বর গোলটি যায় তাঁর পা থেকে। বদলি হিসেবে নামা মেম্ফিস ডিপাইয়ের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে স্কোরশিটে নাম তোলেন তিনি।

এর আগে ৫৯ মিনিটের সময় ব্যবধান কমিয়েছিল সুইডেন। আলেক্সান্ডার ইসাকের পাস থেকে গোলটি করেন অ্যান্থনি এলেঙ্গা। আজ অবশ্য ভাগ্যকেও খুব একটা পাশে পায়নি সুইডেন। সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বেশ কয়েকটি। দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন। পুরো ম্যাচে সাতটি দুর্দান্ত সেভ দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। এই জয়ে এফ গ্রুপ থেকে শীর্ষে উঠে এলো নেদারল্যান্ডস। নিজেদর প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা।

 

ছাগল তুলতে কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
ছাগল তুলতে কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু

পরিত্যক্ত এক কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলছানা তুলতে গিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃগোষ্ঠীর চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকিতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে  ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তাঁর ছেলে নেইমার  ম্রং (১২), এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা  লাভলু তরফদার  এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ এলাকাবাসী জানায়, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে গেলে ছানাটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে শিশু নেইমার। কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের সাড়া না পেয়ে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। একইভাবে গাব্রিয়াল এবং সবার শেষে কূপে নামেন রতন নকরেক। একে একে কূপে নামা চারজনের মধ্যে কারো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস টিম এসে পরিত্যক্ত কূপে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিয়ে ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামিয়ে দেয়। মনির একে একে সব কটি লাশ উদ্ধার করেন। মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান, চারটি লাশ ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে গ্রহণ শেষে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কূপটির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অথবা অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে চারজন অচেতন হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, কূপটির গভীরতা আনুমানিক ৯ থেকে ১০ ফুট। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে প্রথমে শিশুটি মারা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে নেমে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মধুপুর থানার ওসি।

সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ সম্পাদক পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ সম্পাদক পরিষদের

সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটি এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করেছে।

গতকাল শনিবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সম্পাদক পরিষদ বলেছে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাবন্দি করার প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অবিলম্বে সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের মুক্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষ করে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।