kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রোহিঙ্গা শিবিরে মিশেল বাশেলেত

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রত্যাবাসনের আশ্বাস

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রত্যাবাসনের আশ্বাস

বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেত বলেছেন, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারসহ তাদের মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেবে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন হবে বলে তিনি তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মিয়ানমারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মিশেল বাশেলেত এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় কয়েকটি শিবিরের রোহিঙ্গা নারী, যুব প্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ইমামদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করেন।

এ সময় হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চান, এ দেশের আশ্রয়শিবিরে তাদের জীবন কেমন কাটছে। তিনি রোহিঙ্গা শিবিরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষার সুযোগের বিষয়েও প্রশ্ন করেন।

মিশেল বাশেলেত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আগ্রহের বিষয়ে খোঁজ নেন। রোহিঙ্গারা তাঁকে জানিয়েছে, মিয়ানমারে এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সে রকম পরিবেশ সৃষ্টি হলে, তাদের নাগরিক অধিকার ও হারানো ভিটামাটি ফিরিয়ে দিলে এবং গণহত্যার বিচার হলে তারা অবশ্যই তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

মিশেল বাশেলেত সকালে কক্সবাজারের উখিয়া ৪ নম্বর শিবিরে যান। এ সময় ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ নামের রোহিঙ্গাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে একটি চিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন রোহিঙ্গা নারী নেত্রী জামালিদা বেগম। বাশেলেত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধনকেন্দ্রে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গেও কথা বলেন।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার খালিদ হোসেন জানান, এ সময় রোহিঙ্গা শিবিরের যুবক ও ইমামদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।

রোহিঙ্গা যুবক আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কেমন আছি, তা জানতে চান তিনি। তাঁকে বলেছি, মিয়ানমারের চেয়ে হাজার গুণ ভালো আছি। কারণ ওখানকার সেনারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং হত্যা করেছে। ’

হাইকমিশনারকে আবদুল আজিজ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের খাবার থেকে শুরু করে যাবতীয় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। খেলাধুলার পাশাপাশি ক্যাম্পে খুনখারাবির বিষয়টি জানানো হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের পাঠ্যসূচি (কারিকুলাম) চালু করতে তিনি অনুরোধ করেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিব উল্লাহর বিষয়ে জানতে চান তিনি।

আজিজ বলেন, মাস্টার মুহিব উল্লাহ না থাকায় রোহিঙ্গাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভালোমন্দের ব্যাপারে আর কেউ তেমন চিন্তা করছে না।

উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও নিপীড়নের কথা শুনেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। আমি বলেছি, নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। তবে আবার যেন সেখানে গিয়ে নির্যাতনের মুখে পড়তে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি আমাদের বিষয়গুলো সবখানে তুলে ধরার কথা জানান। ’

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে বাশেলেতের সঙ্গে ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. খালিদ হোসেন, ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার চার দিনের সফরে গত রবিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান। প্রথম দিন তিনি সরকারের চার মন্ত্রী এবং দ্বিতীয় দিন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কক্সবাজার যান। আজ সফরের শেষ দিন সকালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা।

 



সাতদিনের সেরা