kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘রাস্তা আটকে উন্নয়ন আর কত দিন’

সরেজমিন তেজকুনিপাড়া ও পশ্চিম তেজতুরী বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘রাস্তা আটকে উন্নয়ন আর কত দিন’

তেজতুরী বাজার : রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে চলছে পয়োনিষ্কাশন পাইপ বসানোর কাজ। কিন্তু কাজে ধীরগতি থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। গতকাল রাজধানীর গ্রিন রোডের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি : লুৎফর রহমান

পাঁচ মাস ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশে চলছে সড়ক ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ। রাস্তা আটকে করা এসব নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ার ফলে ভুগছে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কালের কণ্ঠের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে এসব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেজকুনিপাড়া পোস্ট অফিস মোড় থেকে বিজয় সরণির উড়ালসেতুর নিচ পর্যন্ত রাস্তা আটকে চলছে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ।

বিজ্ঞাপন

এ রাস্তা দিয়ে ফার্মগেট হয়ে মহাখালী, উত্তরা ও এয়ারপোর্টের দিকে যাতায়াত করা যায়। রাস্তা বন্ধ থাকায় বাড়ছে ভোগান্তি ও যানজট।

এলাকাবাসী জানায়, রোজার ঈদের আগে কাজ শুরু হলেও কয়েক দিনের মধ্যে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আরো কয়েকবার কাজ শুরু ও বন্ধ হয়।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেভাবে কাজ চলছে তাতে দুই মাসেও শেষ হবে না। রাস্তা আটকে উন্নয়ন করা হবে কত দিন? এরা শুধু আমাদের ভোগান্তিতে ফেলতে পছন্দ করে। সব কয়টি রাস্তা এই কাজের জন্য বন্ধ হয়ে আছে। ’

একই অভিযোগ করেন রাজধানীর হলি ক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হাবিবা আলম। তিনি বলেন, ‘রাস্তা খোঁড়ার পর থেকেই চলাচলে খুব অসবিধা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে তো আরো বেশি অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। পুরো রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। স্লিপ খাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ’

একই চিত্র ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকার আব্দুল হালিম কমিউনিটি সেন্টারের সামনের সড়কে। সেখানে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে রাস্তা ভেঙে বসানো হচ্ছে পয়োনিষ্কাশন পাইপ। সরু রাস্তাটির অক্ষত অংশে ফেলে রাখা হয়েছে পয়োনিষ্কাশনের পাইপ। ভাঙা অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন সপ্তাহ ধরে ঢিমে তালে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। মহল্লার বাসিন্দাদের হেঁটে চলাচলের জায়গায়ও অবশিষ্ট নেই। রাস্তায় রাখা গোল পাইপের ভেতর দিয়ে হেঁটে, কমিউনিটি সেন্টারের গ্যারেজ পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কলেজ শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, ‘এক মাস ধরে এই রাস্তায় হাঁটার কোনো উপায় নেই। আমরা প্রতিদিন এভাবেই কলেজে যাচ্ছি। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার উপায় নেই। কাজ আর শেষ হচ্ছেই না। ’

কাউন্সিলর ও ডিএনসিসি কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতার জন্য একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা।

ডিএনসিসির বরাতে জানা যায়, প্রকল্প দুটিতে মোট দুই কোটি ৮৩ লাখ পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তেজকুনিপাড়া পোস্ট অফিস মোড় থেকে বিজয় সরণির উড়ালসেতু পর্যন্ত প্রকল্পের আড়াই কিলোমিটার সড়কের জন্য এক কোটি ছয় লাখ ৩৮ হাজার এবং পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকার আব্দুল হালিম কমিউনিটি সেন্টারের সামনের সড়কের জন্য এক কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ যথাক্রমে পাঁচ ও ছয় মাস হলেও বিলম্বে কাজ শুরু করেন ঠিকাদাররা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসি অঞ্চল-৫-এর এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাজটি সময়মতো শুরু হয়নি। কাজটি শুরু করতে গেলে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাধা দেন। তিনি কাজটি রমজানের ঈদের পর শুরু করতে বলেন। ঈদের পর আমরা আবার কাজ শুরু করলে কিছুদিন পর তিনি আবার কাজ বন্ধ করে দিতে বলেন। যার কারণে আমরা কোরবানির ঈদের পর পুরোপুরি কাজ ধরতে পেরেছি। ’

আর প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানেন না দাবি করে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামিম হাসান বলেন, ‘এই কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঠিকাদাররা আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনাই করে না। তারা সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ করতে থাকে। কতটুকু কাজ হয়েছে, কবে শেষ হবে—কিছুই আমাদের জানায় না। ’ ডিএনসিসির বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা কাজ শুরু করতেই এসেছিল রোজার ঈদের দু-তিন দিন আগে। সে জন্য ওই সময় কাজ করতে মানা করেছি। ’

রাস্তার উন্নয়নকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তেজকুনিপাড়া অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জীবন কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে এক মাস সময় লাগবে। ’

পশ্চিম তেজতুরী বাজার অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রিমস করপোরেশনের প্রতিনিধি মো. মাহমুদও জানান, রাস্তা পুরোপুরি ঠিক হতে আরো মাসখানেক সময় লাগব।

তেজকুনিপাড়া : দেখে মনে হতে পারে ডোবা বা নালা, আসলে এটি তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ার একটি সড়ক। পয়োনিষ্কাশনের পাইপ বসানোর জন্য রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।     ছবি : কালের কণ্ঠ  



সাতদিনের সেরা