kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

উন্মুক্ত পাঠাগার

‘নির্ঝরিণী’তে পড়ার আনন্দ

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নির্ঝরিণী’তে পড়ার আনন্দ

তরুণ-তরুণীদের বইয়ে ফেরাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে তৈরি করা হয়েছে উন্মুক্ত লাইব্রেরি ‘নির্ঝরিণী’। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে জীবনযাপন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ঝুঁকে পড়ছে। এতে দিন দিন বই পড়ায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মকে বইয়ে ফেরাতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মিনিপার্কে উন্মুক্ত পাঠাগার তৈরি করেছেন ইউএনও নাহিদ হাসান খান।

বিজ্ঞাপন

‘নির্ঝরিণী’ নামের এই পাঠাগার ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত থাকায় শিশুসহ সব বয়সের মানুষ এখানে বই পড়ে আনন্দে সময় কাটাতে আসে।

২০০৫ সালে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের সময় কাটানোর জন্য ওই মিনিপার্ক বানান। ২০১৬ সালে তাঁর উত্তরসূরি শামসুল আলম পার্কের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেন। প্রায় দুই বিঘার ওপর নির্মিত পার্কের অর্ধেক জায়গাজুড়ে পুকুর। পুকুরের পার ও অন্যান্য স্থানে বসার জায়গা ও দোলনা বসানো আছে। আছে শিশুদের খেলাধুলার সরঞ্জাম। এক পাশে শহীদ মিনার। তীব্র রোদে বিশ্রামের জন্য আছে ছাউনি দিয়ে নির্মিত গোল ঘর। মিনিপার্কে ঢুকলেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন পাঠাগার। সামনেই পড়ার জন্য গোলটেবিল। পুরো চত্বরটি বিভিন্ন ঔষধি, বনজ ও ফলদ গাছের ছায়ায় ঢাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিবেশে দর্শনার্থীরা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে দোলনা অথবা বসার স্থানে বসে আনন্দের সঙ্গে বই পড়ে। রাতেও বই পড়ার জন্য পাঠাগারের সামনে আলোর ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। অনেকে রাতেও বই পড়তে যায় সেখানে।

বর্তমান ইউএনও নাহিদ হাসান খান গত বছর ডিসেম্বরে যোগদানের পর থেকেই এই পার্কের উন্নয়ন ও পাঠাগার নির্মাণের কাজ শুরু করেন। গত ১৭ এপ্রিল উদ্বোধন হওয়া এই পাঠাগার মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রথমে দেশি-বিদেশি বিখ্যাত লেখকের ভাষা, ইতিহাস, প্রবন্ধ, গল্প, শিশুতোষ, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৫০০ বই রাখা হয়। পরে আরো কিছু বই সরবরাহ করা হয়। তরুণ-তরুণীরা এতে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজন আলী বলে, ‘আগে থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই পার্কে এসে সময় কাটাতাম। তখন শুধু গল্পগুজব অথবা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থেকেছি। কিন্তু এখন এসে বই পড়ে আনন্দে সময় কাটাই। ’

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নুরুজ্জামান মুসাফির বলেন, ‘আমি প্রায় প্রতিদিন পাঠাগারে আসি। সেখানে সবার বই পড়ার আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। জ্ঞানের আলো ছড়াতে ইউএনও অনেক ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মনে এই ব্যতিক্রমী পাঠাগার দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছে। এটা সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। ’ ইউএনও নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বই মানুষকে সৃজনশীল ও মননশীল করে গড়ে তোলে। বই পড়ে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। আর একটি সুন্দর জাতি গঠনে জ্ঞানী নাগরিকের অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সবাইকে বই পড়তে আগ্রহী করার জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। সেই চিন্তা থেকেই মূলত এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করি। ’



সাতদিনের সেরা