kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

সাক্কুর সম্পদ বেড়েছে, নগদ টাকা নেই রিফাতের

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



সাক্কুর সম্পদ বেড়েছে, নগদ টাকা নেই রিফাতের

আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ছয়জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ে এই ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী। রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামার কপি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া গেছে। ছয় মেয়র পদপ্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, কুসিকের সদ্য সাবেক মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (গতকাল রাতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) মনিরুল হক সাক্কু গত পাঁচ বছরে নগদ টাকাসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সাক্কুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্পদ বেড়েছে তাঁর স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলিরও। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাক্কুর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে বেশি।

হলফনামায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আরফানুল হক রিফাত উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকে টাকা ও সম্পদ থাকলেও তাঁর হাতে নগদ টাকা নেই। কুসিক প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মেয়র ছিলেন সাক্কু। এবার বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় সাক্কু নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিফাতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাক্কু সম্পদের দিক থেকে বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও শিক্ষায় এগিয়ে রিফাত। সাক্কুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি, আর রিফাত করেছেন বিএ পাস।  

২০১৭ সালের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কুসিকের দ্বিতীয় নির্বাচনে সাক্কুর হাতে নগদ টাকা ছিল ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৬ টাকা। বর্তমানে সাক্কুর হাতে নগদ টাকা আছে এক কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ টাকা। ২০১২ সালের কুসিকের প্রথম নির্বাচনে সাক্কুর হাতে ছিল এক কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। ২০১২ সালের নির্বাচনের সময় সাক্কুর স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলির নগদ টাকা ছিল দুই লাখ ৯৯ হাজার ৭৯৮ টাকা। ২০১৭ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫২৩ টাকা। বর্তমানে সাক্কুর স্ত্রীর হাতে নগদ অর্থ আছে ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় গত নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামার তথ্যানুযায়ী বসুন্ধরায় সাক্কুর তিন কাঠা, মধুমতীতে পাঁচ কাঠা, স্বদেশে পাঁচ কাঠা করে দুটি প্লট এবং ০.০১৬ একর, ০.৪১৯৯ একর ও ০.০৯২৩ একর অকৃষি জমি ছিল। এ ছাড়া চার হাজার ৬৯০ বর্গফুটের দোকান ও ফ্ল্যাট ছিল। এবারের হলফনামায় সাক্কু উল্লেখ করেছেন, যৌথ মালিকানাধীন ২০ একর কৃষিজমি (নিজ অংশ ১৭ ভাগের ২ ভাগ), লালমাইয়ে ২৫০ শতক কৃষি জমি, বসুন্ধরায় তিন কাঠা, মধুমতীতে পাঁচ কাঠা, স্বদেশে পাঁচ কাঠা করে দুটি প্লট, কুমিল্লা সদরের বজ পুরে যৌথ মালিকানাধীন ৬ এবং ১৭ শতকের দুটি জমি (নিজ অংশ ১৭ ভাগের ২ ভাগ) রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার ফাতেমা জাহানারা টাওয়ারে এক হাজার ৯৫০ বর্গফুট, ২৫৮ বর্গফুট, ১৯০ বর্গফুট ও এক হাজার ৮৪০ বর্গফুটের চারটি দোকান এবং এক হাজার ৬৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একই এলাকার সাত্তার খান কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি দোকান।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় গত নির্বাচনের সময় হলফনামায় সাক্কুর স্ত্রীর নামে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সেল নিশা টাওয়ারের দোতলায় ১২টি দোকান, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সাত হাজার ২৫৬ বর্গফুটের রেডরোফ ইন হোটেল, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাট, ফাতেমা জাহানারা টাওয়ারে তিন হাজার ২২৯ বর্গফুটের স্পেস রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এবারের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সাক্কুর স্ত্রীর নামে গাইবান্ধায় ১.২৩ একর কৃষিজমি,  বসুন্ধরায় তিন কাঠা জমি, কুমিল্লা নগরীর সেল নিশা টাওয়ারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সাত হাজার ২৫৬ বর্গফুটের রেডরোফ ইন হোটেল, একই ভবনে দুটি ফ্ল্যাট, ঢাকার ধানমণ্ডিতে দুটি দোকান, কুমিল্লা সদরের বজ পুরে ০.৫ একর ভিটি, একই এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে ১৭টি ফ্ল্যাট, ঢাকার গুলশানে তিন হাজার ৮২৭ বর্গফুট, তিন হাজার ৩৭৩ বর্গফুট, তিন হাজার ৩১৭ বর্গফুট ও তিন হাজার ৩৯০ বর্গফুটের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে।    

গত নির্বাচনে হলফনামায় সঞ্চয়পত্র বাবদ সাক্কুর ছিল দুই লাখ টাকা। এবার তা দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ টাকায়। তাঁর স্ত্রীর ছিল ২৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এবার হয়েছে ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৪ টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে সাক্কুর বার্ষিক আয় চার লাখ আট হাজার টাকা, তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৬ টাকা। মেয়র পদে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাক্কুর স্ত্রী ব্যবসায় পুঁজি খাটিয়েছেন ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাক্কুর ব্যাংকে জমা আছে দুই লাখ ৯৪ হাজার ২৭ টাকা আর তাঁর স্ত্রীর জমা আছে ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৭ টাকা। দুজনের গাড়ি আছে দুটি। দুজনের স্বর্ণ আছে ১০ তোলা করে। পুঁজিবাজারে সাক্কুর দুই লাখ টাকাসহ আরো বেশ কিছু সম্পদের উল্লেখ আছে হলফনামায়।

সাক্কুর বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে একটি এবং আয়কর অধ্যাদেশ আইনে কুমিল্লায় একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরো ১০টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের নামে একটি হত্যা মামলা থাকলেও সেটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। রিফাতের হাতে নগদ কোনো টাকা নেই। তবে ব্যাংকে তাঁর নামে ছয় লাখ ১২ হাজার ৪৯৫ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে আছে ৩৩ হাজার ২০০ টাকা। রিফাতের বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় আছে ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৪ টাকা। তাঁর গাড়ি আছে দুটি। রিফাতের ২০ ভরি স্বর্ণ ও তাঁর স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রিফাতের নামে কুমিল্লার সালমানপুরে ১৭ শতক ও স্ত্রীর নামে ছয় শতক সম্পত্তি রয়েছে। রিফাতের ঢাকা ও কুমিল্লায় দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া রিফাতের যৌথ মালিকানাধীন আরো কিছু সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়।   

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে তিনি বিএসএস পাস। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দুটি মামলা বিচারাধীন। অস্ত্র আইনে ১০ বছরের সাজা পাওয়া একটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। ইমরানের হাতে নগদ দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৪২ টাকা আছে। ব্যাংকে জমা আছে তিন লাখ ১৭ হাজার ২৫৮ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা। ইমরান ও তাঁর স্ত্রীর গাড়ি আছে দুটি। স্বামী-স্ত্রীর স্বর্ণ আছে ৭৫ তোলা। কৃষি খাত থেকে ইমরানের বার্ষিক আয় ২০ হাজার টাকা আর ব্যবসা থেকে আয় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নিজের নামে কৃষিজমি আছে ৭৭.৬৬ শতক। ঢাকায় ফ্ল্যাট আছে একটি। এ ছাড়া লালমাই পাহাড়ে জমি আছে ১.১২ একর।

বিএনপিপন্থী আরেক প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বি কম পাস করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আটটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। এ ছাড়া আরো ছয়টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। কায়সারের চাকরি থেকে বার্ষিক আয় আট লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম কামিল পাস। শিক্ষকতা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় তিন লাখ ১৮ হাজার টাকা। হাতে নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল এইচএসসি পাস। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।

 

 



সাতদিনের সেরা