kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

বিদ্রোহী নিয়ে চিন্তিত তৃণমূল, পাত্তা দিচ্ছেন না রিফাত

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিদ্রোহী নিয়ে চিন্তিত তৃণমূল, পাত্তা দিচ্ছেন না রিফাত

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) প্রতিষ্ঠার পর হওয়া দুটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগকে হারিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। আগামী ১৫ জুনের ভোটের মধ্য দিয়ে তিনি বিজয়ের হ্যাটট্রিক করবেন, নাকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেউ বসবেন নগরপিতার আসনে—সে আলোচনাই এখন নগরীর সর্বত্র। বিগত দুটি নির্বাচনে দল ক্ষমতায় থাকলেও কেবল অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরেছিলেন বিশাল ভোটের ব্যবধানে। এবারে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনেপ্রাণে চাইছেন, মেয়রের চেয়ারে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বসুন।

বিজ্ঞাপন

কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন দুপুর পর্যন্ত রিফাত ও নেতাকর্মীরা অনেকটাই নিশ্চিত ছিলেন যে এবার দলে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকছে না। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ সময়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। ইমরান বলেছেন, যত কিছুর বিনিময়ে হোক তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে লড়বেন। ইমরান প্রার্থী হওয়ার ফলে এরই মধ্যে পাল্টে গেছে কুসিক নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ। সাক্কুর বিরুদ্ধে বিএনপিপন্থী হেভিওয়েট প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনী মাঠে থাকায় এত দিন বিএনপির কোন্দলে রিফাত সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে যেন উল্টেই গেল ভোটের হিসাব। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এখন রিফাতের গলার কাঁটা।

আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামায় এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সাক্কু। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় কোন্দল মিটিয়ে ইমরানকে থামানো না গেলে ক্ষতি হবে দলেরই। তবে বিষয়টিতে পাত্তা দিচ্ছেন না রিফাত। তিনি বলছেন, সবাই শেষ পর্যন্ত নৌকার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ইমরানের নির্বাচনে অংশগ্রহণে তিনি মোটেও অবাক নন।

রিফাত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইমরান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ঘনিষ্ঠ কর্মী আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের ছেলে। কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইমরান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাহাউদ্দিন বাহারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে হেরেছেন। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমার ভাই। কুসিক নির্বাচনে এবার সীমা, ইমরানসহ ১৪ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুসিকের গত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী হিসেবে আস্থা রেখেছিল আফজল খানের পরিবারে। ২০১২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত আফজল খান। ২০১৭ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা। দুটি নির্বাচনে বিএনপি নেতা সাক্কুর কাছে পরাজিত হন বাবা-মেয়ে। এবারই প্রথমবারের মতো খান পরিবারের বাইরে গেছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। গত দুটি নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের কারণে কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রয়াত আফজল খানের সঙ্গে এমপি বাহারের ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। নব্বইয়ের দশক থেকেই দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ বাহারকে বেছে নিলে আফজল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আবার আফজলকে বেছে নিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাহার। আফজল খান মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে এমপি বাহারের সেই রাজনৈতিক বিরোধ এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে আফজল খানের পরিবারের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর মেয়ে সীমা ও ছেলে ইমরান। আফজল খানের পরিবারের সঙ্গে বাহারের সেই বিরোধ কুসিক নির্বাচনে আবার প্রকাশ্যে এলো।

জাহাঙ্গীর আলম ও ফয়েজ আহমেদ নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের দুই কর্মী বলেন, তাঁরা চান এবার পরিবর্তন হোক, নৌকার প্রার্থীই মেয়রের চেয়ারে বসুন। কিন্তু দলীয় কোন্দলসহ সব বাধা ডিঙিয়ে নৌকার প্রার্থী মেয়র হওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের অন্তত তিনজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ইমরান যত ভোটই পাক তা আওয়ামী লীগেরই। কুমিল্লা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর বাবার একটি প্রভাব ছিল। তাঁকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

ইমরান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা নগরীর মানুষের সঙ্গে আছি। বাবার আদর্শে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। কুমিল্লা নগরীর মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। যত কিছুর বিনিময়ে হোক শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। আশা করছি, মানুষ আমাকেই তাদের মেয়র হিসেবে বেছে নেবে। ’

রিফাত বলেন, ‘আমার পক্ষে তৃণমূল থেকে প্রতিটি স্তরের আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। আশা করছি, কুমিল্লার মানুষ আমাকেই ১৫ জুনের নির্বাচনে বেছে নেবে। আমি মেয়র না, মানুষের সেবক হতে চাই। নেত্রীকে নৌকার বিজয় উপহার দিতে চাই। ইমরানকে বলব, তার শুভবুদ্ধির উদয় হোক, তিনি নৌকা ও আওয়ামী লীগের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ

কুসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ১৬৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী। তিনি জানান, মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭টি ওয়ার্ড থেকে ১২০ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৯টি পদের জন্য ৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

 



সাতদিনের সেরা