kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

রাজশাহীর দুই কৃষকের মৃত্যু বিষপানেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীর দুই কৃষকের মৃত্যু বিষপানেই

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নিমঘুটু গ্রামের দুই সাঁওতাল কৃষকের মৃত্যু বিষপানেই হয়েছে। দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, “ময়নাতদন্তের সময় নেওয়া নমুনা আমরা ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। ওই রিপোর্ট আসার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট করেছি। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত দুজনের শরীরে কীটনাশকজাতীয় বিষ পাওয়া গেছে। এটি ‘অর্গানো ফসফরাস যৌগ’ নামের এক ধরনের কীটনাশক বিষ। তাই আমরা চূড়ান্তভাবে প্রতিবেদন দিয়েছি যে বিষপানের কারণেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ” গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যেহেতু দুই কৃষকের মৃত্যুর কারণ বিষপান বলা হয়েছে, সুতরাং আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার মধ্যেই এটি পড়ে। মামলাটি এখন সেভাবেই পরিচালনা করা হবে। এ মামলার চার্জশিট হবে।

গত ২৩ মার্চ নিমঘুটু গ্রামের কৃষক অভিনাথ মারাণ্ডি এবং তাঁর চাচাতো ভাই রবি মারাণ্ডি বিষ পান করেন। অভিনাথ ২৩ মার্চ রাতেই বাড়িতে মারা যান। আর ২৫ মার্চ হাসপাতালে মারা যান রবি। অভিনাথের বাড়ি থেকে যখন মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করছিল, তখন পরিবার অভিযোগ করছিল যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ থেকে পানি পাচ্ছিলেন না দুই কৃষক।

নলকূপের অপারেটর ও ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন দুই কৃষককে পানি না দিয়ে বিষ পান করতে বলেছিলেন। তাই দুজনে দুঃখে বিষ পান করেন।

তবে পরিবারের এমন কথায় পাত্তা দিচ্ছিল না পুলিশ ও প্রশাসন। সে সময় সাখাওয়াত বলছিলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরা চোলাই মদ পান করে। এ কারণে অভিনাথের মৃত্যু হতে পারে। পুলিশ-প্রশাসনের অনেকেই আবার সেদিন এ কথার সঙ্গে সায় মেলাচ্ছিল। তবে ২৫ মার্চ মৃত অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম থানায় যান আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করতে। পুলিশ মামলা না নিয়ে দীর্ঘ সময় তাঁকে বসিয়ে রেখেছিল।

খবর পেয়ে থানায় যান আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তখন পুলিশ সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেয়। পরে রবি মারাণ্ডি মারা গেলে তাঁর ভাই সুশীল মারাণ্ডিও আত্মহত্যার প্ররোচনার আরেকটি মামলা করেন। পানির জন্য দুই কৃষকের আত্মহত্যার খবর প্রচারিত হলে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

পরে ঘটনার ১১ দিন পর পুলিশ অভিযুক্ত সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করে। সেদিনই বিএমডিএ তাঁকে চাকরিচ্যুত করে। পরে আদালতের আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াতকে দুই দিন কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আর আলাদা তদন্ত কমিটি করে ঘটনা তদন্ত করেছে বিএমডিএ ও কৃষি মন্ত্রণালয়। এত কিছু হলেও দুই কৃষকের মৃত্যু নিয়ে অনেকেই প্রচার চালাতে থাকে যে চোলাই মদপানে তাঁরা মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিষপানের কথাই উঠে এলো।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে দুই কৃষকের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। সেখানে আজ মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গিয়েই এ বিষয়টি শুনলাম। কীটনাশক পানের কারণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ’

ওসি বলেন, ‘কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত সাখাওয়াত নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর পানিবণ্টনে অনিয়ম ছিল।

এখন যেহেতু দুই কৃষকের মৃত্যুর কারণ বিষপান বলা হয়েছে, সুতরাং আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার মধ্যেই এটি পড়ে। মামলাটি এখন সেভাবেই পরিচালনা করা হবে। এ মামলার চার্জশিট হবে। ’



সাতদিনের সেরা