kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

বগুড়ায় নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বগুড়ায় নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দোতলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফাইমা আক্তার বাদী হয়ে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ইউএনওর উপস্থিতিতে প্রকল্প বিভাজনের জন্য উপজেলা পরিষদে টেস্ট রিলিফ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তার সময় ফাইমার সঙ্গে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলামের বাগবিতণ্ডা হয় এবং ফাইমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন মহিদুল। সভা শেষে প্রকল্প কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সামনে ফাইমাকে মহিদুল এলোপাতাড়ি মারধর এবং কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় মহিদুলের সঙ্গী পলাশসহ আরো চার-পাঁচজন ছিলেন। তাঁরা অস্ত্র বের করে ফাইমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, ঘটনার পর বিকেল ৫টা থেকে ফাইমা ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উপজেলা সদরে থানার গেটে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ইউএনও উম্মে কুলসুম সম্পা এসে তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এর আগে রাতে ফাইমা শিবগঞ্জ থানায় মহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

ফাইমা আক্তার বলেন, ‘মহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন আমাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেছে। এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ’

এ বিষয়ে ইউএনও উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, ‘আমার কক্ষের বাইরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা দেখছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার পর ভাইস চেয়ারম্যান থানা গেটে অবস্থান নিয়েছেন এমন সংবাদ শুনে রাতেই থানা গেটে গিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। ’

অভিযোগের বিষয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টেস্ট রিলিফ-কাবিখার প্রকল্প বিভাজন সভায় ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে চাঁদা হিসেবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা তা দিতে অস্বীকার করায় তিনি সবাইকে গালাগাল করেন। এতে করে চেয়ারম্যানদের সম্মানহানি হওয়ায় তাঁকে ধমক দেওয়া হয়েছে। মারপিট বা শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। ’

 



সাতদিনের সেরা